English Version

অপরিকল্পিতভাবে পাশাপাশি দু’টি সেতু নির্মাণে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয়

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

মাসুদ মোশাররফ, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের হলদার পাড়া থেকে ছোটমহারাজপুর পর্যন্ত মাত্র ১৫০ মিটার সংযোগ সড়কে পূর্বের একটি সেতু থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ৪০ ফুট দূরে সমতল ভূমি খুড়ে নতুন করে আরেকটি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেছে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয় করে অপরিকল্পিত এবং অযৌক্তিক এই সেতু নির্মাণ বন্ধের জন্য শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদনও করেছে এলাকাবাসী।

লিখিত অভিযোগ এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মাত্র ১৫০ মিটার এই কাঁচা রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে পানির নীচে ডুবে থাকে। শুকনো মৌসমেও খুব একটা ব্যবহার হয়না রাস্তাটি। ছোট্ট এই রাস্তার দুই পাশে বর্ষার পানি প্রবাহের জন্য রয়েছে এলজিইআরডি এর একটি শক্তপোক্ত সেতু। বন্যার পানি এ সেতু দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করে। অথচ এমন একটি সেতু রেখে এখানে আরও একটি নতুন সেতু নির্মাণ শুরু করেছে যা এলাকার কোনো উপকারেই আসবে না। অযথা সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা অপচয় হবে বলে মনে করছে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে সেতুর উত্তরাংশের জমির মালিক আজগর আলী জানান, পূর্বে সেতুটি আমার জমির দক্ষিণ সম্মুখে নির্মিত এবং এখন যে সেতু নির্মাণ হচ্ছে সেটাও একই জমির সাথে নির্মাণ হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, একই জমি সংলগ্ন দুইটি সেতু নির্মাণ হলে সেতুমুখে নিচু হয়ে যাবে। নীচু জায়গায় পানি আটকে থাকার ফলে ফসল ফলানো আর সম্ভব হবেনা।

এদিকে পাশের জমির আরেকজন কৃষক বলেন, আমি এই সেতুর সুপারিশকারি বর্তমান ১নং ওয়ার্ড মেম্বর ও পোরজনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেনকে অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ বন্ধের প্রসঙ্গে বললে তিনি বলেন, সরকারের অপচয় নিয়ে তোমার এতো মাথা ব্যাথা কেন? তুমি সরকারের কি হইছো? সেতু সম্মুখে তোমার জায়গা যতটুকু উচু আছে প্রয়োজনে আরও উচু করে সেতুর মুখ বন্ধ করে দাও তবুও নতুন সেতু নির্মাণ হবে।

অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ ও সরকারের অর্থ অপচয় সম্পর্কে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাশে যে সেতুটি আছে সেটা এলজিইডির সেতু। যেহুতু সরকারের দুটি আলাদা মন্ত্রনালয় সেখানে সেতু নির্মাণে সমস্যা নেই। আর আপনারাই (সাংবাদিকরা) শুধু দেশ আর সরকারের কথা ভাবেন আর কেউ মনে হয় ভাবে না।

এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রফেসর আজাদ রহমান বলেন, একই জায়গায় দুটি সেতু হতে পারে না। অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ হলে সেটা অবশ্যই প্রতিহত করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোঃ শামসুজ্জোহা বলেন, আমার নিকট অপরিকল্পিত সেতু নির্মাণ বন্ধ করার জন্য স্থানীয় কিছু সংখ্যক ব্যক্তি আবেদন করেছেন। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০২ জুন, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 + 18 =