English Version

আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে সাতক্ষীরায় চলছে শারদীয়া দুর্গাপূজা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

শেখ আমিনুর হোসেন, সাতক্ষীরা: হিন্দু ধর্মাাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার শুক্রবার মহাষষ্ঠী। এবার জেলায় ৫৭৮ টি মন্ডপে পূজা হচ্ছে। এজন্য প্রতিমা শিল্পীরা তাদের সকল কাজ শেষ করে ছেন। আগামী মঙ্গলবার বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। বৃহস্পতিবার রাতে মা দুর্গোদেবীর বাঁধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে ঢাক-ঢোল, কাঁশি, বাঁশি বাজিয়ে মন্ডপ গুলিতে পূজা শুরু হয়। শাস্ত্রীয় পন্ডিতরা বলেছেন, বৃহস্পতিবার মহাপঞ্চমীর মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়েছে দূর্গোৎসব। এবার দেবী মায়ের আগমন ঘোটক (ঘোড়ায়) দেবী দুর্গার গমনেও ঘোটক (ঘোড়ায়)। যা মোটেও শুভকর নয় বলে দাবী শাস্ত্রজ্ঞদের।

পূজার প্রথম দিন থেকে মণ্ডপ মণ্ডপে ঢাক-ঢোল, কাঁশি, বাঁশি আর উলুধনতি মুখরতি হবে আকাশ-বাতাস। পূজা মণ্ডপ গুলো সাজানো হয়েছে নতুন নতুন সাজ। আলোক সজ্জায় সজ্জতি করা হয়েছে প্রতিটি মন্ডপে। এদিকে দুর্গোৎসবকে ঘিরে সাতক্ষীরার সবকটি উপজেলার জনপদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আনন্দের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দুর্গো উৎসব পালনে অনেকে নতুন জামা-কাপড়সহ গৃহস্থালির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের কেনা-কাটা শেষ করেছে। তবে গতবারের মতো এবারও দেবহাটার ইছামতী নদীতে দু্ই বাংলার মিলন মেলা বসছে।

সরেজমিনে শনিবার সকালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে পাটকেলঘাটার পারকুমিরা হরিসভা পূজা মন্ডপের পুরোহিত বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও প্রতিমা শিল্পিরা জানান, সেময় যেহেতু আর নেই তাই গত কয়েক দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম কাজ করছেন। তাছাড়া নিখুঁত মূর্তি তৈরিতে করণীয় সব রকম উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। পরিবারের অন্যরাও এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছেন। দুর্গাপূজা কে সামনে রেখে প্রতিমার মাটির কাজ শেষে রং তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলো জীবন্ত করে তুলেছেন তারা। বৃহষ্পতিবার দুপুরের মধ্যে তারা রঙ ও পোশাক পরিচ্ছদের কাজ শেষ করেছেন।

স্বাস্থ্যের খবর জানুন

সদরের কাটিয়া নারকেলতলা মোড় সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সভাপতি গৌর দত্ত বলেন, আমাদের পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ সৌন্দর্য বর্ধনের কাজও শেষ হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। বুধবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সাথে আইন-শৃংখলা ও প্রতিটি মন্ডপের নিরাপত্তা সহ পূজা উদযাপনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে জেলা মন্দির ও পূজা কমিটির সাথে। এ বছর সাতক্ষীরায় সর্বমোট ৯৩টি মন্দিরকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৩৫ টি মন্দিরকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছছ। তবে আইনশৃখলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে যে মনিটিরং সেল খোলা হয়েছে তারা আন্তরিকভাবে কাজ করলে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য তারা বদ্ধ পরিকর।

এবার সাতক্ষীরায় সাতটি উপজেলার মধ্যে সদর ১০৬ টি, (তার মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ টি) কলারোয়ায় ৪৩ টি, (ঝুঁকিপূর্ণ আছে ৫ টিতে) তালায় ১৮৬ টি, কালিগঞ্জ ৫১ টি (ঝুঁকিপূর্ণ ১২ টি) শ্যামনগর ৬৬ টি, (ঝুঁকিপূর্ণ ৩৭ টি তারমধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০ টি) আশাশুনিতে ১০৫ টি, (ঝুঁকিপূর্ণ ২৪ টি, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৪ টি) এবং দেবহাটায় ২১ টি, (ঝুঁকিপূর্ণ ৫ টী, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১ টি) পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রণব ঘোষ বাবলু জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও দর্শকদের মনে আকর্ষণের জন্য পূজা মণ্ডপগুলোকে ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। দর্শনার্থীদের দেখার জন্য পূজা মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই আইন শৃংখলা বাহিনী নিরাপত্তা বিধান সার্বক্ষণিক সচেষ্ট আছে। ২০ জন স্বেচ্ছাসেবককে তাদের পরিচিতির জন্য নির্দিষ্ট ব্যাজ প্রদান করা হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক পূজা মন্দির প্রাঙ্গণে তদারকি করবেন। যাতে কোনভাবে অপ্রীতিকর ঘটনা কেউ ঘটাতে না পারে। সাতক্ষীরার অতরিক্তি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ বলেন, পূজাকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়কি সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টাকারিদের যে কোনো মূল্যে প্রতহিত করা হবে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৫ অক্টোবর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

10 + five =