English Version

আনন্দে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন চৌগাছায় শিমুলের বাবা হরেন দাস

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আব্দুল আলীম, চৌগাছাঃ সবার ধারণা বাংলাদেশে প্রতি দপ্তরে ঘুষের বন্যা বইতে বইতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের আস্থা হারিয়েছিলো নিজেদের সন্তানের চাকুরী নিয়ে। তাইতো পুলিশ কনস্টেবল পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত চৌগাছা উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের হরেন দাসের ছেলে শিমুল কুমার এর পুলিশ ভেরিফিকেশনে গেলে তার পিতা হরেন দাস ছেলের বিনা টাকা ও বিনা তদবিরে চাকুরির হওয়ায় অানন্দে ডুকরে ডুকরে কেঁদে অনেক। কথায় বলেন। তিনি চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজিবকে জানান, আমি পেশায় নাপিত। আমি আজ দশবছর ধরে অসুস্থ। তাই একমাত্র ছেলেই ছিলো তার সম্বল। কখনোই ভাবিনি আমার ছেলের পুলশে চাকুরী হবে বিনা টাকায়। তিনি ওসিকে আরও জানান, আমার কোনোই টাকা লাগেনি স্যার। আমার ছেলেকে মাঠেই বলা হয়েছে কোনো টাকা লাগবে না। আমি যশোরের এসপি সাহেবকে পায়ে ধরে প্রনাম করি। বিনা টাকায় চাকুরী না হলে আমার কোনো উপায় ছিলো না। মেধা ও যোগ্যতায় তার ছেলের চাকুরী হওয়ায় আমি পুলিশ সুপার মহোদয় এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

চৌগাছা থানা অফিসিয়াল আইডিতে অফিসার ইনচার্জ রিফাত খান রাজিবের বক্তব্য থেকে জানা যায়, গত ২২ জুন, ২৬ জুন এবং ২৭ জুন যশোর জেলা পুলিশ কতৃক ১৯৩জন পুলিশ কনস্টেবল প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হয়। তন্মধ্যে চৌগাছা থেকে মোট ১৪ জন নিয়োগ পেয়েছে। নির্বাচিত দের পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে প্রার্থী এবং তাদের পরিবারের অানন্দ এবং অাবেগ দেখে অামরা অভিভূত। ১৪ জনের মধ্যে এক জনের পিতা পেশায় নাপিত, একজনের পিতা পেশায় রাজমিস্ত্রী, ৮জনেের পিতা পেশায় কৃষক। অন্য একজনের পিতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাদের প্রত্যেকের অভিভাবক বিনা টাকায় তাদের সন্তানদের চাকরি হওয়ায় অানন্দে অাত্মহারা। টাকা বা তদবির ছাড়া পুলিশের চাকরি হবে তা অনেকেই বিশ্বাস করতে চায়না।

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

তারা সকলেই যশোর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়কে প্রান ভরে দোয়া করেন। কোন প্রকার তদবির ছাড়া শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে এবারের নিয়োগ হওয়ায় চৌগাছার ১৪টি দরিদ্র পরিবারে অাজ অানন্দের বন্যা। তাদের সকলেই যশোর জেলার পুলিশ সুপার মহোদয় এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।কারন পুলিশ সুপার যশোর মহোদয় নিয়োগের শুরুতেই কথা দিয়েছিলেন যশোরে পুলিশ এর নিয়োগ হবে ১০০% মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। কোন প্রকার তদবির বা দুর্নীতি এই নিয়োগে স্পর্শ করতে পারবেনা। পুলিশ সুপার মহোদয় তার কথা রেখেছেন। বিনা পয়সায় চাকরি পাওয়া এই সদস্যরাই ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে যাক জনগনের অারও অাস্থা ও মার্যাদার অাসনে

আরও জানা গেছে, যশোরের ৮ উপজেলা থেকে শিমুল কুমারের মত অনেক কৃষক, মজুর, সেলুন কর্মচারী, রিক্সাচালকের ছেলে ও মেয়েরা পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরী পেয়েছেন। আর এর সবই সম্ভব হয়েছে যশোর জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বিপিএম, পিপিএম বার এর নিপেক্ষতা ও সচ্ছতার কারনে। এ জন্য যশোরে জেলা পুলিশ সুপারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে জেলার সব থানা গুলোতে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যশোর পুলিশ লাইনে গত ২২ জুন হতে ২৬ জুন পর্যন্ত ট্রেইন রিক্রুট কনস্টেবল পদে সাধারন কোটা পুরুষ ১৬০৬ জন নারী ১৯৩ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুরুষ ৯৯, নারী ১৫ জন, পুলিশ পোষ্য কোটায় ২৫ জন, আনসার ও ভিডিপি ৫ জন, এতিম কোটা ৭ জন সর্ব মোট ১ হাজার ৯ শত ৫০ জন শারীরিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয় ১ হাজার ৬৯জন। পরবর্তীতে গত ২৭ জুন লিখিত ও মোখিক পরীক্ষায় ৩ শত ৫৪ জন উত্তর্ণ হয়। এরমধ্যে সাধারণ কোটায় ১ শত ৩৬ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ২১ জন পুরুষ, ২জন নারী ও পুলিশ পোষ্য কোটায় ৪জন পুরুষ তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে বিনা টাকায় প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হয়। বিডিটুডেস/আরএ/০৮ জুলাই, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

6 + 1 =