English Version

আলাপচারিতায় বশেমুরবিপ্রবি’র ঝরে পড়া নক্ষত্র!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: ফয়সাল হাবিব সানি। জন্ম ১৯৯৭ সালের ২৩ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলায়। বর্তমান সময়ে যাকে তরুণ কবিদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় প্রথম কাতারেই রাখা হয়। লেখালেখির পথচলা শুরু হয়েছিলো ২০১১ সালে। ২০১৬ সালে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাংলা বিভাগ) ভর্তি হবার প্রারম্ভে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “দাবানল” সাহিত্য প্রকাশনী (নব সাহিত্য প্রকাশনী) থেকে অমর একুশেে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়। সেই থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য অঙ্গনে

প্রথম কোনো নতুন মাত্রার সূচনা করেছিলেন সম্ভাবনাময় এ তরুণ। পরবর্তীতে ১ বছরের ব্যবধানে ২০১৮ সালে একই প্রকাশনী থেকে তার মোট চারটি কবিতাগ্রন্থ অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়। সেই গ্রন্থমেলাতেই প্রকাশিত হয় তার প্রথম প্রকাশিত “দাবানল” কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণও। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সবকিছু থেকেই একসময় দূরে সরে যান এ তরুণ কবি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন তার পর থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সংগঠন বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১ বছরেরও অধিক সময়। কিন্তু সেই পদটাও হারিয়ে বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি থেকে হারিয়ে যান তিনি। সেই সাথে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরশিনগর (কুষ্টিয়া) ছাত্র কল্যাণ সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি হিসেবেও।

কিন্তু কোনো সংগঠনেই সভাপতি হিসেবে আত্নপ্রকাশ করতে পারেননি তিনি। পরবর্তীতে যোগ দেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিওয়াইবি’র (CYB) সহ-সভাপতি পদে। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে সেই পদটাও হারাতে হয় তাকে। নিজে কুষ্টিয়া ক্যান্সার সোসাইটি, বশেমুরবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক হিসেবে কুষ্টিয়া ক্যান্সার সোসাইটিতে যোগদান করলেও অমনোযোগিতা আর কাজে অবহেলার দরুণ সেইটাতেও বেশিদূর এগিয়ে যেতে পারেননি সানি৷

তারপর নিজের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন বশেমুরবিপ্রবি লেখক-পাঠক সমিতি। তাতেও অগ্রসর হতে পরবর্তীতে দেখা যায়নি তাকে। এরপর বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হলেও তাতে অনিয়মিত ও উদাসীনতার কারণে এখানেও কোনো পদ ভাগ্যে জুটেনি তার। তবে একসময় নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত FHS Foundation (Foysal Habib Sany Foundation) গড়ার স্বপ্ন দেখলেও বাস্তবে তা দুরাশায় থেকে গেছে।

তার মতে, এ সংগঠন অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করার তাগিদে তিনি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তার ইচ্ছে ছিলো তার প্রকশিত বই থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ৩০ শতাংশের মধ্যে তিনি ২০ শতাংশ মানুষের কল্যাণে এবং ১০ শতাংশ নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করবেন। কিন্তু তাও আশায় মরিচীকার মতোই থেকো গেছে এ কবি’র! তবে বর্তমানে তিনি বশেমুরবিপ্রবি শিল্প ও সাহিত্য সংঘের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন আন্দোলন শুরু হলে তাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তিনি। তবে কালের পরিক্রমায় উদ্ভূত পরবর্তী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিলো নীরব দর্শকের মতোই। সম্ভাবনাময় ও স্বপ্নবাজ এ তরুণ কবি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আলোর বিচ্ছুরণ দেখিয়ে ছিলেন, সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে যেন তার সবই।

তবে তিনি স্বপ্ন দেখেন, জীবন জয়ের জন্য সদা উদগ্রীব থাকে। এখানে হেরে যায় তারাই যারা আর নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারে না। তবে তিনি স্বপ্ন দেখেন আবারও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি সামনের পথে নতুন উদ্যমে অগ্রসর হবেন। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৯ মার্চ, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

11 − one =