English Version

করোনাভাইরাস সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশের বিশেষ প্রেক্ষাপট

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

করোনাভাইরাস সংক্রামণ নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশের বিশেষ প্রেক্ষাপট

জান্নাত, স্টাফ রিপোর্টার (চট্টগ্রাম): করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, সর্বত্র নানা ধরণের সচেতনতামূলক প্রচারণা চলছে। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আফতাব হোসেন দুটো গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতামূলক পরামর্শ প্রদান করেছেন।

“করোনাভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে সোশাল মিডিয়া ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে গত কয়েক দিন থেকেই ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা লক্ষ করছি; যার অনেকগুলোই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রেস্ক্রাইবড এবং প্রায় সবগুলোই পুরো বিশ্বের জন্য কমন কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। সংক্রামন এড়ানোর ক্ষেত্রে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর বলে আমি মনে করি। কিন্তু উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম এগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটেও কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরী, যা না করলে শত চেষ্টা করেও সংক্রামণের বিস্তৃতি ঠেকানো সম্ভব নয়- তা কোথাও উল্লেখ হচ্ছেনা!! এর মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা এখানে আমি উল্লেখ করছিঃ

১। শহরের এবং মফস্বলের প্রায় সব গৃহস্থালিতেই দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার জন্য আমরা এক বা একাধিক খণ্ডকালীন সাহায্যকারীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি, যাদের সচরাচর কাজের বুয়া বলা হয়। এরা রোজ এসে আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো আংশিক বা সম্পূর্ণ করে দেয়। সমস্যা হচ্ছে আপনি নিজে যত রকমের সতর্কতামূলক ব্যাবস্থা নেন না-ই বা কেন এদের দৈনন্দিন চলাচলের উপর আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেননা। এদের অনেকেই একাধিক বাসায় কাজ করেন এবং বস্তিতে বসবাস করেন-

যেখনে অপনার নেওয়া সংক্রামণ বিরোধী ব্যবস্থা না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। ফলে এদের মাধ্যমে যেকোনো সময়ে আপনার বাসায় আগমন ঘটতে পারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। তাই কিছু দিনের জন্য এদের ব্যাপারে চিন্তা করুন এবং নিজের কাজটা নিজে করতে শিখুন, যা ইউরোপীয় সাহেবরা নিজেই করে থাকেন! উল্লেখ্য আমি আমার বাসার সাহায্যকারীকে পুরো মাসের এডভান্স দিয়ে আগামী ১৫ দিনের জন্য ছুটি দিয়ে দিয়েছি।

২। সেলুন- বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রামণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠতে পারে এটি। কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি যদি কোনো সেলুনে চুল কটাতে বা সেভ করাতে যায় তাহলে নিশ্চিতভাবে তার থেকে ওই সেলুনের কর্মচারীদের শরীরে ভাইরাসটি সংক্রামিত হবে এবং পরবর্তীতে যত লোক ওই সেলুনে যাবে সবারই এই ভাইরাস সংক্রমনের সম্ভাবনা থাকবে। কারণ চুল কাটা ও সেভ করার সময় সেলুন কর্মীকে কাস্টমারের মুখের খুব কাছে মুখ নিয়ে কাজ করতে হয়। তাছাড়া সব সেলুনই খুব কনফাইন্ড জায়গা হয়ে থাকে, বিশেষ করে এসি সেলুন গুলো!!

আর ইউরোপ ফেরত অনেক প্রবাসীই বাড়িতে এসে প্রথম যান সেলুন- চুল বা দাড়ি কাটাতে। আর সেলুন কর্মীও বকশিস লাভের আসায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় দিয়ে এদের সেবা দান করে!! তাছাড়া ইউরোপে চুল কাটানো ব্যয়বহুল বলে অনেকেরই দেশে এসে এই কাজটি করতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন!! তাছাড়া স্বযত্নে বডি ম্যাসাজ তো আছেই!! তাই এই ক্রান্তিকালে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজগুলো নিজে করা এবং সেলুন এড়িয়ে চলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।”

আফতাব হোসেন, সহকারী অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ (প্যারাসাইটলজী), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৮ মার্চ, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × two =