English Version

করোনা টেস্ট কিট আবিষ্কার ও বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জান্নাত, স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম: ইদানীং বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রর করোনাভাইরাস সনাক্তকরণ (?!) কিট তৈরি নিয়ে মেইনস্ট্রিম ও সোস্যাল মিডিয়া এবং জনগণের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্য ও কনফিউশান তৈরি হয়েছে। তাই এ বিষয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

বিশ্বব্যাপী করোনা সনাক্তকরণে এখন পর্যন্ত যে দুটি পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে তার একটি হচ্ছে সোয়াপ টেস্ট (এন্টিজেন টেস্ট) আর অন্যটি হচ্ছে এন্টিবডি টেস্ট। এর মধ্যে এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে সরাসরি ভাইরাস সনাক্ত করা হয় (তাই এটি সব দেশেই ব্যবহৃত হচ্ছে), আর এন্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে কোনো রুগীর শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলে যে এন্টিবডি তৈরি হয় তা সনাক্ত করা হয় (পরোক্ষ টেষ্ট)।

এই পদ্ধতিতে সন্দেহজনক ব্যক্তির রক্ত নিয়ে তাতে এন্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয় করা হয়। উল্লেখ্য, শরীরে যেকোনো জীবাণু প্রবেশ করলে নিজ থেকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠে যার ফলশ্রুতিতে প্লাজমা সেল নামক বিশেষ শ্বেত রক্ত কনিকা থেকে নির্দিষ্ট এন্টিবডি তৈরি হয় যা কেবলমাত্র ঐ নির্দিষ্ট জীবাণুকেই ধ্বংস করে। যাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্ত তারা দ্রুত এন্টিবডি তৈরি করতে পারে এবং রোগ মুক্তি পায়। তার মানে এন্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে কারো শরীরে এই মূহুর্তে ভাইরাস আছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না বরং তার শরীরে কখনো ভাইরাসটি প্রবেশ করেছিলো কিনা তাই বলা যাবে।

বিশ্বব্যাপী এন্টিবডি টেস্টকে রুগী সনাক্তকরণের চেয়েও রোগের বিস্তার পরীক্ষার জন্যই বেশি উপযোগী ও ব্যবহার করার চিন্তা ভাবনা চলছে। অর্থাৎ এন্টিবডি টেস্ট রুগী সনাক্তকরণে নয় বরং এটা ব্যবহৃত হয় কেউ কখনো ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছে কিনা তা দেখার জন্য (রোগের বিস্তার দেখার জন্য)। বিশেষ করে কোনো একটা জনগোষ্ঠির মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা হয়। যেমন, নিউইয়র্কে আগামী সপ্তাহ থেকে এটি করা হবে, কত % লোক ভাইরাসটির সংস্পর্শে এসেছে (?) তা দেখার জন্য। এর ফলে তারা লকডাউন খোলার জন্য আদৌও প্রস্তুত কি না তা যাচাই করে দেখবে।

ভারত একটু অন্য স্ট্রেটেজি নিয়ে এটি করতে গিয়ে আবার থমকে গেছে, গতকাল। তাদের উদ্যেশ্য ছিলো — যেহেতু এটি দ্রুত ফলাফল দেয় — এটির মাধ্যমে কারা এখন পর্যন্ত ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছে তাদের দ্রুত সনাক্ত করে ঐ ব্যক্তিদের আলাদা করে তাদের পুনরায় এন্টিজেন টেস্ট করে রুগী সনাক্ত করা। কিন্তু চায়না থেকে যে কিট তারা এনেছে প্রথম দুই দিনেই কোনো কোনো রাজ্যে প্রায় ৯০% ফলস রেজাল্ট আসাতে গতকাল তারা কেন্দ্রীয়ভাবে এই টেস্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, কোনো রোগ সনাক্তকরণে যে টেস্টটিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় তার যথার্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, না হলে রোগের বিস্তার ঠেকানোর পরিবর্তে তা বাড়িয়ে দেয়। তাই NHS (UK) ও CDC (USA) এখনো এই পদ্ধতিটি যাচাই বাছাই করছে এবং শীঘ্রই অনুমোদন দেবে তবে তা রুগী সনাক্তকরণে নয়, রোগের বিস্তার নির্ণয়ে। যারা এই কিট বানাচ্ছেন তারা নিশ্চয়ই এগুলো জানেন, কিন্তু তারপরও কেন বার বার বলছেন রুগী সনাক্তকরণে এটি ব্যবহৃত হবে তা আমার বোধগম্য নয়।

পরিশেষে এটা বলতে চাই, করোনার বিস্তার সনাক্তকরণে রেপিড এন্টিবডি টেস্ট অবশ্যই একটি কার্যকরী পদ্ধতি। তবে এটি প্রয়োগের আগে অবশ্যই এর যথার্থতা সঠিক ও নির্ভূলভাবে নির্ণয় করা আবশ্যক। যারা এটি উদ্ভাবন করছেন তারা অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য তবে অবশ্যই প্রিমেচিউর কোনো কিছু যাতে কোনোভাবেই করা না হয় তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

আফতাব হোসেন
সহকারী অধ্যাপক
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ (পরজীবিবিদ্যা)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

বিডিটুডেস/এএনবি/ ২২ এপ্রিল, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

thirteen − 5 =