English Version

কৃষকের কান্না শুনুন, তাদের মুখে হাসি ফোটান

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

মো: মেহেদী হাসান, বরগুনা: এনজিও’র লোন নিয়ে, বীজ সার কিনে, হাড়ভাঙা খাটুনির পর ফসল ফলিয়ে, কৃষক যখন ধানের দাম পায় না, তখন হতাশা ভর করে ক্ষুদ্র জনজীবনে। হতাশা ভর করে সামগ্রিক বাংলাদেশের কৃষি শিল্পতে। ৭০০ টাকা দিনমজুরের খরচ, ১ শতাংশ জমিতে চাষ দিতে পাওয়ার টিলার খরচ ৭০ টাকা, আর সারের দাম তো আছেই। মোটের উপর এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ যেখানে ৮০০টাকার কাছাকাছি, বাজারে তখন ধানের দাম খুব বেশি হলে ৪০০টাকা।

বাশবুনিয়া ধুপতি নয়াকাটা গ্রাম ঘুরে দেখা গেল একই দৃশ্য। কৃষকের মলীন মুখ। ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়াতেই বেদনা ভারাক্রান্ত কন্ঠে বলল, ধানের দাম নিয়ে হতাশার গল্প। কারো কারো দৃপ্ত শপথ, “লাভের আশায় ক্ষতি হয় যে পেশায়, আগামীতে আর ধান চাষ করব না, তার চেয়ে বালুর বোটে গতর খাটুনি ভাল”। ক্ষোভ মিশ্রিত কন্ঠে এক কৃষক বলল, দিনমজুর খরচ দিয়ে পোষাবে না, তাই স্বামী স্ত্রী সন্তান সবাই মিলে ধান কাটতে নামছে। দূরে দেখা গেল আট বছরের ছোট্ট নাইম, ধানের বড় বোঝা নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে বাড়ির দিকে। বোঝার ভাড়ে নুয়ে পড়ছে তার পিঠ। এ যেন সিন্ডিকেটের চাপে নুয়ে পড়া বাংলাদেশের শিল্প।

কৃষক দাম না পেলেও মধ্যসত্বভোগিরা বড় অংকের লাভ করছে ধান বিক্রি করে, এরকম অভিযোগ আছে বরগুনাসহ সবখানে। এই কৃষিশিল্প হত্যাকারী লুটেরাদের অপচেষ্টা বন্ধ করতে না পারলে, চামড়া শিল্প ও পাট শিল্পের মত দুমড়ে মুচরে যাবে ধানের বাজার। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি, কৃষকের মুখে হাসি ফিরিয়ে দিন। তাদের কষ্টটা বুঝতে চেষ্টা করুন। জমি চাষ করে, ফসল ফলিয়ে, সেই ফসল ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে তারা যেন হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পারে, এটুকু ব্যবস্থা করতে সব সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিন। হেসে উঠুক বাংলাদেশের কৃষক। হেসে উঠুক সারা বাংলাদেশ। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

16 + 12 =