English Version

খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচনে শিক্ষায় খলিল, সম্পদে নির্মলেন্দু ও রফিক এগিয়ে

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

চাইথোয়াই মারমা, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ইতোমধ্যেই পৌর নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ২০২১ খ্রি: ১৬-ই জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থীই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।

এবারের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী চার মেয়র প্রার্থীর মধ্যে তিনজনই অবস্থানগতভাবে বেশ শক্তিশালী। এই তিন প্রার্থী হলেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল ও স্বতন্ত্র পরিচয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান পৌর মেয়র মো: রফিকুল আলম। এই তিনজন ছাড়া জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ এখন অব্দি মাঠে থাকলেও আলোচনায় নেই তিনি।

খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী চার প্রার্থীর হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল শিক্ষাগত যোগ্যতায় সর্বোচ্চ। আর অর্থসম্পদ ও আয়ের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো: রফিকুল আলম।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইব্রাহিম খলিলের হলফনামায় সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে ‘এল.এল.বি’ আর আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী নিজেকে ‘এইচ.এস.সি’ পাস বলে উল্লেখ করেছেন। অপর দুই প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো: রফিকুল আলম এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্ল্যেখ করেছেন ‘স্বাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন’।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইব্রাহিম খলিলের নামে মামলা চলমান রয়েছে চারটি। এছাড়া পূর্ববর্তী ১৪টি মামলার মধ্যে ৬টি মামলায় খালাস, ৫টি মামলায় অব্যাহতি এবং ৩টি মামলায় ডিস-চার্জ পেয়েছেন তিনি। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো: রফিকুল আলমের নামে দুটি মামলা চলমান এবং পূর্ববর্তী ৩৬টি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। তবে অপর দুই প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী এবং ফিরোজ আহমেদ এর নামে কোন মামলা নেই।

এছাড়া বিএনপি প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল ব্যবসা খাতে তার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করেছেন ২ লাখ ৪০হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পদের হিসাবে দেখা গেছে নগদ ৮০হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ২লাখ ১০হাজার টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে খলিলের বিনিয়োগ রয়েছে ২লাখ ১হাজার ১’শ টাকা।

স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যধাতু ১০ ভরি, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং আসবাবপত্র ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। মেডিক্যাল সেন্টার (প্রা:) লি: এর শেয়ার বাবদ মূলধন ২ লাখ টাকা। এছাড়াও খলিলের স্থাবর সম্পদ হিসেবে অকৃষি জমি ০.১৭ একর যার অর্জনকালীন মূল্য ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়।

আওয়ামীলীগ প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী ব্যবসা খাতে তার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করেছেন ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে বাৎসরিক সম্মানীভাতা ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। নির্মলেন্দু চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের হিসাবে দেখা গেছে নিজের নামে নগদ ১ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে নগদ ১ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ নিজ নামে ৫ লাখ টাকা ও স্ত্রীর নামে ১ লাখ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে নির্মলেন্দু চৌধুরীর স্ত্রীর নামে বিনিয়োগ রয়েছে ২০ লাখ টাকা।

এছাড়াও তার ১৫ লাখ টাকার ১টি পুরোনো পাজেরো জীপ, ১ লাখ টাকার স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু, ১ লাখ টাকার ব্যবহার্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং আসবাবপত্রসহ অন্যান্য খাতে ৬ লাখ ১২ হাজার ৫’শ টাকার সম্পদ রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। আর স্থাবর সম্পদ হিসেবে যৌথ মালিকানায় ২.৪০ একর কৃষিজমি, নিজ নামে ০.২৪ একর অকৃষি জমি, ১টি দোকান প্লট ও নিজ নামে নির্মাণাধীন একটি বাড়ি রয়েছে।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ এর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজের নামে নগদ দেড় লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত দেড় হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ১০ তোলা স্বর্ণ, ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং আসবাবপত্র। এছাড়া তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে নিজ নামে ৫ একর মিশ্র ফলজ বাগান এবং পিতার নামে ১টি সেমি পাঁকা বাড়ি। আর ব্যবসা হতে তার বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো: রফিকুল আলমের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজ নামে নগদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ১ লাখ ১৩ হাজার ২’শ ৭৯ টাকা, স্ত্রীর নামে ৪ লাখ টাকার এফডিআর ও মেয়ের নামে ১ লাখ টাকার এফডিআর। রফিকুলের স্ত্রীর নামে রয়েছে ২০ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু। ব্যবহার্য ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর মধ্যে ২টি টেলিভিশন, ২টি রেফ্রিজারেটর, ২টি ল্যাপটপ, ১টি কম্পিউটার ও ১টি এসি।

এছাড়া তার আসবাবপত্রের মধ্যে রয়েছে ৩টি বক্স খাট, ২সেট সোফা, ওয়ারড্রপ ২টি, আলমিরা ২টি, ২টি ড্রেসিং টেবিল ও ১টি ডাইনিং টেবিল। আর স্থাবর সম্পদ হিসেবে রফিকুল আলমের যৌথ মালিকানায় ৭.২০ একর কৃষি জমি রয়েছে। নিজ নামে রয়েছে ১০ একর অকৃষি জমি, আবাসিক ও বাণিজ্যিক জমি রয়েছে ৩৫ শতক।

বিগত ২০১৫ সালের নির্বাচনী হলফনামায় কৃষি খাত, দোকান ভাড়া ও ব্যবসা হতে রফিকুল আলমের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছিলো ১ কোটি ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, তবে এবারের হলফনামায় তার কিছুই উল্লেখ নেই। এবার বাৎসরিক আয় হিসেবে তিনি কেবল উল্লেখ করেছেন ব্যবসা খাতে ৭ লাখ ৯৩ হাজার ১’শ ৬৭ টাকা এবং খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র হিসেবে বাৎসরিক সম্মানীভাতা ২লাখ ৪০হাজার টাকা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য ও বর্তমান মেয়র মো: রফিকুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল ও জেলা জাতীয় পার্টির নেতা ফিরোজ আহমেদ মনোনয়ন দাখিল করেছেন। এছাড়া সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৪৪ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে ২০২১ খ্রি: বছরের ১৬ই জানুয়ারী খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল গত রোববার (২০শে ডিসেম্বর)। এদিন মেয়র পদে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শো-ডাউন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ সময় জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয় জেলা নির্বাচন অফিস থেকে শুরু করে শাপলা চত্বর পর্যন্ত প্রধান সড়ক ব্যবহারকারীদের। তবে এ বিষয়ে প্রশাসন কিংবা নির্বাচিত সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর পৌর নির্বাচনে আচরণ বিধির ১১ এর ১ এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল, মিটিং ও শো-ডাউন করা যাবে না উল্লেখ রয়েছে। তবে খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যেসব মেয়র প্রার্থীরা মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন তাদের সবাই দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে শো-ডাউন, মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।

গত রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় মেয়র পদে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নারায়ণখাইয়াস্থ জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আসেন। এ সময় মোটর সাইকেল, মাইক্রোবাস দিয়ে শো-ডাউন করতে দেখা যায়।

তার কিছু পরে দুপুর ১২টায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন। এ সময় আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের শো-ডাউনে নারিকেল বাগানস্থ জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় থেকে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় পর্যন্ত প্রধান সড়কে দীর্ঘ যানজটে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে ফেরার সময়ও শো-ডাউন করতে করতে শাপলা চত্বরের দিকে আসতে দেখা যায় আওয়ামীলীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের।

দুপুর আড়াইটার দিকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। পৌরসভা কার্যালয় থেকে সমর্থকদের নিয়ে পায়ে হেঁটে শো-ডাউন করে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান রফিকুল আলম ও তাঁর অনুসারীরা। বিকেল ৫ টার কিছু আগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খাগড়াছড়ির সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে কমিশন ও প্রশাসনের যেমন ভূমিকা রয়েছে তেমনি ভাবে প্রার্থীদেরও দায়িত্ব রয়েছে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় রাখা। আচরণবিধির বিষয়ে প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আরও নজরদারি রাখতে হবে।

খাগড়াছড়ি পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রাজু আহমেদ জানান, উৎসব মুখর পরিবেশে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গত ২২শে ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ও ২৯শে ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর বৈধ প্রার্থীদের তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে চুড়ান্ত প্রস্তুুতির কথাও জানান তিনি।

রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ আরো জানান, মনোনয়নপত্র দাখিল করতে এসে প্রার্থীরা আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন সে বিষয়ে শুনেছি। কিন্তু মনোনয়ন পত্র দাখিলের সময় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ৫ জনের অধিক কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীসহ ৪ জন মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র ইতিমধ্যে দাখিল করেছেন।

গত রোববার দ্বিতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনের মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৪ মেয়র প্রার্থীসহ সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৪ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন বলে নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রাজু আহমেদ। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

nineteen − 4 =