English Version

খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতা নয়, মানসিক প্রশান্তিও দেয়: লায়ন মোস্তুফা কামাল

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

মেহরাবুল ইসলাম সৌদিপ: মুজিব বর্ষ বিজয় দিবস খো খো টুর্নামেন্ট-২০২০ ফাইনালের পুরুষ্কার বিতরনী ও চ্যাম্পিয়ন এ্যাথলেটিকদের সংবর্ধনার আয়োজন করেন যশোর জেলা ক্রিয়া সংস্থা। উক্ত আনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল যশোর জেলার জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ ১ এর দ্বিতীয় ভাইস গভর্নর লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মোস্তুফা কামাল, যশোর ক্রিয়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবিরসহ জেলার বিশিষ্ট ক্রিড়া ব্যক্তিত্ব।

উক্ত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনে দেশের বিভিন্ন জেলায় কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। কিন্তু এই জেলায় এসে খেলাধুলার প্রতি সবার আন্তরিকতা ও আগ্রহ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। খেলাধুলা মানুষকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখে এই ধারণা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইঞ্জিনিয়ার মোস্তুফা কামালকে এবং খেলাধুলার প্রতি জেলার বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ যেন পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখে সেই আহবান জানান।

লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মোস্তুফা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, এই টুর্নামেন্টে খেলতে তোমাদের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে আসতে হয়েছে। খেলতে আসা একঝাঁক তরুণ তরুণীদের উপদেশ দিয়ে বলেন, সাহসের সঙ্গে লড়ে যাও। খেলাধূলা আমাদের শারীরিকভাবে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও দেয়।

এই করোনাকালীন সময়ে আমরা প্রত্যেকেই অনুধাবন করতে পেরেছি মানসিক প্রশান্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কর্মবিহীন জীবনে নানা ধরনের নেতিবাচক চিন্তা আমাদের মাথায় উদয় হয়, যা আমাদের সব সময় উদ্ধিগ্ন রাখে এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ করে তুলে। কিন্তু খেলাধুলায় মনোযোগ থাকলে সবসময় আমরা সতেজ থাকতে পারি।

খেলাধুলা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। স্কুলজীবন থেকেই শিখেছি, কোনো প্রতিযোগিতায় নামার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, কীভাবে পরিকল্পনা করতে হয় আর কীভাবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে হয়।

বিপক্ষ দল এবং নিজের দলের খেলোয়াড়দের সম্মান করা খুব জরুরি। আমি জানি সবাই এখানে জিততে এসেছে। সবাই জয়ী হবে না। কিন্তু তুমি নিশ্চয়ই সবার হৃদয় জিতে নিতে পারো। হৃদয় জেতার সঙ্গে খেলায় হারজিতের সম্পর্ক নেই।

রানারআপ দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পরাজয় আমাকে শিখিয়েছে, কীভাবে আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে হয়, সাহসের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। তাই তোমাদের জন্য আমার বার্তা—প্রতিযোগিতার মধ্যে থাকো, উদ্যমের সঙ্গে লড়ে যাও। আমার বিশ্বাস অনেক বাঁধা পেরিয়েই তোমরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছ। উদ্যম ধরে রেখে স্বপ্নের পেছনে ছুটতে থাকো।

আমরা অনেক সময় ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত হয়ে যাই। পেছনে তাকিয়ে ভাবি, কিছুই তো পেলাম না। ভুলে যেয়ো না, সাফল্য কিন্তু পেছনে নয়, সামনে থাকে। তাই সামনের দিকে তাকিয়ে উদ্যমের সঙ্গে পরিশ্রম করে যাও। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার একটা কারণ খুঁজে নাও। মাঠে নামতে হবে, খেলতে হবে।

অনেক ছেলেমেয়েকে দেখি আইপড, ল্যাপটপে ভিডিও গেমস নিয়ে মেতে থাকে। কিন্তু ঘরে বসে স্রেফ আঙুলের ব্যায়াম করলে তো হবে না। এই শক্তিটা মাঠে ব্যয় করা উচিত। কারণ খেলাধুলা শুধু সুস্থতাই দেয় না, সুখও দেয়। আমরা পুরো জাতি খেলোয়াড় হতে পারব না। কিন্তু একটা সুখী জাতি তো আমরা হতেই পারি। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

thirteen − 1 =