English Version

চন্দ্রাভিযানের যত কথা…..

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: চন্দ্রাভিযান অত্যন্ত জটিল একটা বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি। সাফল্য আসে একাধিক ব্যর্থতার পরেই। গত ছ’‌দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চাঁদে যতগুলি অভিযান চালিয়েছে, তার মধ্যে ৪০ শতাংশই ব্যর্থ। চাঁদে অভিযানের মোট সংখ্যা ১০৯। এর মধ্যে সফল অভিযান ৬১। ব্যর্থ ৪৮টি। শনিবার মনে করিয়ে দিয়েছে নাসা। শুক্রবার রাতে চাঁদের মাটিতে অবতরণের কয়েক সেকেন্ড আগে পৃথিবীতে ইসরোর কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে ল্যান্ডার বিক্রমের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অভিযানে প্রত্যাশিত ফল পাননি ইসরোর বিজ্ঞানীরা। নাসা জানিয়েছে, গত বছর এপ্রিলেই চাঁদের মাটিতে আছড়ে পড়ে ধ্বংস হয়ে যায় ইজরায়েলের চন্দ্রযান বেরেশিট।

চন্দ্রাভিযানের লক্ষ্য হতে পারে তিনরকম। চাঁদের কক্ষপথে অরবিটার পাঠানো, চাঁদের মাটিতে ল্যান্ডার নামানো কিংবা চাঁদের খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে ছবি তোলা। চাঁদে প্রথম অভিযানের পরিকল্পনা ছিল আমেরিকার। ১৯৫৮ সালের ১৭ আগস্ট। তবে সেবার পাইওনিয়ার শূন্য মহাকাশযানের উৎক্ষেপণই সফল হয়নি। প্রথম সফল চন্দ্রাভিযান ৪ জানুয়ারি, ১৯৫৯। কৃতিত্ব সোভিয়েত রাশিয়ার। সেবার চাঁদের পাশ দিয়ে সফলভাবে উড়ে যায় লুনা ১। এর আগে পাঁচ বার সোভিয়েত মিশন ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৫৮–‌র আগস্ট থেকে ১৯৫৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত, আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়া চাঁদে মোট ১৪টি অভিযান চালিয়েছিল।

সাফল্য এসেছিল মাত্র তিন বার এবং সেই সাফল্য পেয়েছিল সোভিয়েত রাশিয়া। ১৯৬৪ সালে আমেরিকার পাঠানো মহাকাশযান রেঞ্জার সেভেনই প্রথম খুব কাছ থেকে চাঁদের ছবি তুলতে সক্ষম হয়। চাঁদের মাটিতে প্রথম মহাকাশযান নামিয়েছিল সোভিয়েত রাশিয়া। ১৯৬৬ সালের জানুয়ারি। লুনা ৬–‌ই প্রথম চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি পাঠিয়েছিল পৃথিবীতে। এর ঠিক পাঁচ মাস পর, মে মাসে, সার্ভেয়র ১–‌কে সফলভাবে চাঁদের মাটিতে নামায় আমেরিকা। চাঁদের মাটিতে মানুষের প্রথম পা পড়ে আমেরিকার অ্যাপোলো ১১ মিশনে। ৩ নভোচারী দলের সেই অভিযানের নেতা ছিল নিল আর্মস্ট্রং।

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

১৯৫৮ থেকে ১৯৭৯— এই ২১ বছরে শুধুমাত্র আমেরিকা ও সোভিয়েত রাশিয়াই ৯০ বার চাঁদে মহাকাশযান পাঠায়। ১৯৮০ থেকে ৮৯, এই দশকে চন্দ্রাভিযানে ভাটা পড়ে। এর পর একে একে চন্দ্রাভিযানে অংশ নেয় জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত ও ইজরায়েল। ১৯৯০ সালে জাপান চাঁদে পাঠায় অরবিটার হিতেন। ২০০৭ সালের সেপ্টম্বরে তারা পাঠায় তাদের দ্বিতীয় মুন মিশন। ২০০০ থেকে ২০০৯ এর মধ্যে চন্দ্রাভিযান হয় ৬ বার— ইউরোপের স্মার্ট ১, জাপানোর সেলেনে, চীনের চাঙ্গে ১, ভারতের চন্দ্রযান ১ এবং আমেরিকার ২টি মিশন। আবার ২০০৯ থেকে ২০১৯, এই দশকে ১০ বার চন্দ্রাভিযান হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ভারতের, ৩টি আমেরিকার ও পরে ভারত ও ইজরায়েলের ১টি করে। ১৯৯০ সাল থেকে ধরলে, এ পর্যন্ত আমেরিকা, জাপান, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও ইজরায়েলের চন্দ্রাভিযানের সংখ্যা ১৯। বিডিটুডেস/আরএ/০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

8 + 12 =