English Version

চশমা আবিষ্কারে অজানা তথ্য ও ইতিহাস

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: চশমা মানুষের চোখের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত যেটি চোখের সংবেদনশীল অংশকে রক্ষা করে যেকোনো ধরনের অনিষ্ট থেকে। সাধারণত কাচ দিয়ে তৈরি করা হয় এবং সেটা নাকের উপর এবং দুই কানের সাথে লাগানো থাকে। যুগের আপডেট অনুযায়ী দিন দিন নতুন কিছুর চমক দেখি বিঞ্জান দুনিয়ায়।

চোখ নাকি মনের কথা বলে। এই চোখ নিয়ে যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকরা কতশত কবিতা গান লিখেছেন। কেউ চোখকে সমুদ্রের সাথে কেউ আবার তুলনা দিয়েছেন পাখির বাসার সাথে। আমাদের চারদিকে কী ঘটে যাচ্ছে তা আমরা যতটা দেখে উপলব্ধি করতে পারি তা আর কোনো ভাবেই পারি না। তাই চোখের সুরক্ষায় আমরা চোখে চশমা ব্যবহার করি। এটি বর্তমানে ফ্যাশনের যেমন একটি অংশ তেমনি আপনার চোখকে বাইরের ধুলোবালি থেকে রক্ষা করতে একটি মাধ্যম। তবে আমরা যে চশমা পরি তা আসলে এলো কোথা থেকে?

মানুষ প্রথমে কাঁচ আবিষ্কার করে, তারপর লেন্স। খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ সালে মানুষ কাঁচের লেন্স ব্যবহার করত বিবর্ধক হিসেবে, আগুন জ্বালাতে। মধ্য গগনের সূর্য রশ্মিকে পূর্ণ আভ্যন্তরীন প্রতিফলনের মাধ্যমে তারা আগুন জ্বালাত শুকনো পাতায়, জমিয়ে রাখা খড়ে। আতশ কাঁচ আবিষ্কারের আগে মানুষ আগুন জ্বালাত চকমকি পাথর ঠুঁকে অথবা শুকনো দুখন্ড কাঠ ঘঁষে। সামান্য আগুন জ্বালাতে তাদের হাতে কড়া পড়ে যেত।

১২৮০ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে প্রথম চোখের চশমা আবিষ্কার করেন আলেস্যান্দ্রো ডেল্লা স্পিনা এবং স্যালভিনো ডেলগি আরমাটি। আরমাটি আলোর প্রতিসরন বা রিফ্রাকশান নিয়ে গবেষণা করছিলেন। এতে তার চোখে কিছুটা সমস্যা হয়। তিনি এক পর্যায়ে আবিষ্কার করেন দুই খন্ড কনভেক্স লেন্স বা উত্তল লেন্সের ভিতর দিয়ে তাকালে বেশ ভালো ভাবে দেখা যায়। উত্তল লেন্স বস্তুর আকার বিবর্ধিত করে দেখতে সাহায্য করে। তিনি ক্ষীনদৃষ্টির চিকিৎসায় উত্তল লেন্স ব্যবহার করতে পরামর্শ দিতে শুরু করলেন। ১৪০০ সালের দিকে ক্ষীনদৃষ্টির চিকিৎসায় উত্তল লেন্স পুরোদমে ব্যবহার হতে লাগলো। পোপ দশম লিও চশমা পরিধান করতেন। ১৫১৭ সালে রাফালেলের আঁকা প্রতিকৃতিকে দেখা যায় পোপ লিও দশমের চোখে চশমা। চার্চ প্রথম দিকে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের বিপক্ষে ছিলো। তারা বিজ্ঞানের আবিষ্কারকে সহজে মেনে নিত না।

এখন যেমন আধাশিক্ষিত মুসলিম হুজুররা বিজ্ঞান নিয়ে কটাক্ষ করে তখনকার দিনে চার্চের শিক্ষিত যাজকেরা সেটাই করত। কোপারনিকাসকে চার্চ পুড়িয়ে মারে। বৃদ্ধ গ্যালিলিও গ্যালিলিকে তারা নতজানু হয়ে চার্চের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বাধ্য করে। কেন জানেন? তারাই প্রথম বলেছিলেন সূর্য নয় পৃথিবী ঘোরে। প্রথম দিকে কোয়ার্টজ কাঁচকে ঘষে উজ্জ্বল করে চোখের চশমা তৈরী করা হত। ষোড়শ শতাব্দীতে কাঁচশিল্পে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়।

ফলে চশমা শিল্পেও তার হাওয়া লাগে। সাধারণ কাঁচ থেকে চশমা তৈরী শুরু হলো। আর কাঁচ তৈরী হয় বালি থেকে। বাংলাদেশের বালিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় ভালোমানের কাঁচ উৎপাদন সম্ভব নয়। আয়রনের কারণে উৎপাদিত কাঁচ নীলচে রঙ ধারণ করে। চট্ট্রগ্রামের ওসমানি গ্লাস ইন্ডাসট্রিতে চাঁদপুরের বালি ব্যবহার করে কাঁচ উৎপাদন করা হয়। বাকি কোম্পানীগুলো চীন থেকে কাঁচ শিল্পের কাঁচামাল বালি আমদানি করে থাকেন।

উত্তল এবং অবতল লেন্স মিলিয়ে যে চশমা প্রস্তুত করা হয় তাকে বলা হয় বাইফোকাল লেন্স। এই চশমা ব্যবহার করে কাছে দেখা ও দূরে দেখা দুই ধরনের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ১৭৬০ সালে আমেরিকার উদ্ভাবক বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন বাইফোকাল চশমা আবিষ্কার করেন। খুব বেশী দিন আগের কথা নয়। বাঙালী শিক্ষিত সমাজের সাজের পোষাকে থাকত কাঁধে ভাঁজ করা চাদর, চোখে চশমা, হাতে হাত ঘড়ি, পকেটে কলম। চশমা এখন বিলাসিতার সামগ্রী নয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষ হয়েছে উন্নত আর তাদের রুচিতেও এসেছে পরিবর্তন। তাই ফ্যাশনে চশমার কদরও দিন দিন বাড়ছে। তাই তো পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে ফ্যাশনপ্রেমী মানুষেরা তাদের পছন্দের তালিকায় ঠাঁই করে দিচ্ছেন চশমাকে। সূত্র: ইন্টারনেট, বিডিটুডেস/এএনবি/ ২১ অক্টোবর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × one =