English Version

চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো ও খালাতো ভাই ও বোনেরা কি আমাদের জন্য মহারাম?

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

কে এস এম আরিফুল ইসলাম, সমাজ বিশ্লেষক ও প্রগতিশীল কলামিস্ট: খালাতো, চাচাতো, ফুফাতো মামাতো বোনরা ও ভাইয়েরা মাহরাম নয়। তাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ। সুতরাং এদের সাথে পর্দা রক্ষা করা ফরয এবং বিনা প্রয়োজনে কথা বলা, দুষ্টুমি, হাসাহাসি, কৌতুক ইত্যাদি মোটেই জায়েয নয়। এতে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন হয় এবং অন্যায় ও পাপের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যায়।

তারা যদি অজ্ঞতা বশত: বেপর্দা অবস্থায় সামনে আসে তাহলে নিজের চোখ হেফাজত করতে হবে এবং বিনা প্রয়োজনে কথা বলতে চাইলে তার সুযোগ দেয়া যাবে না-যদিও ছোটকাল থেকে তারা এক সাথে বড় হয়েছে। কেননা বড় হওয়ার পর ইসলামের বিধান মানা সকলের জন্য ফরয এবং তা উপেক্ষা করার সুযোগ নাই। অন্যথায় উভয়কেই গুনাহগার হতে হবে। আর গুনাহের পরিণতি আল্লাহর শাস্তি।

আর এই চাচা-ভাতিজি বা মামা-ভাগনী সম্পর্ক কেবলই সমাজিক প্রচলন মাত্র। যেখানে স্বয়ং চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো এবং খালাতো ভাই-বোনরাই মাহরাম নয় সেখানে তাদের সন্তানদের মাহরাম হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আর কারণ তারা সম্পর্কের দিক দিয়ে আরও নিম্ন স্তরের।

সুতরাং চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো এবং খালাতো ভাই কিংবা বোনের মেয়েরা ছেলের জন্য এবং ছেলেরা মেয়েদের জন্য মাহরাম নয়। অতএব যদি শিশুকালে (দু বছর বয়সের মধ্যে শর্তানুযায়ী) রাযাআত বা দুগ্ধপান জনিত কারণে তাদের মাঝে মাহরামিয়াত সাব্যস্ত না হয়ে থাকে তাহলে তাদের পারস্পারিক পর্দা রক্ষা করা ফরজ এবং তাদের মাঝে বিবাহ বন্ধন বৈধ।

আর এর বাস্তব প্রমাণ হল, আলি ইবনে আবু তালিবর (রা:) আমাদের প্রিয় নবী রাসলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চাচাতো ভাই ছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁর কন্যা ফাতিমা (রা:) এর সাথে আলি রা. এর সাথে বিয়ে দিয়েছেন।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক বলেন:

حُرِّمَتۡ عَلَیۡکُمۡ اُمَّہٰتُکُمۡ وَ بَنٰتُکُمۡ وَ اَخَوٰتُکُمۡ وَ عَمّٰتُکُمۡ وَ خٰلٰتُکُمۡ وَ بَنٰتُ الۡاَخِ وَ بَنٰتُ الۡاُخۡتِ وَ اُمَّہٰتُکُمُ الّٰتِیۡۤ اَرۡضَعۡنَکُمۡ وَ اَخَوٰتُکُمۡ مِّنَ الرَّضَاعَۃِ وَ اُمَّہٰتُ نِسَآئِکُمۡ وَ رَبَآئِبُکُمُ الّٰتِیۡ فِیۡ حُجُوۡرِکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِکُمُ الّٰتِیۡ دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ ۫ فَاِنۡ لَّمۡ تَکُوۡنُوۡا دَخَلۡتُمۡ بِہِنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ ۫ وَ حَلَآئِلُ اَبۡنَآئِکُمُ الَّذِیۡنَ مِنۡ اَصۡلَابِکُمۡ ۙ وَ اَنۡ تَجۡمَعُوۡا بَیۡنَ الۡاُخۡتَیۡنِ اِلَّا مَا قَدۡ سَلَفَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا ﴿ۙ۲۳﴾

তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতাদেরকে, তোমাদের মেয়েদেরকে, তোমাদের বোনদেরকে, তোমাদের ফুফুদেরকে, তোমাদের খালাদেরকে, ভাতিজীদেরকে, ভাগ্নীদেরকে, তোমাদের সে সব মাতাকে যারা তোমাদেরকে দুধপান করিয়েছে, তোমাদের দুধবোনদেরকে, তোমাদের শ্বাশুড়ীদেরকে, তোমরা যেসব স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছ সেসব স্ত্রীর অপর স্বামী থেকে যেসব কন্যা তোমাদের কোলে রয়েছে তাদেরকে,

আর যদি তোমরা তাদের সাথে মিলিত না হয়ে থাক তবে তোমাদের উপর কোনো পাপ নেই এবং তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রীদেরকে এবং দুই বোনকে একত্র করা (তোমাদের উপর হারাম করা হয়েছে)। তবে অতীতে যা হয়ে গেছে তা ভিন্ন কথা। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (আল-বায়ান)

আবার:

তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ী, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সাথে সঙ্গত হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সাথে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’ বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, পূর্বে যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু। (তাইসিরুল কোরআন)

আবার:

তোমাদের জন্য অবৈধ করা হয়েছে – তোমাদের মাতৃগণ, কন্যাগণ, ভগ্নিগণ, ফুফুগণ, খালাগণ, ভ্রাতৃকন্যাগণ, ভগ্নির কন্যাগণ, তোমাদের সেই মাতৃগণ যারা তোমাদেরকে স্তন্য দান করেছে, তোমাদের দুগ্ধ ভগ্নিগণ, তোমাদের স্ত্রীদের মাতৃগণ, তোমরা যাদের অভ্যন্তরে উপনীত হয়েছ সেই স্ত্রীদের যে সকল কন্যা তোমাদের ক্রোড়ে অবস্থিত; কিন্তু যদি তোমরা তাদের মধ্যে উপনীত না হয়ে থাক তাহলে তোমাদের জন্য কোন অপরাধ নেই; এবং ঔরসজাত পুত্রদের পত্নীগণ; এবং যা অতীত হয়ে গেছে, তদ্ব্যতীত দুই ভগ্নিকে একত্রে বিয়ে করা; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
(মুজিবুর রহমান)

Prohibited to you [for marriage] are your mothers, your daughters, your sisters, your father’s sisters, your mother’s sisters, your brother’s daughters, your sister’s daughters, your [milk] mothers who nursed you, your sisters through nursing, your wives’ mothers, and your step-daughters under your guardianship [born] of your wives unto whom you have gone in. But if you have not gone in unto them, there is no sin upon you. And [also prohibited are] the wives of your sons who are from your [own] loins, and that you take [in marriage] two sisters simultaneously, except for what has already occurred. Indeed, Allah is ever Forgiving and Merciful.
( Sahih International)

এছাড়া, আল্লাহ তাআলা কুরআনের সূরা নিসার ২৩ নং আয়াতে যে সব নারীদেরকে বিয়ে করা হারাম করা হয়েছে তাদের একটি তালিকা উল্লেখ করেছেন। সেখানে চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো এবং খালাতো ভাই-বোনদের মেয়েদের কথা উল্লেখ করা হয় নি। এর পরের আয়াতেই তিনি বলেছেন,

وَأُحِلَّ لَكُم مَّا وَرَاءَ ذَٰلِكُمْ أَن تَبْتَغُوا بِأَمْوَالِكُم مُّحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ

“এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থ (মোহর) এর বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়।” (সূরা নিসা: ২৪)

অথচ বাস্তবতা হল, আমাদের সমাজে এ সকল মেয়েদেরকে আপন ভাই ও বোনের মেয়েদের মত ভাগ্নি বা ভাতিজি বলে গণ্য করা হয় এবং তারাও আপন চাচা-মামার মত মনে করে পর্দা করার প্রয়োজন অনুভব করে না! কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে তাদের মাঝে পর্দা রক্ষা করা ফরজ এবং অন্য কোনো বাঁধা না থাকলে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে কোনো সমস্যা নেই। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকেই দীনের প্রকৃত জ্ঞান দান করুন এবং হালাল-হারাম বুঝে ইহকালীন জীবন যাপনের তওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: কে এস এম আরিফুল ইসলাম, সমাজ বিশ্লেষক ও প্রগতিশীল কলামিস্ট, তাকমীল ফিল হাদিস ওয়াল ফিকহ্, জামিয়া লুৎফিয়া হামিদ নগর বরুণা। ব্যাচেলর অফ সোশ্যাল সাইন্স (২য় বর্ষ), বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fifteen − nine =