English Version

চাঞ্চল্যকর জহুরুল হত্যা রহস্য উদঘাটনপূর্বক ৩ জনকে যেভাবে আটক করলো পুলিশ!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি এম মিঠন, নওগাঁ: মোবাইল ফোনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতো জহুরুল, সেই সুবাধে তার পরিচিত দু’জন জহুরুলের কাছে থেকে বাঁকিতে মোবাইল নিয়েছিলেন। বাঁকিতে নেওয়া মোবাইল ফোনের পাওনা না দিতেই পরিকল্পিতভাবে জহুরুলকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর জহুরুলের কাছে থাকা নগদ টাকা ও ২৮ টি মোবাইল ফোন নিয়ে ঐ দুজন।

চাঞ্চল্যকর এহত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে উদঘাটন সহ জড়ীতদের আটকপূর্বক মোবাইল ফোনগুলোও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন পুলিশ। এছাড়া আটককৃত দু’জন বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। আটককৃতদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য-গত ৬ জানুয়ারী সকাল ৭টার দিকে রাজশাহীর বাঘা থানাধীন তেথুলিয়া শিকদারপাড়া গ্রামের একটি আম বাগানের মধ্যে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানিয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক সুরতহাল রির্পোট অন্তে মৃতদেহটি উদ্ধার করেন ময়না তদন্তের জন্য। খুনের শিকার জহুরুল ইসলাম (২৩) বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম বাজার এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

এ ঘটনায় জহুরুল ইসলামের ভাই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ঘটনার দিনই বাঘা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-০৬। মামলার পর রাজশাহী জেলার সুযোগ্য জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, বিপিএম (বার) এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় চারঘাট (সার্কেল) সহকারী পুলিশ সুপার নুরে আলম এর নেতৃত্বে পুলিশের চৌকস একটি টিম তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া সহ তদন্তপূর্বক ১৫ জানুয়ারী দিনগত রাতে অভিযান পরিচালনা করে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মোট ৩ জন আসামিকে গ্রেফতার করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের আকমল হোসেন এর ছেলে মাসুদ রানা (২৬) ও একই উপজেলার কাজিপাড়া গ্রামের মৃত সানাউল্লাহর ছেলে আমিনুল ইসলাম ওরফে শাওন (৩০), কে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার এবং রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন জোতকাদিরপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে রকি (২৩) কে তার নানার বাড়ি পাবনা জেলার ইশ্বরদী উপজেলার পিয়ারপুর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেন পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা ও আমিনুল ইসলাম ওরফে শাওন বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য- খুনের শিকার ভিকটিম জহুরুল ইসলাম বাঘা উপজেলার পানিকুমড়া বাজারের মোঃ মেহেদী হাসান ওরফে মনি এর টেলিকম ও ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানে সেলসম্যান হিসেবে চাকরি করতেন।

জহুরুল এর নিকট থেকে গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা ও আমিনুল ইসলাম ওরফে শাওন বাকিতে মোবাইল ফোন ক্রয় করেন। জহুরুল মোবাইল ফোনের পাওনা টাকার জন্য তাদের চাপ দিলে তারা টাকা না দেওয়ার জন্য জহুরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৫ জানুয়ারী সন্ধ্যাবেলা ভিকটিম জহুরুল আড়ানী বাজার হতে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে এ সময় মাসুদ রানা ও আমিনুল ইসলাম ওরফে শাওন পাওনা টাকা দিতে চেয়ে কৌশলে ভিকটিম জহুরুলকে ঘটনাস্থল আম বাগানে ডেকে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জহুরুল ইসলামকে হত্যা করে তার নিকটে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা ও বিভিন্ন কোম্পানির ২৮ টি মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে উক্ত ২৮টি মোবাইল ফোন ৩ নং আসামি মেহেদী হাসান ওরফে রকির নিকট জমা রাখেন। লুণ্ঠনকৃত ২৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধারও করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা জেল হাজতে রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন মোঃ ইফতে খায়ের আলম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) রাজশাহী। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২১ জানুয়ারি, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty + 8 =