English Version

চৌগাছায় ঈদ উপলক্ষে রমজানের শেষ মুহুর্তে বাজারের অবস্থা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আব্দুল আলীম, চৌগাছা (যশোর): আজ ৩মে সোমবার চৌগাছায় বাজারে ঈদ উপলক্ষে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। অন্য বছরের ন্যায় চৌগাছার দোকানগুলোতে তেমন বেঁচাকেনা না থাকলেও ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় রমজানের শেষার্ধে। শহরের রাস্তা-ঘাটের অতিরিক্ত ভিড় দেখে মনে হলো জেলা শহর। ঈদের বাজারের শেষ অবস্থা দেখার জন্য ঢুকে পড়লাম। শহরের ভিতরের বিভিন্ন পর্যায়ের দোকানগুলোতে। শহরের স্বর্ণপট্টি মার্কেট, নিউ স্বর্ণপট্টি মার্কেট, নুরআলী সুপার মার্কেট, আব্দুল কাদের সুপার মার্কেট, লতা সুপার মার্কেটসহ সপিংমল ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। মহিলা, শিশু, যুবকসহ সকল বয়সের মানুষ সবার আগে ভাল জিনিসটি ক্রয় করতে মহাব্যস্ত। ঈদের আর বেশীদেরী নেই, একেবারে মাথার উপর চলে এসেছে। তাই দোকানে গিয়ে পছন্দ হলেই দামা-দামী বেশী না করেই কিনছেন ক্রেতারা।

এ দিকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের হকসুপার মার্কেট, নুর সুপার মার্কেট, কাপুড়িয়া পট্টি, লতা মিয়া মার্কেট, এ্যানিসুপার মার্কেট, নূর আলী সুপার মার্কেট, স্বর্ণপট্টি মার্কেট, মৃধা সুপার মার্কেট এর শপিংমল গুলোতে প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতারা এক দোকান থেকে আর এক দোকানে ছুটছেন পছন্দের জামা-কাপড় ও জুতা কিনতে। নিউ স্বর্ণপট্টি মার্কেটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ধূলিয়ানী ছিট ভান্ডারের মালিক মিজানুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, গত বছর শবেবরাতের দিন থেকে শুরু করে সমগ্র রমজান মাসে ব্যাপক বেঁচাকেনা ছিলো। প্রায় চল্লিশ (৪০থেকে ৪৫) দিন একাধারে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিলো।

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

এবার পনেরোটা রোজা হবার পরে একটু ক্রেতার ভিড় দেখা যায়। কিন্তু প্রতিদিনকার ব্যবসা গত বছরের মত নয়। ক্রেতাদের অভিযোগ ধানের দাম না থাকার কারণে তাদের ঈদের কেনাকাটার প্রতি অনিহা। একই ভাষ্য দেখা যায়, স্বর্ণপট্টি মার্কেটের রনি-মুন্নি বস্ত্রবিতানের মালিক লুৎফর রহমান, আলামিন বস্ত্রালয়ের মালিক মনিরুল ইসলামসহ অনেক ব্যবসায়ীর। স্বর্ণপট্টি মার্কেটের মজিদ ক্লোথষ্টোরের মালিক আব্দুল মজিদ জানান কটন, সিল্ক, তোষর ও টিটিআই কাঁপড়ের দিকে ক্রেতারা ঝুঁকে পড়েছে।

এ বছর দেশী কাপড়ের পাশাপাশি বিদেশী বিভিন্ন ব্রান্ডের ছিট ক্রেতাদের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে দাম বেশী হওয়ায় বিদেশী বিভিন্ন ব্রান্ডের ছিট ক্রেতা কিনছেন কম। শহরের তানভীর টেইলার্সের মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, ১৫দিন আগে থেকে শার্ট ও প্যান্টের অর্ডার নেওয়া নন্ধ। কারন যে অর্ডার নিয়েছি তাই তৈরী করতে রাত-দিন কাজ করেও শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়া কর্মচারীরা কাজ করে পারছে না।

একইভাবে দেখা যায়, কসমেটিক্স ব্যবসায়ীদের দোকানে অনেক ভিড়। কারণ ক্রেতাদের মাথার উপর থেকে ঈদের দিনের দূরত্ব কমে এসেছে। কোনোমতেই সময় নষ্ট করার মতো তাদের হাতে সময় নেই। তাই পোশাক, জুতা, কেনার পরেই যেনো কসমেটিক্স সামগ্রী কেনার জন্য তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের স্বর্ণপট্টি মার্কেটের ভিতরে কসমেটিক্স ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম বলেন, রোজার শেষার্ধে এসে দোকানে ভিড় দেখা গেছে। তবে বেঁচাকেনার হার গত বছরের মতো নয়। তবে ক্রেতাদের অধিকাংশই মহিলা হবার কারণে বস্ত্রবিতান, জুতার দোকান থেকে সরাসরি কসমেটিক্সের দোকানে আসছে। এই জন্য সকল ব্যবসায়ীমহলের বেঁচাকেনার হার এবছরে একই এবং সকলের অভিযোগও একই। তবে এটা বলা যায়, সব মিলিয়ে শেষ মুহুর্তে জমে উঠেছে চৌগাছার ঈদের বাজার। বিডিটুডেস/আরএ/০৩ জুন, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × one =