English Version

চৌগাছায় যুবলীগের আয়োজনে জেল হত্যা দিবস-২০১৯ পালিত

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আব্দুল আলীম, চৌগাছা: যশোরের চৌগাছায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চৌগাছা শাখার আয়োজনে ৩রা নভেম্বর ২০১৯ জেল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার (৩ নভেম্বর) বিকাল তিনটার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, চৌগাছা উপজেলা শাখার আহবায়ক কমিটির আহবায়ক এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়ের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা ছাত্রনেতা এইচ এম ফিরোজ ও রাজু আহম্মেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র, যুগ্ম আহবায়ক শরিফুল ইসলাম, আনিছুর রহমান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা রাখেন উপজেলা যুবলীগের অন্যতম আহবায়ক সদস্য আজাদুর রহমান আজাদ, খালেদুর রহমান টিটো, হারুন অর রশিদ, মাষ্টার ফারুক হোসেন, দেওয়ান আনিচুর রহমান, হাফিজুর রহমান, আসিফ ইকবাল ভুট্ট, মাহাবুবুল আলম রিংকু, আসাদুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, নিতাই সরকার, হাসেম আলী, আসাদুজ্জামান আসাদ, পান্নু, আকরাম হোসেন প্রমূখ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের তরুন নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভার প্রধান আলোচক হিসাবে দেবাশীষ মিশ্র জয় বলেন, আজ ৩রা নভেম্বর শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে একটি নিকৃষ্ট ও ঘৃণিত দিন হিসাবে পরিচিত। যেদিনটায় আজকে জেল হত্যাদিবস হিসাবে পরিচিত। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন একজন আদর্শ নেতায় নয়। তিনি একজন ক্ষমাশীল ব্যক্তি ছিলেন। তাইতো শত্রুরা বারবারই পার পেয়ে গেছে। যে জাতীয় চার নেতার হত্যা দিবস হিসাবে আজকের দিন, ঐ চার নেতার খেতাব দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে মুস্তাককে বঙ্গবন্ধু এতো ভালোবাসতো, সম্মান করতো। সেই মীরজাফর খন্দকার মুস্তাক বিভিন্নভাবে বড় বড় হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলো।

খন্দকর মুস্তাক আহমেদ প্লান করে জিয়াউর রহমানের সহযোগীতায় ৪/৫ জন সৈনিকের দ্বারা জেলখানায় চার নেতাকে হত্যা করে। আর্তনাদ শোনা যায় বাইরে থেকে। শোনা যায় পানি পানি শব্দ। কিন্তু ঐ খন্দকর মুস্তাক তাদেরকে পানির বদলে অস্ত্রের আঘাতে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্যাতন করে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেই জেল হত্যা দিবস আওয়ামীলীগসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দল কর্তৃক প্রতি বছর ৩রা নভেম্বর পালিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগের চারজন জাতীয় নেতাঃ সাবেক উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামান হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্বরণার্থে এ দিবস পালন করা হয়।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির মদদে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য সপরিবারে হত্যা করে। অভ্যুত্থানকারীরা ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানের সম্মুখীন হন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পূর্বে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। কতিপয় সেনা কর্মকর্তা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আ হ ম কামারুজ্জামানকে গুলি করে এবং সঙ্গিন দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে জেলহত্যার প্রায় ২৯ বছর পর এর বিচারকার্য শুরু হয়।

২০০৪ সালের ২০শে অক্টোবর বিচারের রায়ে তিনজন পলাতক সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, ১২ জন সেনা কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিএনপির চারজন সিনিয়র নেতাসহ পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়। আমরা আওয়ামী যুবলীগ সারাজীবন জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসাবে থাকতে চাই। ২০৪১ সালের ভিতরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দিতে চেয়েছেন, আমরা আওয়ামী যুবলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সকল মিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে একত্রিত হয়ে সেই উন্নয়নকে সামনে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাবো। এটায় হবে আমাদের আজকের অঙ্গীকার। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৩ নভেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

18 − 18 =