English Version

চৌগাছা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নামে দূর্নীতির অভিযোগ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আব্দুল আলীম, চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছার হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের নামে দূর্নীতি ও অর্থ বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন এক মুক্তিযোদ্ধাসহ পাঁচজন স্থানীয় ব্যক্তি।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টার সময় চৌগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। হাকিমপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, জিল্লুর রহমান, ওমর, মকছেদ ও আমিনুর রহমান লাল্টু নামে পাচজন স্থানীয় অধিবাসি ওই লিখিত অভিযোগটি করেছেন।

লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারিরা বলেছেন, হাকিমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ বারের স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম মৃধা ও প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম একত্রে স্কুলের সকল সুবিধা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। অভিযোগের প্রথমেই তারা জানিয়েছেন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের দূর্নীতি, অর্থ আত্মসাত ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে স্কুলের শিক্ষার মান নষ্ট করছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে সভাপতি ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিতে ১১ লাখ টাকা অর্থ বানিজ্য করেছেন। এছাড়া গত বছর (২০১৯ সালের জুলাই) স্কুলে তৌহিদুজ্জামান নামে একজনকে অফিস সহকারি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পেতে তৌহিদুজ্জামান তার শ্বশুড় বাড়ি মহেশপুর থেকে জমি বিক্রি করে সভাপতিকে দিয়েছেন নগদ ৭ লক্ষ টাকা।

কিন্তু নিয়োগের আগে আগে সভাপতি অন্য আরো একজন প্রার্থীকে দেখিয়ে আরো টাকা দাবী করেন। তখন তৌহিদুজ্জামান টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে তার দাদা মাজিদ খানের নামে ২৮ শতক জমি সভাপতির মেয়ে গুলফা পারভিন মুক্তির নামে রেজিষ্টি করে দেন। গুলফা পারভিন মুক্তি হাকিমপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন।

এছাড়াও সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক দুজনে আরো দুজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন নিরাপত্তা কর্মী মুস্তাফিজুর রহমান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী আফরোজা খাতুন। তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১১ লাখ ও ৭ লাখ টাকা। এছাড়াও শুধুমাত্র সভাপতির দূর্নীতির কারণে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির চারজন অভিভাবক সদস্য নাজমুল হুসাইন, আব্দুল কাদের, সরোয়ার হোসেন খান ও আমিনুর রহমান পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার ভয়ে সভাপতি তার নিজের লোক হিসেবে দুজন নতুন অভিভাবক সদস্য সংগ্রহ করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, আমরা যা অভিযোগ করেছি যথাযথ কর্তৃপক্ষ যদি তদন্ত করে তবে অবশ্যই তার সত্যতা মিলবে। অভিযোগকারী জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা যা বলেছি তা সব কিছুই সত্যি। সভাপতি উপজেলার শীর্ষ আওয়ামী লীগের নেতাদের দোহাই দিয়ে আমাদেরকে দমিয়ে রাখেন।

হাকিমপুর ইউনিয়নরে অধিবাসি ও উপজেলার সুনামধন্য একটি স্কুলের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি দুজনই নিজেদের দূর্নীতি ঢাকতে এবং অবস্থান ধরে রাখতে ইউনিয়নরে অনেক প্রভাবশালি ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে চলেন। তাদেরকে তারা রীতিমতো মাশোহারা দেন। যার মধ্যে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিও আছেন।

প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা। আর চারজন অভিভাবক সদস্য পদত্যাগ করেননি। দুজন অভিভাবক সদস্য নাজমুল আলম ও আব্দুল কাদের পদত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও যশোর শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করি। এবং শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে মুকুল হোসেন, মনিরুজ্জামান পলাশ নামে দুজনকে নিয়ম মেনে অভিভাবক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করি।

হাকিমপুর স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, আমার নামে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা। তবে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার মেয়ে স্কুলে নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহকারি তৌহিদুজ্জামানের দাদার কাছ থেকে ওই জমি (২৮ শতক) কিনে নিয়েছে।”

এতো মানুষ থাকতে আপনার অফিস সহকারির দাদার জমিই আপনার মেয়ে কেনো কিনলেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেনো কিনলে অসুবিধা কি? অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২০ মে, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − 2 =