English Version

ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের আমেজে ভাপা পিঠা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও: হিমালয় কোলঘেষা দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সকাল সন্ধ্যায় হালকা বাতাস ও কুয়াশা। যেন জানিয়ে দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। হালকা শীতের সকালে যদি ভাপা পিঠা হয় তাহলে তো আর কোনো কথায় নেই। তাইতো প্রকৃতিতে শীত চলে এসেছে। শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব।

শীত এলে শহর, নগর ও গ্রামে পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে। শীতের পিঠা গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মৌসুমে গ্রামীণ বধূরা রকমারী পিঠা তৈরি করেন। শীতের পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা একটি অন্যতম পিঠা। ভাপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাপা, কখনো ঝাল ভাপা। খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর।

শীত এলেই শহর ও গ্রামীণ হাটবাজারে নানা রকম পিঠা বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতই পিঠা। এসব পিঠার সমাদর সবখানেই সমানভাবে রয়েছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে শহর ও গ্রামীণ হাট-বাজারে ফুটপাতে শীতের পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে।ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রাম-শহরে শীতে পিঠা ব্যবসায়ীদের পিঠা বিক্রির হিড়িক পরেছে। ভোর থেকে সকাল এবং বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহর-গ্রামীণ বাজার ও বিভিন্ন জায়গায় চলছে শীতের পিঠা বিক্রির ধুম।

শহরের অলিগলিতে রাস্তার আশপাশে পিঠাপুলির ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসে। এসব দোকানে কিশোর থেকে শুরু করে বয়ষ্ক লোকেরা পিঠা তৈরি করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। এ পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায় তারা। তবে সন্ধ্যার পর থেকে ক্রেতার সমাগত বৃদ্ধি পায়। সবাই একসাথে মজা করে শীতের ভাপা পিঠার স্বাদ উপভোগ করে। সকল বয়সের একসাথে পিঠা খাওয়া দেখে মনে হতে পারে কোনো উৎসব চলছে।

সদর উপজেলার শিবগঞ্জ বাজারে ভ্রাম্যমাণ পিঠা বিক্রেতা বলেন, প্রতি শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রি করি। এসময় তার প্রতিদিন প্রায় ৩-৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়। শীতের শুরুতে একটু ক্রেতা কম হলেও শীত যত বাড়বে ততই ক্রেতাও বাড়বে বলে জানান তিনি।

ভাপা পিঠা খেতে এসে পরেশ নামের একজন বলেন, আমি সন্ধ্যায় বাসায় যাওয়ার সময় প্রায় এসব দোকান থেকে ভাপা পিঠা খাই। পরিবারের জন্যও নিয়ে যাই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মা বেঁচে থাকতে তিনি শীতের সকালে ভাপা পিঠা তৈরি করতেন আর আমরা পরিবারের সবাই একসঙ্গে খেতাম। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাসায় আর তৈরি হয়না।

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী দেবরাজ বলেন, শীত এলে বাসায় ভাপা পিঠার আয়োজন করা হয়। সাধারণত সকালে নাস্তা আর শীত মৌসুমে বাসায় বড় বোন আসলেই শীতের সকালে ভাপা পিঠার আয়োজন করবেই আমার মা। তবে বাজারেও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে খাওয়া হয়। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৯ অক্টোবর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

sixteen − 3 =