English Version

ডোমারে ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

হরিদাস রায়, ডোমার (নীলফামারী): নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ১০ টাকা কেজি দরের তিনজন উপকারভোগীর চাল আত্মসাতের ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে নিজেকে বাচাঁতে উপকারভোগীদের অর্থের বিনিময়ে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছেন ইউপি সদস্য জিয়া ও ডিলার স্বাধীন।

জানা য়ায়, কেতকিবাড়ি ইউনিয়নে তিন উপকারভোগির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চাল চার বছর ধরে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। সংশ্লিষ্ট ওই ডিলারের নাম রবিউল ইসলাম স্বাধীন। তিনি কেতকিবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। অপরজন ওই ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জিয়াউর রহমান বাবুজি।

অভিযোগ মতে, কেতকিবাড়ি ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড রয়েছে উত্তর কেতকিবাড়ি গ্রামের জুয়েল (২৬), কার্ড নং ১৬৭, রশীদ (৩০), কার্ড নম্বর ২০৮ ও জাহেদা (৫০), কার্ড নম্বর ২১৬। যাহা অনুমোদন হয় ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর। ১০ টাকা কেজি দরে চার বছরে ১৭ বার ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ইউপি সদস্য সে কার্ড গোপন রেখে তাদের নামের চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। চলতি করোনা পরিস্থিতিতে ত্রাণের সুবিধাভোগি নির্বাচনকালে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগির তালিকা যাচাইয়ে সেটি জানাজানি হয় এলাকায়।

এ বিষয়ে উপকারভোগি জুয়েল জানান, এতোদিন ওই কার্ডের কথা জানা ছিল না তাদের। করোনাকালে ত্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করলে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সেটি জানতে পারেন। বিষয়টি অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ডিলার রবিউল ইসলাম স্বাধীন বলেন,‘তারা তো নিয়মিত চাল উত্তোলন করে আসছে।’ একই কথা বলেন ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বাবুজি।

এ বিষয়ে কেতকিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম দিপু বলেন, “গত ১৯ মে ১০ টাকা কেজি চালের উপকারভোগিদের চেনার জন্য ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তাদের কার্ড জমা নেই। এরপর এসব কার্ড নিজে উপকারভোগিদের হাতে পৌঁছে দিলে ওই অনিয়ম ধরা পড়ে। বিষয়টি উর্দ্ধতন মহলে জানানো হয়েছে।

এদিকে এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে অভিযোগ করে বলেন, “বিষয়টি সত্য হলেও সেটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বঞ্চিত ওই কার্ডধারীদের ম্যানেজ করে অভিযোগটিকে মিথ্যা প্রমাণের অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন। তাদের ওই অপচেষ্টা সফল হলে সমাজে আরও দূর্নীতি বাড়বে”। তদন্ত কমিটি প্রকাশ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নামার জন্য অনুরোধ জানান তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মাহমুদ হাচান জানান, নিরেপেক্ষতার স্বার্থে ফুড অফিসের কাউকে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়নি। ২/১ দিনের মধ্যে তারা তদন্ত রিপোর্ট দেবে। সে অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম অভিযোগ পাওয়ার বিষটি স্বীকার করে বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোনোয়ার হোসেনকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। প্রতিবেদন আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে”। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০২ জুন, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

15 − seven =