English Version

দিনাজপুরের খানসামায় ভূট্টা চাষে ঝুকছে কৃষক

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, খানসামা (দিনাজপুর): দিনাজপুর খানসামা উপজেলার মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। এ উপজেলায় প্রধান অর্থকারী ফসল হচ্ছে ধান। কিন্তু ধানের চাষ করে কৃষক প্রতি বছর লোকসানের মুখোমুখি হওয়ায় এ ধান চাষে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। ধান চাষ করে এ মওসুমে কোনো কোনো কৃষক তার ধানের চাষে লাগানো পুজি দাড় করতে পারনি। এবার বোরো ধানের মওসুমে শীতের প্রকোপে ধানের বীজ তলা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা কৃষকের বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সার, তেল, শ্রমিক খরচ সব কিছু মিলিয়ে একখানে করে ধানের মওসুমে বিঘা প্রতি দুই-তিন হাজার বেশি লাভ না হওয়ায় কৃষক বোরোধান চাষে অনিহা প্রকাশ করেছে। খানসামার ভেড়ভেড়ি ইউনিয়নের জোলা পাড়ার আমীন বলেন- কি হেউত আর কি বোরোধান, ধান চাষ করলেই ফকির। এবার আমি বোরো ধানের তিন বিঘা (৫০ শতাংশ) মাটিতে চিকন ভূট্টা বা পপকর্ন ভূট্টা ও মোটা ভূট্টা লাগাইছি। ভূট্টার আবাদে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি।

এ কৃষক জানায় আমাদের এলাকায় কমবেশি ভূট্টা চাষে সবাই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। উপজেলার সকল ইউনিয়নে ঘুরে ভাবকি ইউনিয়নের কৃষক জালাল জানান-আমাদের এলাকায় বেশি ভাগই ভূট্টা চাষ করে আসছেন। আমাদের এলাকায় শুধু মাত্র রোপা আমন মওসুমে রোপা আমন ধান চাষ করে। বোরো মওসুমে বেশির ভাগ কৃষক ভূট্টা চাষ করে থাকে। ভূট্টা চাষে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। খামার পাড়া ইউনিয়নের কৃষক ওবায়দুল হক জানায়, ধান চাষে তেমন লাভ হয় না। মুখের ভাতের জন্য আমি এক বিঘা (৫০ শতাংশ) বোরো ধান লাগাবো। আমি তিন বিঘা মোটা ভূট্টা লাগাইছি। ভূট্টায় ধানের চেয়ে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি।

স্বাস্থ্যের খবর জানুন

গোয়ালডিহির কৃষক জাহিদ পাটোয়ারি বলেন, আমাদের এলাকায় বরাবরই ধান চাষ ভলো হয়। আমাদের এলাকা জমিতে বিঘায় ৩৫- ৪০ মন ধান ফলন আসে। ধানের দাম মওসুমে না পাওয়ায় ও ভূট্টায় লাভ বেশি পাওয়ায় এলাকার কৃষক ভূট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আঙ্গারপাড়ার কৃষক আলম বলেন, রোপা আমন ধান আমাদের এলাকার সব কৃষক আবাদ করে। বোরো ধানের মওসুমে এলাকার প্রায় সকল কৃষক চিকন ভূট্টা বা মোটা ভূট্টা আবাদ করে।

এ সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ বছর এ উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রা ছিল সাত হাজার তিন শত হেক্টর, অর্জন সাত হাজার হেক্টর। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক চলতি মওসুমে পপকর্ন ও মোটা ভূট্টা রোপন করতেছে যা লক্ষ্য মাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভূট্টা ও ধান চাষ সমন্বয় বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানায়, এবার বোরো মওসুমে বোরোধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা চার হাজার দুই শত পয়ত্রিশ হেক্টর আছে। উপজেলার কৃষক ১৯০ হেক্টর জমিতে বোরোধানের বীজতলা তৈরি করেছে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২১ জানুয়ারি, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

11 + 11 =