English Version

দুর্যোগকালীন সময় মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

রিপন মাহমুদ, পিরোজপুর: শ ম রেজাউল করিম প্রথমবার মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন গৃহায়ন এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। সেই সময়ে ওই মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি দমনে তাঁর কঠোর পদক্ষেপের কারণে আলোচিত হয়েছিলেন।

বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বালিশ দুর্নীতির ঘটনা তদন্ত করে ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং সংবাদ সম্মেলন করে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের বিরল নজির স্থাপন করেন। একইভাবে বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে ৬২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, প্রচণ্ড চাপ ও প্রলোভন উপেক্ষা করে তাঁর এসব পদক্ষেপ ভূয়সী প্রশংসা কুড়ায়। সেবা খাতকে ভোগান্তিমুক্ত এবং সেবা সহজ করতে রাজউক’র নকশা অনুমোদনের ১৬ স্তরের ছাড়পত্রের সংস্কার করে ৪ স্তরে আনা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নকশা অনুমোদনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত প্রদান করেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ওঠে আসেন।

সূত্র মতে, ঠিকাদারি কাজে স্বচ্ছতা ও আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করতে তৎকালীন গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ১৪ দফা নীতি নির্ধারণ করেন। ওই সময় রাজউক, গণপূর্ত, সিডিএ, কেডিএ, জাতীয় গৃহায়নের সেবা গ্রহণের দীর্ঘসূত্রতা ও ভোগান্তি কমে আসে।

১ হাজার ১’শ কোটি টাকার বেহাত হওয়া সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার, অনিয়মে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করাসহ অনেক সংস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। টেন্ডার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেওয়ার মতো দু:সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ড্যাপ রিভিউ করার বহু প্রভাবশালীদের আবেদনেও তাকে টলাতে পারেনি। সেই সময়েই ইউএন হ্যাবিটাট’র ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ।

জানা যায়, হঠাৎ করেই শ ম রেজাউল করিমকে সেখান থেকে সরিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই মন্ত্রণালয়ে তিনি নিজেকে সমানভাবেই মেলে ধরছেন। করোনা সঙ্কটের সময় ডেইরি শিল্প, পোল্ট্রি শিল্পকে বাঁচানোর জন্য তার যে বিভিন্ন উদ্যোগ, সেই উদ্যোগগুলো প্রশংসিত হয়েছে। ডিম, দুধ, মৎস্য খামারিদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন।

করোনা ক্রান্তিকালে ছোট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা চরম সঙ্কটে পড়ায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সেক্টারের চাষি, খামারি ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এ মন্ত্রণালয়। তাঁর বিচক্ষণ প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রান্তিক খামারিরা বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। আরও জানা গেছে, রাজধানীর কাটাবন এলাকায় পশু-পাখির দোকানগুলোতে বন্দি হয়ে থাকা পোষা পশু-পাখিদের নিয়ে যে একটি করুণ অবস্থার সৃষ্টি হলে মন্ত্রী নিজেই কাটাবন এলাকায় যান এবং সেই আটকে পড়া পশু-পাখিদের খাবার দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার শুরু হয়। এ সময় মন্ত্রীর নির্দেশে অপপ্রচার বন্ধে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়। করোনাকালীন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের ভূমিকা সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষকে সচেতন করে মোবাইলে এসএমএস প্রেরণ করা হয়। একই সঙ্গে গণমাধ্যমেও এ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

আবার নিজ নির্বাচনী এলাকাতেও সমানতালে কাজ করছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই মন্ত্রী। পিরোজপুর-১ আসনের এ সংসদ সদস্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনী এলাকার মানুষকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন।

মন্ত্রী নিজ এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা সুষম বণ্টনেও নিয়েছেন কার্যকর পদক্ষেপ। ব্যক্তিগতভাবে করোনা থেকে রক্ষা পেতে সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেছেন। অসহায় মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন প্রতিটি ইউনিয়নে। চিকিৎসক ও নার্সদের সুরক্ষাতেও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৯ জুলাই, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × four =