English Version

ধোপাজান নদীতে বালিপাথর ব্যবসা বন্ধ, বিপাকে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের ধোপাজান নদীতে বালিপাথর আমদানী ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার বারকী শ্রমিক ও বালিপাথর ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে পড়েছে। ফলে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় শুরু হয়েছে চাঁদাবাজী সন্ত্রাস চুরি ডাকাতিসহ আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। অনুসন্ধানে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও ও হুরারকান্দা গ্রামের কতিপয় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী বালি পাথর আমদানীকারক ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের প্রাণে হত্যার হুমকী দিয়ে বলগেট, নৌকা আটক করে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে। চাহিতো চাঁদা না দেয়ায় সম্প্রতি চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা খুন করেছে ইব্রাহিমপুর গ্রামের বালি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজানকে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তাধীন এই মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অসদুদ্দেশ্যে গত ৭/৯/২০১৯ইং দুপুরে ধোপাজান নদীর হুরারকান্দা এলাকায় একজন নৌশ্রমিককে গুরুতর জখম করেছে চাঁদাবাজরা। আহত নৌশ্রমিককে ইব্রাহিমপুর ও পূর্ব সদরগড় গ্রামের ব্যবসায়ী জনগণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু মিজান খুনের সাথে জড়িত একজন চাঁদাবাজ গডফাদার, নৌশ্রমিককে জখমের ঘটনায় ইব্রাহিমপুর ও সদরগড় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুটি উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করে সংগঠিত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় লিপ্ত থেকে ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ইব্রাহিমপুর গ্রামবাসীর পক্ষে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আনিসুর রহমান রনি বাদী হয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা যায়, গত ০৬/০৫/২০১৯ইং জেলা প্রশাসকের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সালিশী বৈঠকে ইব্রাহিমপুর ও পূর্ব সদরগড় গ্রামবাসী বনাম ব্যবসায়ীগণ সহকারে জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ, জেলা পুলিশ সুপার মো: বরকতুল্লাহ খান ও বিজিবি অধিনায়ক সমন্বয়ে এক ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তিপত্র সম্পন্ন হয়। এতে ব্যবসায়ীগণ সর্বোচ্চ ১০ হাজার ফুট বালি বহনকারী হাল্কা পরিবহন অর্থাৎ ছোট বলডেট ও বড় নৌকা ধোপাজান নদীতে প্রবেশ করিয়ে তাদের স্টেকিং করা বালি ধোপাজান নদী দিয়ে নিরাপদে বহন করে (আমদানী করার) আনার সিদ্বান্ত গৃহীত হয়। এবং স্টেকিং করা বালি আমদানীকালে কোনো চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী কোনো ব্যবসায়ী বা শ্রমিকদেরকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোপাজান নদীর পাড়ে সাইনবোর্ড সাঁটানো হয়। কিন্তু চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা জেলা প্রশাসনের সিদ্বান্ত অমান্য করে গত এক মাস যাবৎ বেপরোয়া চাঁদাবাজী করে স্বাভাবিক ব্যবসার গতিরোধ করে বালিপাথর আমদানী ব্যবসা বন্ধ করে হাজার হাজার বারকী শ্রমিক ও বালিপাথর ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি মারছে।

আবার উক্ত চাঁদাবাজরাই ধোপাজান চলতি নদীতে বলগেট/কার্গো/স্টিমার ও বড় জাহাজ প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নিজেদের অপরাধকর্মকে ঢেকে রাখার অপচেষ্টা করে কাউন্টার অভিযোগ দায়ের করছে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মেরিন আইন অনুযায়ী শাখা নদীতে বলগেট/কার্গো/স্টিমার প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইব্রাহিমপুর গ্রামের গণ্যমান্য লোকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নিরীহ শ্রমিকদের স্বার্থে গত জৈষ্ঠ মাসে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে পুলিশ সুপার, ভুমি কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় উজানে সংরক্ষিত বালি পাথর সরবরাহের জন্য ৪০ দিনের জন্য উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। তৎপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা তাদের বালি পাথর বুঝাই করে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে উজানে কাইয়ারগাঁও থেকে হুরারকান্দা হয়ে ধোপাজান নদী দিয়ে সুরমা নদীতে গন্তব্য পথে প্রবেশ ও বের করে নৌকা বলগেট দ্বারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের এই স্বাভাবিক ব্যবসায় প্রবল বাধা হয়ে দাড়িয়েছে চাঁদাবাজরা। সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের হুরারকান্দা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আলাউর রহমানের ২ পুত্র ফজলুর রহমান ও সাজিদ নূর.একই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের পুত্র রুস্তম আলী,মৃত মখলেছুর রহমানের পুত্র হাবিবুর রহমান, মৃত আব্দুল আলীম এর পুত্র খোরশেদ আলম,ইউনুছ আলীর পুত্র সুফিয়ান,জালাল উদ্দিন এর পুত্র আখতার মিয়া,মৃত আজিম উদ্দিনের পুত্র হাবিব ও মৃত ওসমান গনীর পুত্র সাচ্চু মিয়া,কাইয়ারগাঁও গ্রামের আনোয়ার হোসেন আনু এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মনিপুরীহাটি গ্রামের জমির হোসেন জমু মিয়ার পুত্র জামাল মিয়া প্রমুখ চাঁদাবাজরা প্রতিদিন বিভিন্ন রেটে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় অব্যাহত রেখেছে।

চাঁদাবাজীর অভিযোগ অস্বীকার করে হুরারকান্দা গ্রামের ফজলুর রহমান ও রুস্তম আলী জানান, আমাদের ঘরবাড়ী, জমি-জমা, স্কুল মসজিদ ঠিকিয়ে রাখতে যা যা করার দরকার আমরা তাই করছি। জানতে চাইলে ইব্রাহিমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আনিসুর রহমান রনি জানান, আমাদের ঘরবাড়ী, জমি-জমা, স্কুল মসজিদ ঠিকিয়ে রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু মাননীয় জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ী ও হাজার হাজার শ্রমিকদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করায় আমরা একমাস আগে আমাদের অবরোধ তুলে নিয়ে ব্যবসায়ী শ্রমিকদেরকে তাদের স্টেকিং করা বালি আমদানী করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছি।

কিন্তু হুরারকান্দা গ্রামের চাঁদাবাজরা চাঁদা আদায় করে এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে ধরাকে সরাজ্ঞান করছে। তাই আমরা তাদেরকে হাতেনাতে ধরে থানা পুলিশে সোপর্দ করার সিদ্বান্ত নিয়েছি। আমরা জেলা প্রশাসকের আদেশ এর সম্মান রাখতে যা যা করার দরকার সবকিছু করবো। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মো: শহিদুর রহমান জানান, আমরা নদীতে চাঁদাবাজীর ব্যাপারে এলাকাবাসীর একাধিক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা ও তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 − 2 =