English Version

নওগাঁর মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি কবে পাবে সরকারী স্বিকৃতি ?

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি, এম মিঠন, নওগাঁ: নওগাঁর ব্যাপক আলোচিত একটি বিদ্যালয়ের নাম মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। নওগাঁ জেলা সদর শহর থেকে প্রায় ৭২ কিঃ মিঃ দূরে নওগাঁর পোরশা উপজেলা সদরের নিতপুর কপালির মোড়ে আজ থেকে প্রায় ৭ বছর পূর্বে প্রতিবন্ধীদের লেখা-পড়া শিখানোর জন্য গড়ে তোলা এ বিদ্যালয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে (বিশেষ করে) হত-দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসা দেয়ার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা এ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে বর্তমান (৪ ডিসেম্বর, বুধবার পর্যন্ত) ২৬০ জন প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে।

আর এ প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া শিখানোর জন্য শিক্ষক-কর্মচারী স্টাফ সংখ্যা মোট ২২ জন। শিক্ষক-কর্মচারী স্টাফ সবাই মধ্যবিত্ত পরিবারের। এই ২২ জনের মধ্যে ৭ জনই কর্মচারী যারা সব সময়ই প্রতিবন্ধী শিশুদের দেখাশুনা করেন। এদের মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারের ২ জন ভ্যান চালক ও একজন পিয়ন ও আছেন বিদ্যালয়টিতে। এক কথায় মধ্যবিত্ত ও হতদরিদ্র পরিবারের মোট ২২ জন স্টাফ সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বছরের পর বছর ধরে বিনা বেতনেই কাজ বা মানব সেবা করে আসছেন।

ইতিমধ্যেই এই মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়কে নিয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করায় মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচিত হয়ে ওঠে। আর এ কারণেই রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক, জেলা ডিডি, জেলা পিটি আই, জেলা শিক্ষা অফিসার ও এলাকার মন্ত্রী, এমপি মহোদয়সহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সরকারী অফিসগুলোর কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন মানব সেবার লক্ষে গড়ে তোলা মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টির কার্যক্রম সরজমিনে দেখে বা শুনে মুগ্ধ ও হয়েছেন।

এছাড়া ইতিমধ্যেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আদেশে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বেশ কয়েকবার অডিটও করা হয়েছে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি। নওগাঁ জেলার মধ্যে একমাত্র সুনামধন্য প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় হিসেবে মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টিকেই সবাই চিনে বা জানে। যেখানে ২৬০ জন প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ ও পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা পেয়ে আসছেন দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে। এজন্য সুনামধন্য মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টিকে সরকারী স্বিকৃতি দেয়ার দাবী জানিয়েছেন, সর্ব শ্রেণি-পেশার লোকজনসহ জেলার সচেতন মহল।

প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা শাজাহান আলী জানান, আমার বাবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বাবার নিজ পৈত্তিক জমিতে আজ থেকে প্রায় ৭ বছর পূর্বে ২০১৩ ইং সালে প্রতিবন্ধীদের লেখা-পড়া শিখানোর উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলা হয় এবং আমার পরিবারের সকল সদস্য মিলে যে যেভাবে পারি সকলেই সহযোগীতা করেই দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চালিয়ে আসছি বিদ্যালয়টির শিক্ষা ও সেবামূলক কার্যক্রম।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোঃ মওদুদ আহম্মেদ জানান, আমার বাবা মরহুম মোবারক হোসেন একজন শিক্ষা অনুরাগী মানুষ ছিলেন এবং শিক্ষিত মানুষকে তিনি খুবই শ্রদ্ধা করতেন। এছাড়া ও তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িয়ে রাখতেন নিজেকে। প্রধান শিক্ষক আরো জানান, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি গড়ে তোলার পর থেকেই আমরা পরিবারের সকলে যা পারছি সহযোগীতা করছি। এরমধ্যে আমার ভাই মাহাবুর রহমান আনন্দ পুলিশের চাকুরীতে কর্মরত সেই ভাই ই বিশেষ করে বিদ্যালয়টির প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীদের টিফিন সহ মোটামুটি যাবতীয় খরচ বহন করে আসছেন দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে।

সম্প্রতি, ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইনর্স ও ঢাকা ডিবি ডেমরা জোনাল পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের সহযোগীতায় ব্যাপক আলোচিত মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি’র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রকারের শিক্ষা উপকরণ ও খেলনা সামগ্রী সহ ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ড্রেস (পড়নের পোশাক সেট) ঢাকা থেকে পাঠিয়ে দেয়। এবং ইতিমধ্যেই পুলিশের পাঠানো বিভিন্ন প্রকারের শিক্ষা উপকরণ ও খেলনা সামগ্রী সহ শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস (পড়নের পোশাক সেট) প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা গত (১ ডিসেম্বর) রবিবার হাতে পেয়েছেন জানিয়ে এসময় প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, ইতি পূর্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবন্দী শিক্ষার্থীদের শীত নিবারনের জন্য কম্বল পাঠানো হয়েছিলো।

ইতি পূর্বে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক, স্থানিয় মন্ত্রী, এমপি মহোদয় ও উপজেলা প্রশাসনের আর্থিক সহযোগীতাই বিদ্যালয়টির কিছু অবকাঠামো মেরামত ও নির্মান করা হয়েছে এবং যে সব কাজ বাঁকি আছে সে বিষয়ে ও সহযোগীতার আস্বাস দিয়েছেন। বিশেষ করে স্থানিয় এমপি ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় খাদ্যমন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি মহোদয় বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে সহযোগীতা করেছেন এবং আরো উন্নয়ন এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যাতে করে গরীব প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীরা যেন সব ধরনের সেবা পান এ বিদ্যালয়টিতে।

এলাকাবাসীসহ জেলার সচেতন মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে চলা ২৬০ জন বর্তমান প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রতিষ্ঠান মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টিকে সরকারী স্বিকৃতি (এমপিও তালিকা ভুক্ত) করার জন্য প্রতিবন্ধী বান্ধব বর্তমান সরকার এর আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন। সেই সাথে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিনা বেতনে শ্রমদেয়া ২২ জন স্টাফ ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও চেয়ে আছেন প্রতিবন্ধী বান্ধব সরকারের দিকেই। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

five + 7 =