English Version

নওগাঁয় চালসহ ভোজ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি এম মিঠন, নওগাঁ: করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে নওগাঁয় চাউলসহ ভোজ্য পণ্যের দাম (মূল্য) বাড়িয়ে দিয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। ফলে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে করোনা ভাইরাস অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ উদ্বেগ এবং উৎকন্ঠার মধ্যে দিন পার করছে।

চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ভোজ্য পণ্যের সংকট না থাকলেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে গত ক’দিন ধরে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে এসব ভোজ্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে প্রকার ভেদে কেজি প্রতি ৬ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় খুচরা চাল ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, গত এক সপ্তাহ আগে বাসমতি চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা, নাজির শাইল চাল প্রতি কেজি ৫০-৫২ টাকা, জিরা চাল প্রতি কেজি ৪২-৪৪ টাকা, স্বর্ণা-৫ চাল প্রতি কেজি ২৮ টাকা, আঠাশ চাল প্রতি কেজি ৩৮-৪০ টাকা, চিনি আতব চাল প্রতি কেজি ৭২-৭৫ টাকা এবং কাটারি আতব চাল কেজি প্রতি ৪৮-৫০ টাকা দরে মিলাররা খুচরা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছে।

অভিযোগ রয়েছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের ওসমান এগ্রো ইন্ড্রাঃ প্রাইভেট লিমিটেড, কফিল এগ্রো ইন্ড্রাঃ প্রাইভেট লিমিটেডসহ কয়েকটি অটোমেটিক চাল কল মালিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চালের দাম প্রতি প্রকার ভেদে ছয় থেকে ১২ টাকা প্রতি কেজি দর বাড়িয়ে দিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে বলে স্থানীয় খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। এ

ছাড়াও একই অজুহাতে সবজি ব্যবসায়ীরাও বাড়িয়ে দিয়েছে আলুসহ অন্যান্য সবজির দাম। গত এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি আলু ১৮-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও ওই একই ধরনের আলু গতকাল ২৪ মার্চ মঙ্গলবার কেজি প্রতি ৩-৪ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে সয়াবিন তেল, চিনি, জিরা ও বিভিন্ন ডালের দাম লিটার এবং কেজি প্রতি ২-৫ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা।

২৪ মার্চ মঙ্গলবার বিকালে মহাদেবপুর উপজেলার সরস্বতীপুর হাটে বাজার করতে গিয়ে ঐ উপজেলার খোর্দ্দনারায়নপুর গ্রামের দুলাল হোসেন হাটে আগত হাটুরিয়া ও সবজী ব্যবসায়ীদের মধ্যে একের পর এক দন্দ সৃষ্টি হওয়ার দৃশ্য দেখে অবশেষে তিনি প্রতিবেদককে ফোন করে বলেন, সরস্বতীপুর হাটে সময় পেলে আসেন এখানে সবজী ব্যবসায়ীরা যে যার কাছে যেমন পারছে সেভাবেই বেশী মূল্যে সবজী কেনাবেচা শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন,

সবজী দোকানী প্রথমে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি করেন এমনকি আমি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকাকালিনই সেই দোকানী দাম বাড়িয়ে প্রতি কেজি পিঁয়াজ ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি শুরু করেছেন এটাকি মঘের মুল্লুক পেলো কিনা এমন প্রশ্নও তোলেন দুলাল হোসেন।

এ ব্যাপারে মহাদেবপুর চাউল কল মালিক গ্রুপ সভাপতি মোঃ বেলাল উদ্দিন মন্ডল’র সাথে কথা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, করোনা ভাইরাসে আতংকিত হয়ে মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি চাল ক্রয় করার পাশাপাশি ধানের দাম বৃদ্ধির ফলে চাউলের দাম বৃদ্ধি হয়েছে।

মহাদেবপুর উপজেলা বাজার নিয়ন্ত্রণ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ আইনগত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৪ মার্চ, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

20 − 5 =