English Version

নওগাঁয় ফুলের প্রতি ভিন্নরকম ভালবাসা ৫ ভাইয়ের

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি এম মিঠন, নওগাঁ: প্রতিটি মানুষের কোনো না কোনো শখ আছে। আর ফুল ভালোবাসেনা এমন মানুষও খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে নওগাঁয় ৫ ভাইয়ের শখ ও ফুলের প্রতি ভালবাসা একটু ভিন্নরকম। ৫ ভাই মিলেমিশে দেশী ও বিদেশী প্রায় অর্ধশত প্রজাতীর ফুলের গাছ লাগিয়ে নিজ পরিচর্যায় গড়েছেন একটি সৌখীন পুকুরপাড়। পুকুরের চারিপাশে শতশত ফুলের গাছ আর সেই সাথেই হচ্ছে পুকুরে মাছ চাষ।

দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতীর ফুলের গাছেভরা এ পুকুর দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিনিয়তই লোকজন আসছে এই পুকুর পাড়ে। নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের কুন্দুনা গ্রামের জৈনক কাজেম উদ্দীন সরদারের ৫ ছেলে আনারুল ইসলাম (৫২), ইউনুস আলী (৪২), আতাউর রহমান (৩৮), আলতাব হোসেন (৩৬) ও ইউসুফ আলী (৩২) ওরা আপন ৫ ভাই।

তারা সকলেই ছোট বেলা থেকেই ফুলকে ভালোবেসে বিভিন্ন প্রজাতীর ফুলের গাছ বাড়ির উঠানসহ আশে-পাশের জায়গাঁয় রোপন করতেন। এক পর্যায়ে ৫ ভাই মিলে পরামর্শ করে বাড়ির কাছে ধনজইল-মাতাজীহাট পাকা সড়কের সাথে লাগানো তাদের নিজস্ব পুকুর পাড় দেশী-বিদেশী ফুলের গাছ দিয়ে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এর পরই ৫ ভাই মিলে আজ থেকে প্রায় ৪ বছর পূর্বে প্রথমে দেশী জাতের কিছু ফুলের গাছ রোপনের মধ্যেদিয়ে সৌখিন পুকুর পার গড়ে তোলার সপ্ন শুরু করলেও মাত্র ৪ বছরেই তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন ৫ ভাই। পুকুরটির চার পাশের পাড়ে ইতিমধ্যেই তাদের রোপনকৃত পিটুনীয়া, চন্দ্র মল্লিকা, কসমস, জেনিয়া, সেলফিয়া, পান বাটিয়াসহ প্রায় অর্ধশত প্রজাতির দেশি-বিদেশী জাতের ফুলের গাছে ফুল ফুটতে শুরু করেছে।

আর দেশী-বিদেশী ফুলের গাছ দিয়ে সাজানো সৌখিন পুকুরটি দেখতে এলাকাসহ আশে-পাশের লোকজন প্রতিনিয়তই আসতে শুরু করেছে এ পুকুর পাড়ে। সরজমিনে, নওগাঁ জেলা শহর থেকে ২৪ কিঃ মিঃ দূরে প্রত্যন্ত গ্রাম্যঞ্চলের ধনজইল-মাতাজীহাট পাকা সড়কের ধারের ৫ ভাইয়ের এ সৌখিন পুকুরে গিয়ে দেখা গেল, ছোট আকারের এ পুকুরটির চার পাশের দেশী ও বিদেশী প্রায় অর্ধশতাধীক প্রজাতির শত শত ফুল গাছে বাহারী রকমের প্রচুর পরিমাণ ফুল ফুটে রয়েছে।

পুকুরের মাঝখানে বসানো হয়েছে একটি পানির ফোয়ারা, তাছাড়া পুকুরের মাঝে পানিতে সদ্য ফোটা লাল শাপলাও ভাসছে এক কথায় পুকুরটি যেকোনো লোকজন দেখলে তাকে সুন্দর করে সাজানো-গোছানো সৌখিন পুকুর হিসেবেই মেনে নিতে হবে এই পুকুরটিকে। সৌন্দর্যবর্ধক হয়ে ওঠাই প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে সৌখিন পুকুর দেখতে পুকুর পারে নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভীড় জমাতে থাকেন। শুধু পুকুর পাড় না ঐ সৌখিন পরিবারের ৫ ভাইসহ সব সদস্যরা তাদের বাড়িটিও সাজিয়েছেন বিভিন্ন প্রজাতীর দেশী ও বিদেশী মূল্যমান (বনসাই) গাছ দিয়ে।

পুকুরের পাড়ে ফুল গাছের যত (নিরানী) কাজেরত ৫ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ভাই আনারুল ইসলাম এর সাথে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমরা ৫ ভাই সবাই ছোট থেকেই ফুল খুব ভালো বাসতাম। এজন্য আমরা শখ করেই পুকুর পারটি ফুলগাছ দিয়ে সাজিয়েছি, আমরা বাড়ির সকলে মিলেই প্রতিদিন ফুল গাছের যত্ন নেয়াসহ যাবতীয় পরিচর্যা করি। কাজের ফাঁকে তিনি আরো জানান, আমাদের এ সৌখিন পুকুরটি ও দেশী-বিদেশী ফুল দেখার জন্য প্রতিনিয়তই এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুরা এসে ঘুড়ে ঘুড়ে দেখেন এতে আমরাও আনন্দ পাই।

এসময় সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি আরো বলেন, আমরা কোনো টাকা পয়সা নেই না। শখ করে গড়েছি লোকজন দেখে আনন্দ পাচ্ছে এতে আমরাও আনন্দ পাচ্ছি। সবার ছোট ভাই রাইগাঁ উচ্চ-বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইউসুফ আলী জানান, আমরা পাঁচ ভাই এখনো একই সংসারের মধ্যে রয়েছি মিলেমিশে। আমরা ছোট বেলা থেকেই ফুল ভালো বাসতাম। আর এ ভালবাসা থেকেই শখ করে আমরা প্রথমে একটি পুকুর পাড় দেশী-বিদেশী ফুল গাছ দিয়ে সাজিয়েছি মাত্র।

মেজ ভাই আতাউর রহমান বলেন, মানুষজন যেভাবে আমাদের শখের ফুল বাগানসহ সৌখিন পুকুর দেখতে আসছে, এতে করে আমাদের আগ্রহ বেড়েই যাচ্ছে। সৌখিন এ পুকুরের সাথেই আরো জায়গাঁ ও দুটি পুকুর আছে আমাদের ৫ ভাইয়ের।

আগামীতে আরো বিদেশী ও দেশী জাতের ফুল গাছ রোপন করাসহ ৩টি পুকুরকেই সৌখিন পুকুর হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছা রয়েছে আমাদের বলেও জানান তিনি। ইউনুচ আলী জানান, আমরা শখের বসে পুকুরের চারিপাশ যেমন ফুল গাছদিয়ে সাজিয়েছি তেমনিভাবে পুকুরে মাছ ও চাষ করছি। বর্তমানে সৌখিন পুকুরটিতে শুধু দেশী জাতের শিং মাছ চাষ করা হচ্ছে।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৮ ইং নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা প্রশাসন এর হল রুমে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য চাষ ও সৌন্দয্য বর্ধনের জন্য উপজেলার শ্রেষ্ঠ পুরুস্কার এ্যাওয়ার্ড তুলে দেয়া হয় সৌখিন পরিবারের বড় ছেলে আনোয়ারুল ইসলামের হাতে।

উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য চাষ ও সৌন্দয্য বর্ধনে শ্রেষ্ঠ পুরুস্কার এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত আনোয়ারুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, যে কোনো ব্যাক্তি বা পরিবারই হোক না কেন সমাজে ভালো কোনো কাজ করলে সাধারণ মানুষজন যেমন ভালোবাসবে, তেমনি ভালো কাজের জন্য সম্মান পাবে বলেই আমি মনে করি। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fifteen + fourteen =