English Version

নওগাঁয় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শীতকালীন আগাম সবজির সমারোহ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি, এম মিঠন, নওগাঁ: নওগাঁ জেলা সদর উপজেলা ও মহাদেবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শোভা পাচ্ছে শীতকালীন আগাম সবজির সবুজের সমারোহ। সবজি চাষে বদলে গেছে এদুটি উপজেলার মাঠের দৃশ্যপট। চিরচেনা সবুজ দৃশ্য যে কোনো মানুষের নজর কাড়ছে। কৃষকের পদধূলিতে ও সেবাযত্নে ছোট চারা বেড়ে উঠছে। ধরছে ফসল। কৃষকের হাসির ঝিলিক প্রস্ফুটিত হচ্ছে মরিচের ডগায়। ধনেপাতার সুভাস ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে বাতাসে। আর মাটির নিচেই নীরবে মোটাতাজা হচ্ছে আলুর শরীর।

ইট পাথরের জেলা সদর শহর থেকে একটু দূরে বর্ষাইল ও হাপানিয়া ইউনিয়নসহ মহাদেবপুর শহর থেকে একটু দূরে বেরুলেই দৃষ্টিতে পড়ে কৃষকের স্বপ্ন বোনা সবুজ ফসলের মাঠ। প্রাণ জুড়িয়ে যায় তাদের আদর যত্নে মাঠের জমিতে গড়ে তোলা সবজি ক্ষেত দেখে। সকালে সূর্য ওঠার আগেই কৃষকরা হৃদয়ের টানে ছুটে আসেন জমির সবজি ক্ষেতে। শরীরের সবটুকু শক্তি আর মনের গভীরে পোষা ভালোবাসায় সিক্ত করে তোলেন কপি, টমেটো কিংবা লাউ ও শিমের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত।

এসময়টা এক কথায়, ক্ষেতে পানি দেয়া, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক প্রয়োগ, নিড়ানি দেয়াসহ সবজি ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক পদ্ধতিতে শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করায় ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটছে অসংখ্য কৃষকের। এছাড়াও মাঠের জমিতে ক্ষেতের পাশাপাশি অনেকে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করেছেন। আবার অনেক স্থানে গড়ে উঠেছে সবজি পল্লী। বিগত বছরের মত এবারও রোগ বালাই কম হওয়ায় আগাম শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে বললেই চলে। এছাড়াও বাজারে চাহিদা ও ভাল দাম পাওয়ায় হাজার হাজার কৃষক নতুন স্বপ্নে বিভোর। তারা ক্ষেতেই সবজি বিক্রি করছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এসব সবজি।

মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শুধু মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাষ হয়েছে ২শত ৫০ হেক্টর জমিতে, তা আরো বাড়বে। মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর, মাহিনগর, কুমিরদহ, কালনা, শেরপুর, এনায়েতপুর, মহিষবাথান, গোফানগর, নাটশাল, গোপালপুর, ফাজিলপুর, শিবগঞ্জ, সুলতানপুর, উত্তরগ্রাম, বামনসাতা, কর্ণপুর, পাটাকাটা, রামচরণপুর, কুঞ্জবন, মধুবনসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় কৃষকের ক্ষেতে বিভিন্ন ধরনের সবজি।

এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, মুলা, লাউ, শিম, বরবটি, চালকুমড়া, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ঝিংগা, পালংশাক, লালশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক, ডাটা, করলা, শসা, ধনিয়া, ঢেঁড়শ, পাটশাক, পটল, খিরা, চিচিংগা, সরিষা শাক, ওল, গাজর, মটর শুটি, মুলাশাক, পুটাশাক।

উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের সবজি চাষী এনামুল কবির জানান, শীতকালীন সবজি চাষে খরচ কম লাগে, এতে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। এ বছর দুই বিঘা জমিতে বেগুন ও লাউ, এক বিঘায় বাঁধাকপি এবং ফুলকপি, ১০ কাঠা করে জমিতে শিম, টমেটো, মুলা এবং পাঁচ কাঠা জমিতে ধনেপাতা চাষ করেছেন তিনি। একই গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সবজি চাষে বেশি লাভবান হাওয়া যায়। তাই অন্য ফসল ছেড়ে সবজি চাষ করছি। এ বছর এক বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে চার হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বাজারে ভালো দামেই বিক্রি হয়েছে।

নাটশাল গ্রামের সবজি চাষী কফিল উদ্দীন জানান, বাজারে সবজির দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে। তবে সার, এবার তুলনা মূলক কীটনাশক, বীজ ও পরিবহন খরচ বেশি। এ ব্যাপরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুণ চন্দ্র রায় জানান, শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকদের পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে কৃষি বিভাগ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার ফল পাচ্ছেন কৃষকরা। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০২ নভেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

eighteen + 13 =