English Version

নওগাঁয় সরকারি সহায়তা পেয়ে উন্নত জাতের সরিষা চাষ করছেন কৃষকরা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি এম মিঠন, নওগাঁ: দেশের উত্তর জনপদ’র খাদ্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলায় বিনামূল্যে সরকারি প্রণোদনার সার ও উন্নত জাতের বীজ পেয়ে সরিষা চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বর্তমানে মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঘের হিমেল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে সরিষা ক্ষেত।

সরিষার রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে কৃষক। এ বছর প্রত্যেক সরিষা চাষী অধিক মুনাফা লাভ করবে বলে মনে করছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বছরের পর বছর স্থানীয় জাত চাষ করে ফলন কম হওয়া ও উৎপাদনে সময় বেশি লাগায় কৃষকরা সরিষা চাষ কমিয়ে দেয়। তবে গত ৩ বছর থেকে মৌসুমের শুরুতে কৃষি বিভাগ ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট’ উদ্ভাবিত অধিক ফলনশীল (উফশী) বারি-১৪ ও বারি-১৫ জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে।

উন্নত জাতের সরিষা মাত্র ৫৫-৬০ দিনে ঘরে তোলা যায়। প্রতি হেক্টরে ফলন হয় প্রায় দেড় হাজার কেজি। সরিষা কেটে ওই জমিতে আবার বোরো ধান আবাদ করা যায়। এতে কৃষি জমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাদেবপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নে এবার সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৩৫ হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে।

যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা চাষ করা হয়। সরিষা চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে ৮৫০ জন কৃষককে ১ কেজি উন্নত জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ও ১০ কেজি এমওপি (মিউরেট অফ পটাশ) সার সরবরাহ করছেন।

উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষক ক্ষিতীশ চন্দ্র, সুকুমল প্রাং ও ধর্মপুর গ্রামের কৃষক ইনছের আলীসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, আমন ধান কাটার পর জমি তৈরি করে সরিষা আবাদ করা হয়। ৫৫-৬০ দিনের মাথায় সরিষা ফলন ঘরে আসে। ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। প্রতি বিঘায় ৭-৮ মণ ফলন হয় সরিষার, যা বর্তমান বাজারে বিক্রি হবে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বলেও জানান তিনি।

আমন ধান কাটার পর জমিগুলো পড়ে থাকে, তাই প্রতি বছর সরিষা চাষ করি। জমিতে সরিষা চাষের সময় সার প্রয়োগ করলে বোরো রোপণের জন্য আলাদাভাবে সার দিতে হয় না। এটা আমাদের অনেক উপকারে আসে। কারণ সরিষা কাটাই-মাড়াই করে সেটা বিক্রি করে দেই, সেই টাকা দিয়ে বোরো ধান লাগাই। এটা আমাদের একটা বোনাস ফসল। তাঁরা আরও বলেন, এটা স্বল্প খরচে একটি বোনাস ফসল যা প্রান্তিক কৃষকদের অনেক উপকারে আসে। উপজেলা কৃষি অফিস আমাদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, আমরা সরিষা চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। প্রণোদনা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে কৃষকদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যতক্ষণ ফসল ঘরে না তুলছেন ততক্ষণ কৃষি বিভাগ তাঁদের পাশে থাকবে।

তিনি বলেন, বারি-১৪ সরিষা বপনের মাত্র ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। কৃষকরা সরিষা উত্তোলন করে বোরো আবাদ করতে পারেন বলে এটাকে ‘ফাও ফসল’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। এ জাতের সরিষা গাছ লম্বা এর পাতা মাটিতে ঝরে পরে জৈব সারের কাজ করায় জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে। সরিষা আবাদের পর জমিতে বোরো ধান আবাদে সারের পরিমাণ তুলনা মূলক খুবই কম লাগে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 × four =