English Version

নওগাঁয় ৩ ফসলী জমিগুলোতে চলছে পুকুর খননের প্রতিযোগিতা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি এম মিঠন, নওগাঁ: সরকারী নিয়ম নিতি না মেনেই নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় ৩ ফসলী কৃষি (আবাদী) জমিতে একের পর এক চলছে পুকুর খননের প্রতিযোগিতা। এমনকি স্থানিয় জন-প্রতিনিধি বা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধারেই চলছে পুকুর খননের কাজ বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ফলে আশঙ্ক্ষাজনক হারে কমছে কৃষি (ধান-সহ বিভিন্ন ফসল ফলানো) আবাদী জমি। সম্প্রতি নওগাঁ-রাজশাহী মহা-সড়কের চেংকুড়িমোড় টু বসুনবুড়িতলা গ্রামীণ রাস্তার পাশ্ববর্তী রাস্তার সাথে সংযুক্ত তেজপাইন গ্রাম মৌজায় (ধান চাষের ৩ ফসলী) আবাদী জমিতে জমির মালিক সরকারী নিয়ম নিতি না মেনেই ভিকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন কাজ শুরু করলে স্থানিয়দের মাধ্যমে জানতে পেরে ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানিয় মেম্বার ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে পরিষদ থেকে গ্রাম্য পুলিশ পাঠিয়ে পুকুর খননে নিষেদাঙ্গা দিলেও নিষেদাঙ্গা অমান্য করে এবং সরকারী নিয়ম নিতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তেজপাইন গ্রামের মৃত রাজেন্দ্রনাথ এর ছেলে অনুকুল চন্দ্র মন্ডল (৫৫) রাতের আধাঁরেই ফসলী জমিতে পুকুর খনন সম্পন্ন করেন।

এ ব্যাপারে ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার বিপুল কুমার হাজরা অভিযোগ করে বলেন, আমি আবাদী জমিতে পুকুর খননের ঘটনাটি জানার সাথে সাথে চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি এবং চেয়ারম্যান সাহেব ও বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে পুকুর খনন কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলাহলেও আমাদের নিষেদাঙ্গা অমান্য করেই রাতের আধারে পুকুর খনন সম্পন্ন করেছেন জমির মালিক অনুকুল চন্দ্র মন্ডল এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ ভদ্র বলেন, আমরা তো আর মাঠে গিয়ে কারো সাথে গন্ডোগোল বা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারিনা, জানিয়ে তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি আমার এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে আবাদী জমিতে পুকুর খনন কাজ চলেছে এবং ঘটনাগুলো সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে গ্রাম্য পুলিশ পাঠিয়ে পুকুর খনন কাজ কয়েক দিনের জন্য আটকানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, যে ফাঁকা হয়েই অবৈধভাবে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে। এমন নির্দেশনা পেয়ে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে পুকুর খনন কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হলেও আমাদের নিষেদাঙ্গার কোনো তোয়াক্কা না করেই বেশ কয়েকটি স্থানে ইতি মধ্যেই পুকুর খনন সম্পন্ন করেছেন।

এ ব্যাপারে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে ২১ জানুয়ারী মঙ্গলবার বিকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, হঠাৎ করেই জেলার বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৩ ফসলী কৃষি (আবাদী) জমিতে (সরকারী নিয়ম বা জমি’র শ্রেণি না বদলিয়ে) একের পর এক চলছে পুকুর খনন কাজ এমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, অচিরেই ২/১ দিনের মধ্যেই এব্যাপারে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে। এসময় প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবাদী জমিতে পুকুর খনন কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাস্থ্যের খবর জানুন

উল্লেখ্য, হঠাৎ করেই মহাদেবপুর উপজেলাসহ নওগাঁ জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় (৩ ফসলী আবাদী) জমিতে পুকুর খোড়ার যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এমনকি ইতিমধ্যেই জেলার শতশত বিঘা আবাদী জমিকে পুকুরে পরিণিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অতিদ্রুত প্রশাসন যদি কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আগামীতে জেলার ফসলী জমি অনেক কমে যাবে এবং সেই সাথে ধান চাষের জন্য বিখ্যাত নওগাঁ জেলা সেই বিখ্যাত নামটিও ধরে রাখতে পারবে না এমনটাই অভিমত ব্যাক্ত করেছেন সচেতন মহল এবং অতিদ্রুত অবৈধ্যভাবে আবাদী জমিতে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নওগাঁ জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২২ জানুয়ারি, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twelve − 4 =