English Version

নির্বাচন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ, প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

চাইথোয়াই মারমা, খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা মানিকছড়ি উপজেলাতে নির্বাচন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে প্রত্যাহারের দাবি দাবী বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। জেলার মানিকছড়িতে উপজেলা সার্ভার অফিসার আরাফাত আল হোসাইনী’কে অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন মানিকছড়িবাসী।

বৃহস্পতিবার (১২ই নভেম্বর) সকাল ১০টায় মানিকছড়ির হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সার্ভার অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় তাকে মানিকছড়ি থেকে আজকের মধ্যে অপসারনের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেওয়া হয়। দুপুর দুইটার মধ্যে তাকে অপসারন করা না হলে উপজেলা ব্যাপী বিক্ষোভ করা ও উপজেলার প্রধানে সকল রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এতে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: মাঈন উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সামায়উন ফরাজী সামু, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্রলীগের সভাপতি মো: জামাল হোসেনসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আগত হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

অভিযোগে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো: আরাফাত আল হোসাইনী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভোটার হালনাগাদ, স্থানান্তর ও সংশোধনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আরোপিত নিয়ম-নীতি বহির্ভূত কোনো শর্ত বা অজুহাত দিয়ে কাউকে হয়রানি করার অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানান।

স্থানীয় ও মানিকছড়ি নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন কমকর্তা মো: আরাফাত আল হোসাইনী’র বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষজনকে ভোটার হালনাগাদ, স্থানান্তর ও সংশোধনে হয়রানি ও জনপ্রতিনিধি’র সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিলসহ নির্বাচন অফিস ঘেরাও সমাবেশ করেছে হাজারো বিক্ষোব্ধ জনতা। পরে উপজেলা প্রশাসন ও অভিযোগ তদন্তে আসা উর্ধ্বতন নির্বাচনী কর্মকর্তার আশ্বাসে বিক্ষোভ সমাবেশ আপাতত স্থগিত করেন ভুক্তভুগী জনতা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: আরাফাত আল হোসাইনী চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করার পর হতে নতুন ভোটার হালনাগাদ, ভোটার স্থানান্তর ও ভূল-ত্রুটি সংশোধনে সাধারণ মানুষজনকে নানা ধরণের হয়রানি করেন।

মানুষজনের এসব অভিযোগ জানতে আসলে জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের সাথেও তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ এনে গত ৮ই নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করেন উপজেলার ৮জন প্রতিনিধি ও শিক্ষক নেতা। যার ফলে ১২ই নভেম্বর সকাল ১০টায় বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম সরজমিনে তদন্তে আসেন।

এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তে আসার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী সহস্রাধিক জনতা সকাল সাড়ে ১০টায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে অফিস চত্বরে আসেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেট সৃষ্টি করেন।

খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো: জয়নাল আবেদীন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ, সহকারি কমিশনার (ভূমি) রিফাত আসমা, অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন ছুটে আসেন। পরে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো: আরাফাত আল হোসাইনী ও অভিযোগ তদন্তে আসা বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিমসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসে দীর্ঘ দুই ঘন্টা ব্যাপি শ্বাসরুদ্ধকর বৈঠক করেন।

বৈঠক চলাকালে ইউএনও অফিসের সামনে থেকে নানা শ্লোগানে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখে, ছাত্রলীগ সভাপতি মো: জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক চহ্লাপ্রু মারমা নিলয়, যুবলীগ সভাপতি মো: সামায়উন ফরাজী সামু, আওয়ামী লীগ নেতা এস.এস. রবিউল ফারুক ও আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মো: মাঈন উদ্দীন।

বৈঠক শেষে উপজেলা চেয়ারম্যান মো: জয়নাল আবেদীন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সরজমিনে এসে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাদীগণের বক্তব্য গ্রহণ ও সর্বশেষ সরজমিনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর বিষয়টি যেহেতু এখনো তদন্তাধীন। তাই এ বিষয়ে দ্রুত সময়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিবেন।

পরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো: মাঈন উদ্দীন বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করা হলো। আগামী ৩ কার্য দিবসের মধ্যে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা না হলে আরো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করে জনগণের হয়রানিরোধ করতে যা করণীয় তাই করা হবে।

এদিকে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা মো: আরাফাত আল হোসাইনী তার বিরুেদ্ধ আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানাকার লোকজন নির্বাচন কমিশনের আরোপিত নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তাদের মতো করে সব কিছু আদায় করতে চায়। যা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন বিরোধী। আমি এসব অন্যায় আবদার রাখতে না পারার কারণেই কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অন্যায়ভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পরবর্তী ঘটনার জন্ম দিয়েছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মানিকছড়ির প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও তিনটহরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আতিউল ইসলাম তার কাছে গেলে সে তার সাথে খারাপ আচরণ করা হয়। বাটনাতলী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মোহনের সাথেও খারাপ আচরণ ও কাজের বিনিময় ঘুষ দাবি করার অভিযোগ করা হয়। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৪ নভেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

17 + 18 =