English Version

নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ভারতের চন্দ্রযান-২

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: পৃথিবী থেকে দীর্ঘ ৪৭ দিনের যাত্রা শেষে একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে ‘চন্দ্রযান-২’ এর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো)। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও ভারতের ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেননি মহাকাশবিজ্ঞানীরা। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতীয় সময় গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৮ মিনিটে শুরু হয় বিক্রমের অবতরণপ্রক্রিয়া। সেকেন্ডে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার থেকে মহাকাশযানের গতিবেগ কমিয়ে আনা শুরু হয়। সে জন্য চলতে থাকে হার্ড ব্রেকিং। এরপর ফাইন ব্রেকিং পর্ব শুরু হতেই নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যাবতীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় চন্দ্রযানের।

ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন জানান, চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দূরে থাকা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলছিল অবতরণপ্রক্রিয়া। তারপর আর কোনো সংকেত পাঠায়নি ল্যান্ডার বিক্রম। গত ২৩ জুলাই ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় চন্দ্রযান-২। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় এক মিনিটের মধ্যে সেটি উৎক্ষেপণ করা হয়। তার এক সপ্তাহ আগে প্রথমবারের উৎক্ষেপণ বাতিল হয়।

ইসরোর নিয়ন্ত্রণকক্ষে চন্দ্রযান-২ এর অবতরণ সরাসরি দেখতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চন্দ্রযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণকক্ষে বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের হতাশ না হওয়ার পরামর্শ দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘আপনারা যা করেছেন সেটা কম নয়। হাল ছাড়বেন না। এই অভিযান মোটেও ব্যর্থ হয়নি। ভারতের মহাকাশ বিজ্ঞানকে আরেক ধাপ উপরে নিয়ে যাবে এই অভিযান। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের ইচ্ছাশক্তি আরও প্রবল হল। সংকল্প আরো দৃঢ় হল। ’ নিজ দেশের বিজ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন রাহুল গান্ধীও।

অভিযানের শেষ মুহূর্তে কেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলো তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে দেশটির বিজ্ঞানীদের মাঝে। চন্দ্রযান ভূপৃষ্ঠে নামার সময় ১৫ মিনিটের ‘কঠিন’ একটি সময় থাকে। সে পর্যায় পার হতে পারেনি বিক্রম। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া চন্দ্রবিজয় করেছে। তবে তা চাঁদের অন্য অঞ্চলে।

ভারতের নভোযান চাঁদে অবতরণ করলে তারা চন্দ্রবিজয়ী চতুর্থ দেশ হিসেবে তালিকায় উঠে আসত। এটিই হতো চাঁদের দক্ষিণ প্রান্তের সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়া প্রথম নভোযান। এ অভিযান পরিচালনা করতে ভারতের ব্যয় হয়েছে এক হাজার কোটি রুপি। এ অর্থ এর আগে পরিচালিত যেকোনো দেশের চন্দ্রাভিযানের খরচের তুলনায় বহু গুণ কম। ইসরো বলছে, একই ধরনের অভিযানে মার্কিন সংস্থা নাসার ২০ গুণ অর্থ খরচ হয়ে থাকে।

কথা ছিল, ঠিকঠাক পৌঁছাতে পারলে চন্দ্রযান-২ এর রোভার প্রজ্ঞান নতুন তথ্য পাঠাবে পৃথিবীতে। সেখান থেকে হয়ত জানা যেত চাঁদের বুকে কতটা পানি কী অবস্থায় আছে। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মহাকাশযান চন্দ্রযান-২ চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল গত ২০ আগস্ট। সূত্র: ইত্তেফাক, বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

one × 3 =