English Version

পরিবার ও বাচ্চাদের নিয়ে ঝুঁকিতেও করোনা যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আব্দুল আলীম, চৌগাছা (যশোর): উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া দেশগুলো যেখানে করোনা সংকট মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে৷ সেখানে নাজুক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসকরা প্রাণপন লড়াই করে যাচ্ছেন।

করোনা আক্রান্ত রোগীকে সেবা দেওয়া একাধিক হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের যেমন আইসোলেশন বা হোম কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে৷ তেমনি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইরত ডাক্তার-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থকর্মীর মৃত্যুর সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্ব জুড়ে যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে তাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের এখন দেবদূত৷

যশোরের চৌগাছা উপজেলা মডেল হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সরাও রক্ষা পাননি সেই করোনা আক্রমন থেকে।
জানা গেছে, উপজেলাতে ১৬ জন করোনা আক্রান্তের মধ্যে ৮ জনই ডাক্তার-নার্স (৪ জন ডাক্তার ৪ জন নার্স)। ইতিমধ্য ১৩ জন (৩ জন ডাক্তার ৪ জন নার্স) করোনা মুক্ত হয়েছেন। তাই করোনা ক্রান্তিকালে উপজেলায় কর্মরত সকল ডাক্তারদেরকে তিন ভাগে (৬ জন করেে) ভাগ করেছেন।

প্রতি ভাগের চিকিৎসকগণ ১৪ দিন চিকিৎসা দিবেন পরবর্তী ১৪ দিন হোম করেনটাইনে থাকবেন। এতে করে উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে বলেই মনে করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন্নাহার।

আপনিও কি ১৪ দিন ডিউটি করেন হঠাৎ এমন প্রশ্ন হাসতে হাসতে জবাব দিলেন নারে ভাই সেই সুযোগ নাই। নিজের বিবেকের কাছে কখনো প্রশ্নবিদ্ধ থাকবো না। চিকিৎসক হিসেবে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে আমার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। আসলেও তাই,করোনা ক্রান্তিকালে মহামারির বিরুদ্ধে মানুষ বাঁচানোর এই যুদ্ধে গত 8 মার্চ থেকে একদম সামনে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ডা.লুৎফুন্নাহার।

করোনা আক্রান্ত রোগীদেরকে সাহস দেওয়া,সচেতন করা এবং হাসিমুখে পরামর্শ দিতে যে কজন ডাক্তারকে দেখা যায় তার মধ্যে ডাক্তার লুৎফুন্নাহারের কথা না বললে উপজেলাতে করোনা প্রতিরোধের গল্প যেন অসমাপ্ত থেকে যায়। এই ভয়ঙ্কর মহামারীর সকল ভয়কে জয় করে সর্বোচ্চ সেবাটা দিয়ে যাচ্ছেন এই চিকিৎসক।

উপজেলাতে কেউ করোনা পজেটিভ হলে খুব কষ্ট পান তিনি। অতঃপর সেই রোগীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা, ওষুধ সরবরাহ এমনকি তার বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহে সাহায্য করা ও আক্রান্তদের পরামর্শ দিতে সবচেয়ে কাছে থাকা চিকিৎসকটি হচ্ছেন যশোরের চৌগাছা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার লুৎফুন্নাহার।

ভয় বা আতঙ্কিত হননি তিনি, এমনকি কখনো তাকে একটি পিপিই পরতেও দেখা যায়নি। মাস্ক,হ্যান্ড গ্লাভস আর গায়ে একটা ডাক্তারি গাউনেই চিকিৎসা দিতে দেখা যায় এই চিকিৎসককে। বিরক্ত হন না বরং উৎকণ্ঠায় থাকেন আর দোয়া করেন উপজেলায় কেউ যেন করোনা পজেটিভ না হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে ২০০৫ সালে ইন্টার্নি শেষ করেছেন।

পরবর্তীতে বিসিএস পাস করে সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২০১০ সালে চাকরিতে যোগদান করেন ডাক্তার লুৎফুন্নাহার । যশোর সদরের ইছালী সাব-সেন্টার তার প্রথম কর্মস্থল। তারপর ২০১৯ সালের মে মাসে খুলনার তেরোখাদা উপজেলায় ইউএইচএফপিও এবং ২০১৯ সালের ২১ ডিসেম্বর চৌগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি।

টিআইবি’তে কর্মরত শাহনুর রহমানের স্ত্রী ডা.লুৎফুন্নাহারের দুই মেয়ে এক ছেলে। শশুর শাশুড়ি, দেবর এবং তাদের ছেলে মেয়ে সকলকে নিয়ে থাকেন যশোর সদরে স্বামীর পৈতৃক বাড়িতে। বড় মেয়ে জারিন তাসনিম এবার এসএসসি দিয়েছে। মেজো ছেলে ইরফান ইফতেখার নার্সারী ও ছোট মেয়ের নুজহাত তাসনিম মাত্র দেড় বছর বয়সী।

সারাদিন পর সন্ধ্যায় যখন বাড়ি ফিরে আসেন ছোট মেয়েটা কোন কথাই শুনতে চায় না। দৌড়ে এসে কোলে উঠে বলছিলেন তিনি। আমার বাচ্চা তিনটা নিয়ে খুব ভয়েতে থাকি, বলছিলেন চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফুন্নাহার।

ভয় তিনি পেতেই পারেন ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি তো শুধু একজন চিকিৎসক নন তিন সন্তানের মাও বটে। তাইতো সারাদিন করোনাসহ বিভিন্ন রোগের সাথে যুদ্ধ অসুস্থ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য শেষে যখন একজন মা হয়ে বাড়িতে আসেন তখনই সৃষ্টিকর্তার কাছে বাচ্চাদের সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।আমরাও এই করোনা যোদ্ধার জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া প্রার্থনা করি। সৃষ্টিকর্তা যেন করোনা যুদ্ধের এই সম্মুখযোদ্ধাকে তার পরিবার পরিজনসহ রোগমুক্ত রাখেন। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৯ মে, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

six + 17 =