English Version

পাহাড় ধস মোকাবেলায় মাঠে নেমেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙ্গামাটি: জুন মাস এলেই বৃষ্টি পড়লেই রাঙ্গামাটিতে বেড়ে যায় পাহাড় ধসের আতঙ্ক। ২০১৭ সালের ১৩ জুন প্রবল বর্ষণে রাঙ্গামাটি সদরসহ জেলায় ভয়াবহ পাহাড় ধসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি জানমালে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। পরে ২০১৮ সালের জুন মাসে পাহাড় ধসে ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুনে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৭২০ পরিবার। রাঙ্গামাটিতে জুন মাসকে নিয়ে সৃষ্টি হয় এক ইতিহাস। হাজার হাজার মানুষের হাহাকার দেখা গেছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনে। আর যেন অতীতের মত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারেও করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি পাহাড় ধসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে লোকজনের জানমালের নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণস্থানে সাইনবোর্ড ঝুলানো এবং সচেতনার জন্য ঘরে ঘরে ঘুরে লিফলেট বিতরণে অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একেএম মামুনুর রশিদ। বৃহস্পতিবার (২ জুন ২০২০) রাঙ্গামাটির রূপনগর, শিমুলতলী, নতুনপাড়া, মনতলা, নতুনপাড়া, যুব উন্নয়ন এলাকাসহ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতে সচেতনমূলক সাইনবোর্ড বসিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একেএম মামুনুর রশিদ। আরো উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট পল্লব হোম দাশ, পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবিমোহন চাকমা, আশিকার বিপ্লব চাকমাসহ অন্যান্যরা।

এসময় জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাহাড় ধস মোকাবেলার অন্যান্য পদক্ষেপের ন্যায় শহরের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সাইনবোর্ড বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতনা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। যাহাতে জনগণ পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে জান-মালের রক্ষা করতে পারে সেজন্য দফায় দফায় মাইকিং করে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটিতে করোনা পরিস্থতি মোকাবেলার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাহাড় ধস মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছে। পাহাড় ধসের কয়েকেটি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শহরের ৩২ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৫ হাজারে অধিক পরিবার বসবাস করে। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ সর্বাত্মক চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, রাঙ্গামাটিতে ২০১৭ সালের ১৩ জুন সদরসহ জেলায় প্রবল বর্ষণে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানিসহ প্রায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৭২০ পরিবার। এতে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির সাধন হয়েছিল। এর পরে ২০১৮ সালের জুন মাসে ১১ জন এবং ২০১৯ সালের জুনে ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৪ জুন, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 − eleven =