English Version

প্রশাসনের নিরবতায় ইট ভাটায় অবাধে পুড়ছে কাঠ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের বোদায় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে গাছ পুড়ানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা না ভেবেই প্রভাব খাটিয়ে ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলছে গাছ নিধনের মহাযজ্ঞ।

ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে শত ভাগ কয়লা ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও বোদার ব্যাংহাড়ি ইউনিয়নের মানিকপীর এলাকার ডিওবি ব্রিকস ও মৌলভীপাড়া এলাকার এসআরবি ব্রিকস নামের ইট ভাটায় প্রতিদিন ট্রাক্টরে করে শত শত মন গাছ আনা হচ্ছে। ২০১৭ সালে গড়ে উঠা ডিওবি ইট ভাটায় এখন পর্যন্ত কয়লা ব্যবহার করা হয়নি কখনো।

তিন বছর থেকে গাছ পুড়ানো হলেও পরিবেশ অধিদফতর ও প্রশাসনের পক্ষে থেকে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। এসআরবি ব্রিকস ভাটায় ইতিপূর্বে কয়লা ব্যবহার হলেও এই মৌসুমে কয়লার পরিবর্তে গাছের মজুদ বাড়ানো হচ্ছে।

বুধবার সরেজমিনে ভাটা দুইটিতে গিয়ে দেখা যায়, কাঠ দিয়ে ভাটায় আগুন দেয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ট্রাক্টর গাছ পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ইউনিয়নে মোট চারটি ভাটা রয়েছে। অপর দুইটিতে কয়লা ব্যবহার করা হয়।

শুধু তাই নয় ডিওবি ব্রিকস ভাটার পূর্ব দিকে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে ভাটায় আনা হচ্ছে। যদিও আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভাটার দেখভালের দায়িত্বে থাকা একই ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মনছুর প্রভাব খাটিয়ে ও রাজনৈতিক মদদে প্রকাশ্যেই পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে চলছে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার। এতে ক্রমেই ওই এলাকায় কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।

অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে (২০১৩) রয়েছে, কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাঁচামাল হিসেবে তা ব্যবহার করতে পারবে না। এ আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে প্রশাসনের নজরদারি নেই।

ভাটায় গাছ ও ফসলি জমির মাটি পরিবহনের ছবি তোলার সময় ডিওবি ইট ভাটার ম্যানেজার সালু এগিয়ে এসে প্রতিবেদককে ছবি তোলা বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগ করেন। কয়লা কেন পুড়ানো হচ্ছে না প্রশ্ন করলে সালু জানান আগামী সপ্তাহে কয়লা আসবে। ভাটা নির্মাণের পর থেকে গত ৩ বছরে কখনই কয়লা পুড়ানো হয়নি কেন বলার পর আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি সালু। ভাটার মালিকের ফোন নাম্বার চাইলেও তা না দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

সাবেক ইউপি সদস্য ও এই ভাটার সার্বিক দায়িত্বে থাকা মনছুর জানান, কয়লা আসতে কিছু দিন দেরী হবে। আর্থিক কিছু সমস্যা থাকায় এখনো কয়লা আনা হয়নি। কৃষি জমির মাটি ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে মনছুর প্রতিবেদককে উৎকোচ দেয়ার চেষ্টা করেন।

এসআরবি ব্রিকসের মালিক হামিদার রহমান মুঠোফোনে জানান, তিনি রংপুরে আছেন, ফিরে এসে যোগাযোগ করবেন। এবং ভাটায় গাছ পুড়ানোর বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। পঞ্চগড় জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান মুঠোফোনে বলেন, আপনি ভাটার অবস্থান ও মালিকের নামসহ টেক্সট করে দিন আমি স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিব।

বোদা উপেজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী বলেন, ইট প্রস্তুতের জন্য কোথাও না কোথাও থেকে মাটিতো আনতেই হবে। প্রতিবেদক এই সময় কর্মকর্তাকে ইট প্রস্তুতের জন্য ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অবগত করার পর তিনি বিষয়টি খোঁজ নিবেন বলে জানান। ভাটায় কাঠ পুড়ানো বন্ধের ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২৬ নভেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

4 × 4 =