English Version

বশেমুরবিপ্রবিতে অচলাবস্থা পার করলো সপ্তাহ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

ফয়সাল হাবিব সানি, গোপালগঞ্জ: টানা এক সপ্তাহজুড়ে উত্তাল আন্দোলন আর বিক্ষোভের তীব্রতায় অচল হয়ে পড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)। সম্পূর্ণভাবে বিভাগ অনুমোদনের দাবিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে চলমান এ আন্দোলন এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ছাড়িয়ে আজ অষ্টম দিন অবধি অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ৭টায় মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে তাদের আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলেন। এছাড়াও, টানা ৭দিন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে নানান প্রতিবাদী স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন উত্তপ্ত করে রাখেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনে তালা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে সমস্ত শিক্ষা কার্যক্রম। এমতাবস্থায়, পুরোপুরিই অচলাবস্থা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমন উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে সেশনজটের আশঙ্কায় বিপাকে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও।

অপরদিকে, পর্যাপ্ত শিক্ষক, প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা ও পরিমাণসাপেক্ষ ক্লাসরুম সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষে ৭ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউটের আন্দোলন প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহজাহান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন কোনোরকম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেই শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক অবকাঠামো সুবিধাসহ সকল সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পরই এই ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হলেও সাবেক উপাচার্যের গাফিলতিতে আগেভাগেই তা শুরু করা হয়। এসময় শিক্ষক সংকট, নিজস্ব ক্লাসরুম না থাকায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউটে ভর্তি কার্যক্রমও বন্ধ করা হয় বলে জানান তিনি।

ওই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা নানান অভিযোগ করে বলেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকটের দরুণ প্রতি সেমিস্টার ৬ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও প্রতি সেমিস্টার শেষ করতে তাদের ১০ মাসের মতো সময় লেগে যাচ্ছে, যাতে করে বারবারই সেশনজটের সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। এতে করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা, হতাশা আর দুর্দশার মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন তারা। একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে তা তাদের জন্য খুবই লজ্জাজনক এবং হতাশাব্যঞ্জক উল্লেখ করে তারা তাদের নিজস্ব অভিমত ব্যক্ত করেন।

বলা বাহুল্য, এক খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে সকল কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। যতো দিন গড়াচ্ছে, ততোই এই অচলাবস্থা আরও তীব্রতর আকার ধারণ করছেন বলে ধারণা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষার্থী এবং বিজ্ঞমহলের। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

13 + nineteen =