English Version

বিশ্বম্ভরপুরে আবুল হোসেন হত্যাকাণ্ডটি ৪ লাখ টাকায় রফাদফা হলেও নিস্পত্তি হয়নি

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থানার সলুকাবাদ ইউনিয়নের পুরান মথুরকান্দি গ্রামে আবুল হোসেন (৩২) নামের এক বারকী শ্রমিককে খুন করে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে আপোস করা হলেও শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি নিস্পত্তি হয়নি।

জানা গেছে, পুরান মথুরকান্দি গ্রামের কৃষক অলফত আলীর ঐ পুত্রকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে, ১০ মে রবিবার বেলা ১টায় বেদম মারপিটক্রমে গুরুতর আহত করে একই গ্রামের আব্দুর রশীদের পুত্র নাসির মিয়া ও তার সহযোগীরা। মারপিটের কারণে আবুল হোসেন বুকের পাজর ও কানে জখমপ্রাপ্ত হয়। ঐদিন বিকেল ৪ টায় জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে সে মারা যায়।

এসআই মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে বিশ্বম্ভরপুর থানার একদল পুলিশ লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতের পর জেলা সদর হাসপাতালে লাশটির ময়না তদন্ত হয়। লাশ দাফনের পর নাসির মিয়ার পক্ষে তার নানা কিতাব আলী, নিহতের পিতা অলফত আলীকে আপোস নিস্পত্তির প্রস্তাব দেন। অলফত আলী নিহতের সন্তানাদিসহ অবলা বিধবা স্ত্রীর কথা চিন্তা করে এতে রাজী হয়ে যান।

থানা পুলিশে মামলা মোকদ্দমা না করার শর্তে ১৪ মে ৪ লাখ টাকায় আবুল হোসেন হত্যাকাণ্ডটি নোটারী পাবলিক বরাবরে অঙ্গীকারনামা সম্পাদনের মধ্যে দিয়ে আপোস নিস্পত্তি হয়। ঐদিনই নাসির মিয়ার পক্ষ থেকে নগদ এক লক্ষ টাকা প্রদান করা হয় নিহতের পরিবারকে। বাকী টাকা ২৯ মে দেয়ার সিদ্বান্ত হয়। কথিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেয়া হয়, নিহত আবুল হোসেন এর স্ত্রী শিউলি বেগম, ভাই জাকির হোসেন ও পিতা অলফত আলীর।

রতারগাঁও গ্রামের রাহুল মিয়ার পুত্র রাসেল মিয়া, পুরান মথুরকান্দি গ্রামের মৃত জাহের আলীর পুত্র শাহজাহান মিয়া, একই গ্রামের মোঃ জালাল মিয়া ও সাবেক মেম্বার মো: শফিকুল ইসলাম অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। এডভোকেট মোহাম্মদ মানিক মিয়া বলেন, আদালত চালুর পরে বাদিনীর ২০০ ধারার জবানবন্দী নিয়ে আমরা যথারীতি বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করবো।

আপাতত মামলাটি আমাদের চেম্বারে প্রস্তুত রয়েছে। থানা পুলিশে কেন মামলা দায়ের করেননি এ প্রশ্নের জবাবে নিহত আবুল হোসেন এর পিতা মাতা ভাই ও স্ত্রীসহ পরিবারের লোকজন বলেন, আমাদের পরিবারের প্রধান খুন হয়েছেন। কিন্তু খুনীরা থানা পুলিশের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রেখে চলছে। তারা আমাদেরকে একদিকে থানায় যেতেই দিচ্ছেনা পাশাপাশি আবুল হোসেন স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে পুলিশকে দিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

এসআই মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি সুরতহাল করতে গিয়ে লাশের গায়ে কোন জখম পাইনি। জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ময়না তদন্ত রিপোর্ট অলরেডী প্রস্তুত করে ফেলেছি। পুলিশ চাইলেই রিপোর্ট নিতে পারে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ২ যুবক বলেন, বারকী শ্রমিক আবুল হোসেনকে নাসির মিয়া আমাদের সামনেই বেদম কিলঘুষি ও লাথি মেরেছে।

অভিযুক্ত নাসির মিয়ার মোবাইলে কল করলে সে জানায়,আমরা দুজনের মধ্যে মারামারি হয়েছে। আমি ও আমার বাবা চার লাখ টাকা দিয়ে আপোসনামা করে নগদ এক লক্ষ টাকা নিহতের পরিবারকে দিয়েছি। বাকী ৩ লাখ টাকা ২৯ মের মধ্যে পরিশোধের জন্য আমরা অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছি। এখন উপজেলা চেয়ারম্যান বলেছেন তিনি বিষয়টি দেখবেন তাই আমরা টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছি।

তাহিরপুর থানার ওসি মাহবুবুল আলম বলেন, ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগে এটা একটা হত্যাকাণ্ড বলা যাবেনা। তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি আবুল হোসেন স্ট্রোক করে মারা গেছেন। সুরতহাল রিপোর্টও সেভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি কোনো দিকে মোড় নেয় সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৩ জুন, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

16 − fifteen =