English Version

বয়ফ্রেন্ড বনাম সাংবাদিক- হাসির কৌতুক

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে ঈদ মার্কেট করছি এমন সময় এক সাংবাদিক সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করলো ” ভাবীকে নিয়ে ঈদ কেনাকাটা কেমন চলছে?” সাংবাদিককে বললাম ” ভাবী হইলে কবে তালাক দিতাম!” সাংবাদিক আমার উত্তর শুনে মুখের কাছে থেকে মাউথপিস সরিয়ে নিবে এমন সময় নিজেই উনার হাত থেকে মাউথপিস কেড়ে নিয়ে বলা শুরু করলাম,

“ডিয়ার দেশবাসী ভাই ও বোনেরা, গার্লফ্রেন্ড পালা আর হাতি পালা সমান কথা। এই ঈদে আব্বার হাত পা ধরে পাঁচ হাজার নিয়েছিলাম নিজের মার্কেট করবো বলে। কিন্তু গার্লফ্রেন্ড কে কিনে দিতেই চার হাজার টাকা শেষ।”

পায়ের ছেড়া স্যান্ডেল খুলে ক্যামেরার সামনে গিয়ে ধরে বললাম, ” এই যে দেখুন আমার স্যান্ডেলের অবস্থা। প্রত্যেকদিন ছিঁড়ে গেলে মুচির কাছে যাই সেলাই করতে। কালকে রাগ করে মুচি বলেই দিয়েছে। ভাই দয়া করে তুই আমার স্যান্ডেলটা নিয়ে যা তাও আর এই স্যান্ডেল আনিস না।”

গায়ে দেওয়া শার্টের কিছু অংশ উপরের দিকে তুলে ক্যামেরার সামনে ধরে বললাম , “এই দেখুন বেল্টের যায়গাতে রশি দিয়ে বেঁধেছি। অনেকদিন আগেই প্যান্টের বেল্ট ছিঁড়ে গেছে। ভেবেছিলাম এবার ঈদে একটা বেল্ট কিনবো। কিন্তু গার্লফ্রেন্ড কে দিতে দিতে টাকাই শেষ।

দোকানদার গুলোর কথা আর কি বলবো। মেয়ে মানুষ নিয়ে দোকানে ঢুকলেই বিশ টাকা দামের জিনিশ দুইশত টাকা হয়ে যায়। আরে ভাই বাংলাদেশে তিনশো টাকার এনার্জি বাল্ব যদি দুইশ টাকা ছাড়ে দিতে পারে কোম্পানির প্রচারের জন্য তাহলে তোরা কেনো এই গরীব দেশের অভাগা প্রেমিকদের জন্য ছাড় দিবি না? এই দেশে কি বিচার নাই?

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

আপনারা ভাবছেন আমার গার্লফ্রেন্ড আমাকে কিছু দেয়নি?

হ্যাঁ দিয়েছে। এই যে শাহ্‌ আমানতের লুঙ্গি আর ছয় হাতের গামছা। গার্লফ্রেন্ড কিনে দেওয়ার সময় কি বলেছে জানেন? গরমের এই সময় বাতাসের প্রবাহ ভালো চলাচল করার জন্য নাকি তার এই ব্যতিক্রমধর্মী উপহার। সাথে আরো বলেছে ওর যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে বাংলাদেশের সব প্রেমিকাকে বলে দিতো ঈদ উপলক্ষে তাদের প্রেমিককে লুঙ্গি উপহার দিতে। “

আরো কিছু বলতে যাবো এমন সময় সেই সাংবাদিক আমার পা ধরে বলল, ” ভাই আপনার দোহাই লাগে ভাই এই ঈদে আমার চাকরীটা খাইয়েন না। যা বলার ইতিমধ্যে লাইভে বলে ফেলেছেন।”

সাংবাদিকের কথা শুনে কলিজা শুকিয়ে গেলো। আব্বা সারাদিন টিভি দেখে। যদি কোনোভাবে এই সংবাদ দেখে ফেলে তাহলে ঈদ এবার পিঠের উপরে উঠবে। এরমধ্যে দেখি পকেটে ফোন বেজে উঠলো। বের করে দেখি আব্বার ফোন। ভয়ে শরীর কাঁপতে লাগলো। পাশে তাকিয়ে দেখি গার্লফ্রেন্ডও দৌড় দিছে। ফোন রিসিভ না করে রেখে দিলাম। একটু পর দেখি আব্বা মেসেজ দিয়েছে।

” বাবা, আজকে মুখফুটে যে সত্য কথা বলেছিস এটা লক্ষ প্রেমিকের মনের কথা। রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে নির্ঘাত তোকে নিয়ে কবিতা লিখত। মন খারাপ করিস না উনি বেঁচে নেই বলে। তোর মতন সাহস আজ থেকে বিশ বছর আগে আমার থাকলে তাহলে প্রত্যেকদিন তোর মায়ের ঝাড়ি খেতে হতো না। যাইহোক বাবা আবেগে অনেক কিছুই বলে ফেলেছি তাড়াতাড়ি বাড়ি আয়।” বিডিটুডেস/আরএ/১৯ জুলাই, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

18 − seventeen =