English Version

ভারসাম্যহীন এক অসুস্থ্য নারী বনাম মানবিক পুলিশ

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি এম মিঠন, নওগাঁ: আমি নিজ চোঁখে-দেখেছি মানবিক পুলিশ। অতি সম্প্রতি মানসিক ভারসাম্যহীন ও অজ্ঞাত অসুস্থ্য এমনকি প্রস্রাব-পায়খানা মাখা শরীর নিয়ে বাজারের মধ্যে বেশ কয়েক দিনধরে একটি গাছের নিচে শীতের মধ্যে পড়ে থাকা নারী আনুমানিক (৫৫) কে যখন পথচারী বা বাজারের অনেকেই এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, এমনকি অনেকেই নিজের নাক ঢেকেও যাচ্ছিলেন। সেই মানসিক ভারসাম্যহীন, প্রস্রাব-পায়খানা মাখা অসুস্থ্য নারীটির খাবারের ব্যবস্থাসহ সেবাযত্ন করেই অনেকটা সুস্থ্য করে তোলেন একজন কনেস্টবল।

এ ঘটনাটি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চৌমাশিয়া নওহাটামোড় বাজারে অতি সম্প্রতি একটি মানবিক ঘটনা। ঐ বাজারের মধ্যে মহা-সড়কের ধারে একটি গাছের নিচে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অসুস্থ্য, প্রস্রাব-পায়খানা মাখা শরীর নিয়ে কয়েক দিনধরে পড়ে থাকা নারীটি দিনদিন শীতের মধ্যে খোলা স্থানে পড়ে থেকে আরো অসুস্থ হয়ে পরছিলেন সেই নারীটির কাছেই গিয়ে বসেন নওহাটামোড় পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ কনেস্টবল সরোয়ার।

এখানেই শেষ না, পুলিশ কনেস্টবল সরোয়ার (যেহতু-নারীটি কারো দেয়া খাবার তেমন খান না এবং কথাও বলেন না কারো সাথে) এজন্য, কৌশল খাটিয়ে আস্তে আস্তে নারীটিকে কথা বলাতে সফল হোন কনেস্টবল সরোয়ার এবং এক পর্যায়ে বলেন, যে এ গাছের নিচে তোমাকে শীত-ঠাণ্ডা লাগে কিনা উত্তরে মাথানেরে হাঁ সূচক জানানোর পাশাপাশি মুখ দিয়েও নারীটি তার কষ্টের কথা বলতে শুরু করেন।

ঘটনার সময় ১৩ ফেব্রুয়ারী রাত সারে ৮ টার দিকে প্রতিবেদক নিজে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থেকে বিস্তারিত ঘটনাটি দেখছিলেন। কনেস্টবল সরোয়ার ভারসাম্যহীন নারীটি’র কথা শোনার জন্য মড়িয়া হয়ে ওঠেন এবং একের পর এক কৌশলে কথা বলায় ভারসাম্যহীন নারীটি ও সম্ভাব্য বুঝতে পারে যে, সে তার ক্ষতি বা মারপিট করবে না। এমন ধারণা থেকেই হয়তবা তার মুখদিয়ে অনবরত কথা বেড়িয়ে আসতে থাকে।

ভারসাম্যহীন নারীটি জানায়, আমারে মানুষ শুধুই মাইর দেয় খাইতে দেয়না, কম্বল ফেলে দিয়ে সহ আরো অনেক করুন কাহিনী বিরবির করে বলতে থাকলে সে সময় কথাগুলো শুনে ঠিক থাকতে পারেননি পুলিশ কনেস্টবল সরোয়ার সাথে সাথে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, আমি যদি খাবার দেই সে খাবার কি তুমি খাবে এবং খাবার খেলে তুমি সুস্থ্য হয়ে উঠবে।

ভারসাম্যহীন নারীটি বলেন, আমি গরুর গোস্তদিয়ে খাইতে মন চাইলেও না দিয়ে আমারে মাইর দেয়। এমন কথা শোনার পর সাথে সাথে লোক পাঠিয়ে হোটেল থেকে গরুর গোস্ত ও ভাতসহ পানি এনে দিলে একজন প্রকৃত ক্ষুধার্ত মানুষ যেভাবে খাবার খায় (যা লিখে বুঝানো সম্ভব না) তেমনিভাবে খাবার খেলেন। খাবারের পর যেন নারীটি কিছুটা হলেও সুস্থ্যতাবোধ করলেন এবং আরো ভালো করে কথা বলতে শুরু করলেন, এরি ফাঁকে ঘটনাস্থলে আরো লোকজনও জড়ো হলেন।

এসময় রাতেই কনেস্টবল সরোয়ার তার শিশু সন্তানের জন্য কেনা একটি কম্বল মানসিক ভারসাম্যহীন নারীটিকে দেন, যা পেয়ে ঐ নারী বিরবির করে আবারো বলেন, কারানিবেনা-তো বলেই জড়িয়ে নেয় শরীরের সাথে। এক পর্যায়ে কনেস্টবল সরোয়ার স্থানিয় বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মোঃ ইনছের মোল্লাকে ডেকে নিয়ে বাজারের যাত্রী ছাউনীতে রাত্রী যাপনের বা থাকার ব্যবস্থা করেন এবং সভাপতি নিজেও পুলিশের এ উদ্যোগ নেয়া দেখে তার কারখানা থেকে বিছানোর জন্য চটের বস্তা পাঠিয়ে দেন।

এরপর পুলিশ কনেস্টবল এর কথামতো চলা ও শরু করেন মানসিক ভারসাম্যহীন নারিটি এবং তাকে নিয়ে রাখা হয় যাত্রী ছাউনীতে। যা দেখে উপস্থিত অনেকেই বলেন, এখনো এমন ভালো মানুষের জন্যই দুনিয়াটাই টিকে আছে। তবে ১৪ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সেই নারীটি তূলনামূলক পূর্বের থেকে অনেকটাই সুস্থ্য আছেন এবং সেই পুলিশ কনেস্টবল সরোয়ার এর দেয়া খাবারই ফের খেয়েছেন বলেও স্থানিয়রা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদক নিজ চোঁখেই দেখেছেন সেই মানবিক পুলিশ কনেস্টবলকে। তবে মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও নারীটি সুস্থ্যতাবোধ করার পাশাপাশি তার নাম বা ঠিকানা বলার চেষ্টাও করছেন এমনকি নিজের নাম জমিলা বা ফজিলা বেগমসহ তার ছেলে ও মেয়ে আছে রাজশাহীর রাজপাড়া থানার কাছে সহ থানার পুলিশ খাবার দিয়েছিলো এমন সব আরো অনেক কথাও মনে পড়েছে ইতি মধ্যেই বলেও জানিয়েছেন স্থানিয়রা।

এজন্য তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ্য করে তোলা সম্ভব বলেও মনে করছেন স্থানিয়রা। কিন্তু কে নিবে কার খোঁজ সে যে পাগল বা পাগলী। পুলিশ কনেস্টবল তার ডিউটি’র ফাঁকে যেটুকু সময় পাচ্ছেন সেই সময়ে এসে তার খাবারের ব্যবস্থা করছেন। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

fifteen − seven =