English Version

মাঘের শীতে বাঘ কান্দে বাহে

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

হরিদাস রায়, ডোমার (নীলফামারী): পৌষের শেষ সপ্তাহ থেকেই ঘনকুয়াশা আর প্রচণ্ড শীতের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঘের শুরু থেকেই শীতের দাপটে জেরবার হয়ে পরেছে জেলার ডোমার উপজেলার মানুষ। প্রচণ্ড শীতে নাকাল হয়ে হয়ে পরেছে উত্তরের সর্বশেষ উপজেলা ডোমার।

গত প্রায় দশদিন থেকে শৈত্য প্রবাহে মানুষজন বির্পযস্ত হয়ে পরেছে। ঠাণ্ডার কারণে বেকায়দায় পরেছে ছিন্নমুল মানুষ। অসহায় হয়ে পরেছে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় মানুষের পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশুপাখি নিয়ে বেকায়দায় পরেছে মানুষ। সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টির মত টিপটিপ করে ভারী কুয়াশা পরছে।

রাতের বেলা বৃষ্টির মত ঝড়ছে কুয়াশা। ঘন কুয়াশার সাথে উত্তরের হিমেল বাতাস আর কনকনে শীতে জবুথুবু হয়ে পড়েছে মানুষ আর চরম দূর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ। তীব্র শীতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষজন কাজে যেতে না পেরে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। শৈত্য প্রবাহ আর ঘন কুয়াশার কারণে সুর্যের দেখা মেলেনি এক সপ্তাহ থেকে।

দিনের বেলাতেও কুয়াশার কারণে ভারী যানবাহনগুলোকে হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তা-ঘাটে লোকজন চলাচল কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাহিরে বের হচ্ছে না। অনেকেই খড়-কুটে জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। শীত নিবারন করতে গরম কাপড় সংগ্রহে নিম্ন আয়ের মানুষরা পৌরসভা বাজার ও রেললাইনে পুরানো কাপড়ের বাজারে ভীড় করছেন। শীত বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি বেড়েছে পুরাতন রেললাইনের ধারে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে।

এদিকে প্রচণ্ড শীত আর হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পরেছে ঝুপরি ঘড়ে থাকা মানুষজন এই ঠাণ্ডায় তারা পড়েছে চরম বিপাকে। ঝুপরি ঘড়ে থাকা এক বৃদ্ধা জানান, প্রচণ্ড শীত আর বাতাসে সারারাত বসে রাত কাটাতে হচ্ছে। মাঘের শীতে বাঘ কান্দার মত অবস্থা হইছে হামার। এই শীতে ঝুপড়ি ঘড়ে থাকা আর যাছে না বাহে।

এবার শীতের শুরু থেকেই শীতের দাপট দেখা দিয়েছে সর্বত্র। পৌষ মাসে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও শেষ সপ্তাহে শীত এতটাই ছিল যে অনেক মানুষ বলছেন স্মরণকালের সবচেয়ে ঠাণ্ডা এবার হচ্ছে। আর মাঘের শুরু থেকেই শীতের তীব্রতা আরো বেড়ে গেছে। এই রকম ঠাণ্ডা অনেকদিন দেখেননি বলে জানিয়েছেন বড় রাউতা গ্রামের আব্দুল মজিদ।

তিনি বলেন, ঠাণ্ডার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পরেছেন। রকি নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই ঘন কুয়াশার কারণে দোকান বন্ধ করে বাড়ী যেতে কষ্ট হচ্ছে। সামনে কে রয়েছে কুয়াশার কারনে লাইট জ্বালিয়েও তা দেখা যাচ্ছে না।

ঘন কুয়াশার কারণে নষ্ট হচ্ছে বীজতলা নানা রোগ দেখা দিয়েছে আলু ক্ষেতের। শীতের তীব্রতার কারণে শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বিডিটুডেস/এএনবি/ ৩১ জানুয়ারি, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty − sixteen =