English Version

মানবিক পুলিশ ইউনিট’র মানবিকতা বনাম অসহায়, ভারসাম্যহীন ও বেওয়ারিশদের আস্থা!

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জি এম মিঠন, নওগা: মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি’র মানবিকতায় যেন সমাজের শত শত অসহায়, ভারসাম্যহীন ও বেওয়ারিশদের একমাত্র আস্থা…! মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি’র টিম লিডার শওকত হোসেন এর নেতৃত্বে (মানবিক পুলিশ ইউনিট, সিএমপি’র) সদস্যরা তাদের (নিজ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি) একের পর এক যে সেবামূলক কাজ করেই চলেছেন, তা আমি বা কোনো সংবাদকর্মীর দ্বারা লিখে বা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেই আমি নিজে মনে করছি।

এ মানবিক পুলিশ ইউনিট এর উদ্যোগে, দরিদ্ররা পাচ্ছেন চিকিৎসা, হতদরিদ্ররা পেয়েছেন ত্রাণ সামগ্রীও তার চেয়েও বেশী উপকৃত হয়েছেন সমাজের সবচেয়ে মানুষের কাছে অবহেলীত সহ এমনকি অনেকের দ্বারা নির্যাতীত পথে-ঘাটে ঘুড়ে বেড়ানো শত শত বেওয়ারিশ ও মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ, বৃদ্ধা ও কিশোর-কিশোরী সহ শিশুরা।

যেখানেই কোনো বিপদগ্রস্থ্য বা অসুস্থ্য লোকজনের খোঁজ পেয়েছেন, সাথে সাথে এ মানবিক পুলিশ ইউনিট খোঁজ নিয়ে যেভাবেই হোক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন, প্রয়োজনে মাসের পর মাস নিজ খরচে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলছেন সমাজের অসহায় দরিদ্র, মানসিক ভারসাম্যহীন বেওয়ারিশ মানুষকে যা নজিরবিহীন এক মানবিকতার কাজ।

কয়েক মাস পূর্বে চট্রগ্রামের পতেঙ্গাতে ময়লার স্তুপ থেকে মধ্যরাতে এক মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরীকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় ভারসাম্যহীন কিশোরীটি অসুস্থ্য পায়ে ঘায়ের সৃষ্টি ও পোকা দিয়েছিলো এবং গর্ভবতী ছিলেন কিশোরীটি। মানবিক পুলিশ ইউনিট তাকে উদ্ধারপূর্বক হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তাদের পেইজএ ঘটনাটি প্রকাশ করার পরই কিশোরীটির স্বজনরা জানতে পারেন এবং কিশোরীর ভাই নিজে মানবিক পুলিশ ইউনিট এর সাথে যোগাযোগ করেন, পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ হওয়া ঐ কিশোরীও তার ভাইকে চিনতে পারলে কয়েক বছর পর কিশোরীটিকে তার পরিবার ফিরে পান।

সর্বশেষ-সীতাকুণ্ডের কদম রসূলের আবর্জনার স্তুপের পাশ থেকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বেওয়ারিশ ব্যক্তিকে স্থানীয় রবিন ও রুবেল নামে দু’যুবক উদ্ধার করে মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি বরাবর রেখে চলে যায়৷ এ বেওয়ারিশ লোকটির ডান হাতের কব্জি পুরো পঁচে পোকা জন্ম দেওয়ার কারণে হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত খসে পড়ছে।

কিন্তু দুভার্গ্য যে, কেউ তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি। এই বেওয়ারিশ অসহায় লোকটির চিকিৎসার দায়িত্বও নেয় মানবিক পুলিশ ইউনিট৷ প্রাথমিকভাবে ড্রেসীং করার পর তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে, চলছে চিকিৎসা, খরচ বহন করছেন মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি। এর পূর্বের ঘটনাটি আরো অমানবিক-চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি কর্নারেও পড়েছিলেন বেওয়ারিশ এক মহিলা, যে মহিলার সারা শরীর পোকা ধরেছিলো, এমনকি মহিলাটির গোপনঅঙ্গে, উরুতে, হাটুতে, পেট, চোখ, কান এক কথায় সারা শরীর পোকায় ভড়েছিলো।

এ অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে পানিতে ভিজায় মহিলাটি আশংখ্যা জনক বলা চলে জীবন যাওয়ার প্রহর গুণছিলো, তাকে হাজারো লোকজন দেখলেও কেউ এগিয়ে যাননি তার কাছে, হাসপাতালটির কোথাও তার থাকার একফুট জায়গা মিলেনি। অবশেষে সেই মহিলার চিকিৎসারও দায়িত্ব নেন মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি।

তার পূর্বের ঘটনাটিও প্রায় একই রকম, বন্দর এলাকার ময়লার স্তুপের পাশে পড়ে ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন একজন খবর পেয়ে সেখান থেকে তুলে এনে মানবিক পুলিশ ইউনিটের মাধ্যমে চট্রগ্রাম মেডিকেলের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে দীর্ঘ ৩ মাস ধরে চিকিৎসা করিয়ে প্রায় সুস্থ করে তোলেন মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি। এ ৩ মাসে তার খাবার, ঔষধ, অপারেশন, ড্রেসীং, ক্লীনীং সব কিছু মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি বহন করেন৷

তিন মাসে অনেকটা সুস্থতাবোধ করায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রিলিজ দিয়েছে, তারপরও তার হাতের ক্ষতে এখনো কিছুদিন ড্রেসীং বাকি রয়েছে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রিলিজ দেওয়ার কারণে বেওয়ারিশ অসুস্থ ব্যক্তিটিকে মানবিক পুলিশ ইউনিট’এর নিজস্ব রাখার জায়গা না থাকায় সে সময় ইউনিট এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থায় যোগাযোগ করা হয় রাখার জন্য, কিন্তু কেউ রাজি হয়নি যা বেদনা দায়কই বটে।

এখানেই শেষ না, মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি’ এর টিম লিডার শওকত হোসেন এর নেতৃত্বে এমন শত শত মানসিক ভারসাম্যহীন ও বেওয়ারিশ বৃদ্ধ, বৃদ্ধা, কিশোর- কিশোরী, যুবক-যুবতী সহ হতদরিদ্র, সমাজের অসহায় মানুষদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া সহ বিপদগ্রস্থ্য অসহায় মানুষদের ত্রাণ সামগ্রী ও দিচ্ছেন এবং পাশাপাশি বৃদ্ধ কর্মজীবিকেও মানবিকতার টানে আর্থিক সহযোগিতা করেই চলেছেন মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি, যা প্রতিবেদনে লিখে প্রকাশ করা সম্ভব হবে না।

তবে- মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি’র সদস্যদের সহযোগিতায় শত শত বিশেষ করে যে বেওয়ারিশ মানুষ সহ মানসিক ভারসাম্যহীনরা সিকিৎসা সেবা ও খাবার সহ ঔষুধ সবই পাচ্ছেন, অনেকটায় সুস্থতাবোধ ও করছেন অনেকেই। কিন্তু এতো কিছু করার পরও বেওয়ারিশ সহ মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ার কারণেই এক সময় না এক সময় ফের তাদের স্থান আবাও হচ্ছে রাস্তায়। এদের আশ্রয় দিতে চায়না কোনো ব্যক্তি বা দেশের কোনো সংগঠন।

এমতবস্থায় একটি বেওয়ারিশ হাসপাতাল, বা বেওয়ারিশ পুনর্বাসন কিংবা শেড খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি’র টিম লিডার জনাব শওকত হোসেন—(মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি)।

জয় হোক মানবিকতার, মানবিক পুলিশ ইউনিট, সিএমপি, এগিয়ে চলুক মানবিকতায় আরো সামনে, একই সাথে তাদের দাবি বেওয়ারিশ ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের জন্য সরকারীভাবে বা বে-সরকারীভাবে অথবা দেশের কোনো দানশীল ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় হলেও যেন অতিদ্রুত একটি বেওয়ারিশ বা ভারসাম্যহীনদের জন্য, হাসপাতাল, পুনর্বাসন বা সেড যেন নির্মাণ করা হয় প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে রইল শুভ কামনা। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 + eighteen =