English Version

মাভাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হলো ন্যাশনাল এগ্রি-এনভায়রনমেন্ট অলিম্পিয়াড-২০২১

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সাইফুল মজুমদার, মাভাবিপ্রবি: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) আন্তর্জাতিক সংগঠন ইয়াস বাংলাদেশ মাভাবিপ্রবির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বৃহৎ পরিসরে “ন্যাশনাল এগ্রি-এনভায়রনমেন্ট অলিম্পিয়াড-২০২১” আয়োজন করা হয়।

২৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৬ টায় অলিম্পিয়াডটির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ন্যাশনাল এগ্রি-এনভায়রনমেন্ট অলিম্পিয়াডে এ মোট পাঁচটি বিভাগে ছয়টি আলাদা আলাদা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতাসমূহ ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কৃষি ও পরিবেশ সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানের প্রতিযোগিতা, ডিজিটাল পোস্টার প্রদর্শনী, যে কোনো ভালো কাজের উপর ভিডিও তৈরি এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।

প্রতিযোগিতাসমূহে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অলিম্পিয়াডটিতে মোট ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এবং ৩০টি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে! এছাড়া ICDDRB মহাখালী,ঢাকা এবং বগুড়ার রং ছোঁয়া আর্ট একাডেমি থেকেও অংশগ্রহণকারী ছিলো।

প্রতিটি প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু ছিলো কৃষি ও পরিবেশ সম্পর্কিত। যার ফলে প্রতিযোগীরা তাদের চিত্র, পোস্টার, ভিডিওর মধ্যে দিয়ে কৃষি ও পরিবেশ সম্পর্কিত সাবলীল ধারণা ও চিত্র তুলে ধরেছে! পাশাপাশি কেইস সলভিং (Case solving) প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উপস্থাপিত কৃষি ও পরিবেশ সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন আইডিয়া শেয়ারিং এর সুযোগ পেয়েছিল।

অলিম্পিয়াডটিতে জুম এ্যপের মাধ্যমে অনলাইনে ২দিন ব্যাপী সায়েন্টিফিক টকের আয়োজন করা হয় যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এমং খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞগণের সাথে তাদের গবেষণা ও অন্যান্য বিষায়ক আলোচনার সুযোগ পান সায়েন্টিফিক টকের প্রথম দিন (২৮ জানুয়ারি) উপস্থিত ছিলেন পাটের পলিথিন সোনালী ব্যাগের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহমেদ খান, বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা,

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। উক্ত আলোচনায় বাংলাদেশের পরিবেশের অবস্থা উন্নয়ন করতে বিভিন্ন গবেষণা এবং উন্নয়ন কৌশলগুলো নিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা স্যারের গবেষণা ও আবিষ্কার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে সক্ষম হয়! তিনি বলেন ” আমি আশেপাশে যা পেতাম তা নিয়েই গবেষণা শুরু করতাম, ফাউন্টেনপেন ভেঙে তার তৈরি কৌশল আয়ত্তও করেছি, তোমরাও চেষ্টা করবে আশপাশের সকল বিষয় গবেষণার মাধ্যমে বুঝতে। “এবং দ্বিতীয় দিন সমাপনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, ইমেরিটাস অধ্যাপক, ড. আইনুন নিশাত ও আবহাওয়াবিদ ড. মোঃ আবুল কালাম মল্লিক।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশে প্রেক্ষাপটে বাস্তবতা, সমস্যা এবং সুযোগসমূহ সুন্দরভাবে শিক্ষার্থীরা মাঝে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব বর্তমান তরুণ সমাজের কারণ ভবিষ্যত পরিবেশে তাদেরই টিকে থাকতে হবে।” আবহাওয়াবিদ ড. মো: আবুল কালাম মল্লিক বাংলাদেশের কৃষি-আবহাওয়া তথ্যসেবার বর্তমান প্রক্ষাপট এবং এর ভবিষ্যতের সম্ভাবনা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আলাউদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইয়াস বাংলাদেশে মাভাবিপ্রবির প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ডঃ মোঃ সিরাজুল ইসলাম।

অলিম্পিয়াডের সাইন্টিফিক টক ও সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীরা দেশের খ্যাতিমান ও বিশেষজ্ঞদের কাছে কৃষি ও পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ পায়। সমাপনী অনুষ্ঠানটি বিকাল ৩টায় শুরু হয়। প্রতিযোগিতাসমূহের ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। ন্যাশনাল এগ্রি-এনভায়রনমেন্ট অলিম্পিয়াডের প্রতিটি প্রতিযোগিতার জন্য ছিলো সুযোগ্য বিচারকমণ্ডলী।

চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিচারকের আসন গ্রহণ করেন সিলেট চারুপথ আর্ট কলেজের অভিজ্ঞ শিক্ষিকা ডলি দে, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার বিচারক হিসাবে ছিলেন বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, সিলেট এর আবৃত্তি প্রশিক্ষক ও বাংলাদেশ বেতার সিলেটের আবৃত্তি শিল্পী, অভিনয়শিল্পী ও সংবাদ পাঠক নাজমা পারভীন। কেইস সলভিং প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. এ.এস.এম সাইফুল্লাহ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রিকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড.জিলহাস আহমেদ জুয়েল।

ন্যাশনাল এগ্রি-এনভায়রনমেন্ট অলিম্পিয়াডের উদ্দেশ্য মূলত পরিবেশ এবং কৃষি সম্পর্কিত সমস্যা সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা এবং তরুণ বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভাও মেধা বিকাশের সুযোগ করা। অলিম্পিয়াডে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে ছিল একুশে টিভি, দৈনিক অধিকার, বাংলা ট্রিবিউন, এগ্রিভিউ24। ফুড পার্টনার হিসাবে ছিল ঢাকার ধানমন্ডির অভিজাত রেস্ট্রুরেন্ট Absolute BBQ BD।

ইয়াস বাংলাদেশ মাভাবিপ্রবির ক্যাম্পাস ডিরেক্টর উম্মে হানি রিয়া জানান ‘ ইয়াস বাংলাদেশ মাভাবিপ্রবি ইয়াস বাংলাদেশের (ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন এগ্রিকালচারাল এন্ড রিলেটেড সাইন্সেস বাংলাদেশ) একটি শাখা। শুরু থেকে ইয়াস বাংলাদেশ মাভাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহিত করে আসছে।

এছাড়া দুর্যোগ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন স্কলারশিপ বিষয়ে ধারণা দিয়ে আসছে। ইয়াস বাংলাদেশ মাভাবিপ্রবির স্বপ্ন কৃষকদের নিয়ে কাজ করার। সৃজনশীলতা বিকাশে ইয়াস বাংলাদেশ মাভাবিপ্রবির নানা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে’। বিডিটুডেস/এএনবি/ ৩০ জানুয়ারি, ২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

twenty − one =