English Version

মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী রাণীনগরের কৃষক সরফরাজ খাঁন

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ): বিদেশী ফল মাল্টা চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে দৃষ্টান্তের স্থাপন করেছেন নওগাঁর রাণীনগর সদর খট্রেশ্বর গ্রামের কৃষক সরফরাজ খাঁন। বর্তমানে সরফরাজ খাঁনের মাল্টার বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীরা নতুন করে মাল্টার বাগান করার পরামর্শ নিচ্ছেন কৃষক সরফরাজের কাছে।

বর্তমানে এই উপজেলায় ধানের পাশাপাশি অধিক লাভজনক মাল্টা চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উপজেলা এখন মাল্টা চাষে উপজেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। উপজেলার কৃষকরা ধানে লাগাতার লোকসান দেওয়ার কারণে খুঁজছেন লাভজনক ফসল। আর অল্প সময়েই সেই অধিক লাভজনক ফসল হিসেবে কৃষকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে বিদেশী ফল মাল্টা। তাই উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই মাল্টা চাষের পরিসর। দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভালো জাতের মাল্টা গাছের চারা রোপণ করতে পারলে এবং নিবিড় পরিচর্যায় মাল্টার ফলন ভালো হয়। এই অঞ্চলে উৎপাদিত মাল্টার স্বাদ ও গুনগত মানও খুবই ভালো।

উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামের মাল্টা চাষী সরফরাজ খাঁন বলেন, তিনি ১৫ শতাংশ পতিত জমিতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দু’বছর আগে বিনামূল্যে তাদের সরবরাহকৃত ভার্মিক পদ্ধতিতে বারি-১ জাতের মাল্টা চারা নিয়ে তৈরি করেন মাল্টা বাগান। বর্তমানে তার বাগানের প্রতিটি মাল্টা গাছে থোকায় থোকায় সবুজ মাল্টা ঝুলছে। গাছ লাগানোর ১৮ মাস পরই গাছে মাল্টা ধরতে শুরু করেছে। স্বাদে ও গুণে বিদেশী মাল্টার মতই।

স্বাস্থ্যের খবর জানুন

তিনি আরো বলেন, বাজারে স্বদেশী মাল্টার চাহিদা বেশি থাকায় বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি মাল্টা ৭০-৮০ টাকা দরে কেজিতে বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে প্রতিটি গাছে প্রায় ১০কেজি করে মাল্টা ফল এসেছে। আগামী বছরে প্রতিটি গাছে ৭০-৮০ কেজি মাল্টা পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। তিনি আগামীতে এই বাগানের পরিসর আরো বৃদ্ধি করবেন। প্রতিদিনই তার মাল্টার বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসছে। তারাও এই রকম বাগান তৈরি করার আশা প্রকাশ করছে। আমিও দর্শনার্থীদের বাগান তৈরি করার সকল পরামর্শ দিয়ে আসছি। প্রথম বছরেই তিনি মাল্টা চাষে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন বলে জানান।

সরফরাজ খাঁনের মাল্টা বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী রফিকুল ইসলাম, জব্বার মিয়াসহ অনেকেই বলেন, মাল্টা চাষে সরফরাজ খাঁন একজন মডেল। তার বাগানে গাছে মাল্টা ফল দেখে মন ভরে গেছে। তিনি দেখে দিলেন বিদেশী ফলও আমাদের এলাকায় চাষ করা সম্ভব। এটি নাকি অনেক লাভজনক একটি ফসল। তাই আমরাও আগামীতে মাল্টার বাগান তৈরি করবো।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শহীদুল ইসলাম বলেন, এই উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য খুবই পজেটিভ। মাল্টা পুষ্টিকর ও রসালো একটি ফল। বাজারে মাল্টার চাহিদা বেশি থাকায় দামও ভাল রয়েছে। তাই মাল্টা চাষীরা দাম ভালো পেয়ে অনেক খুশি। ধানে লোকসান হওয়ার কারণে এলাকার মানুষরা দিন দিন অধিক লাভজনক ফসল মাল্টা চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। যারা এই ধরনের বাগান তৈরি করবেন তাদের জন্য আমাদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার জন্য সব সময় আমার অফিসের দুয়ার খোলা আছে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৬ অক্টোবর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

5 + 18 =