English Version

মেয়াদোত্তীর্ণ কর্ণফুলী যুবলীগ: নতুন কমিটি না হওয়ায় তৃণমূলে হতাশা

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জে. জাহেদ, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগ চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির ঘাড়ে ভর করে। উপজেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি গঠনের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে তৃণমূলেও।

এই উপজেলায় যুবলীগের ৭১ সদস্যের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ২০১৭ সালের ২৭ জানুয়ারি। এতে সভাপতি সোলায়মান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম হকের নেতৃত্বে তিন বছর মেয়াদি কমিটি এখন মেয়াদোত্তীর্ণ।

গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে চার বছর আগের কমিটির নেতারা দিব্যি নিজেদের পদ পদবী ব্যবহার করে যাচ্ছেন। এ চার বছরে ইউনিয়ন পর্যায়ে সম্মেলন তো দূরে থাক কোনো কমিটিই ঘোষণা করতে পারেনি সোলায়মান-সেলিমের কমিটি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিট কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে হতাশা, ঝিমিয়ে পড়েছে দলীয় কার্যক্রম।

নিয়মিত সম্মেলন না হওয়ায় ক্ষোভ দানা বেঁধেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতা যারা ছাত্রত্ব শেষে যুবলীগ করার অপেক্ষায় তারা জানালেন, সম্মেলন না হওয়ায় নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠছে যুবলীগের কিছু নেতা। মাদক ব্যবসার অভিযোগে যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেফতার ও বহিষ্কারের ঘটনাও ছিল কর্ণফুলীতে আলোচিত। সাংগঠনিক নেতৃত্বের দূর্বলতার কারণে দলের চেইন অব কমান্ডও ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে নেতারা অপকর্মে জড়িয়ে গেলেও তাদের বারণ করার মতো নেতৃত্বের বিচক্ষণতা বর্তমান কমিটির নেতারা রাখেন না বলেই সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

২০১৯ সালে নগরীর রীমা কমিউনিটি সেন্টারে যুবলীগের এক প্রতিনিধি সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিল নির্দেশনা দেন চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা, উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন এবং অপূর্ণাঙ্গ ও আহ্বায়ক কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার।

পাশাপাশি আগামীতে কোনো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি যাতে কমিটিতে ঠাঁই না পায়, সেই বিষয়েও সতর্ক থাকার তাগিদ দেন। কিন্তু তাদের সে নির্দেশনা এখনও আলোর মুখ দেখেনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ তথা কর্ণফুলী উপজেলায়। এদিকে উপজেলা যুবলীগের অনেক নেতাকর্মী চান, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নবায়ন। বিতর্কিত নেতাদের দূরে সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির দাবী ওঠে এসেছে তৃণমূল থেকে।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টি পু সুলতান চৌধুরী বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলেও করোনা প্রভাবের কারণে আমরা উপজেলা কমিটিগুলো করতে পারিনি। শুধু কর্ণফুলী নয়, দক্ষিণের সব উপজেলায় একই অবস্থা। বলতে গেলে দক্ষিণ জেলা কমিটিরও মেয়াদ শেষ। আমরা সম্মেলনের তারিখও ধার্য্য করেছিলাম কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে তা করা সম্ভব হয়নি।

এমনকি দীর্ঘদিন যারা উপজেলায় দায়িত্বে ছিলেন তাঁরা কেন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি দিতে পারেননি জানতে চাইলে যুবলীগ সভাপতি বলেন, আসলে আমরা চেষ্টা করলেও নানা কারণে তা করতে পারিনি। অনেক ক্ষেত্রে কেন্দ্রেরও নির্দেশনা ছিল যেমন পটিয়া উপজেলা দেখেন। তারপরেও করোনা পরিস্থিতি আরেকটু স্বাভাবিক হলে আমরা সম্মেলন করে নতুন কমিটি করার কার্যক্রম শুরু করব।’

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক বলেন, ‘আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ। সংগঠনকে গতিশীল করতে হলে নির্দিষ্ট সময়ে কমিটি ভাঙ্গাগড়া উচিত। নতুন নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক গতিশীলতায় কমিটি করার ব্যাপারে মাননীয় ভূমিমন্ত্রী সবসময় চেষ্টা করে। জাতীয় নিবার্চন ও করোনার কারণে কিছুটা হোঁচট খেতে হয়। তবে আমি ইউনিয়ন কমিটি দিতে ব্যর্থ। এটার জন্য তৃণমূলের কাছে ক্ষমা চাইলে কম হবে। নানান কারণে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। আগামীতে নতুন কমিটি হলে তাঁরা করবেন।’

কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সোলায়মান তালুকদার বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে দলে গতি আনতে আমরা ইউনিয়ন কমিটিগুলো ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম কিন্তু কমিটি না করতে কেন্দ্রের নির্দেশনা ও চিঠি আসায় তা করা সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, উপজেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তা সত্য, আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি’র নির্দেশনায় পুরাতন কমিটি ভেঙে শিগগিরই নতুন কমিটি উপহার দেওয়া হবে।’ বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

11 − 9 =