English Version

মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংলগ্ন সড়ক ও বসতবাড়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এম. পলাশ শরীফ, বাগেরহাট: মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংলগ্ন রামপাল উপজেলার কৃষি অফিস থেকে বগুড়া খেওয়াঘাট পর্যন্ত সড়কটির একটি অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া আশপাশের কিছু বসতবাড়ী ও ইতোমধ্যে নদী গর্ভে ভেঙ্গে গেছে। স্রোতের টানে এ সড়কের প্রায় ৩০০ ফিট রাস্তা ভেঙ্গে নদীতে পড়ে গেছে।

এ রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় বর্তমানে রাস্তা ব্যবহারকারী প্রায় ৫ শতাধিক মানুষের যাতাযাতের মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া রাস্তা ভেঙ্গে হাজার হাজার ইট নদীতে পড়ে যাওয়ায় সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকায় নির্মিত সড়কটি চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

রাস্তা ব্যবহারকারী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে, মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল সংলগ্ন এ সড়কটি প্রায় ১৪ শত ১০ মিটার। সাধারণ মানুষ সড়কটি ঘেষে বসত বাড়ী নির্মাণ করায় চলাচলের সুবিধার্থে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রকল্পের মাধ্যমে এ রাস্তার মাটির কাজ সম্পন্ন করা হয়।

এরপর ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে গ্রামীণ মাটির রাস্তা সমূহ টেকসই করণের লক্ষে হেরিং বোন বন্ড প্রকল্পের আওতায় চ্যানেলের পাশ দিয়ে এ রাস্তা নির্মাণের জন্য ৬০ লক্ষ ৯৪ হাজার ২ শত ১৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। রাস্তা নির্মাণের কাজ শেষ হতে না হতে গত বছর (২০১৯ সালে) স্রোতের টানে রাস্তার কিছু অংশ ভেঙ্গে পড়ে। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাগেরহাট অস্থায়ীভাবে জিআই ব্যাগে বালু ডাম্পিং করে।

কিন্তু রাস্তা রক্ষার এ চেষ্টা কোনো কাজে আসেনি। এ বছর আবারও সেই একই স্থান থেকে ভেঙ্গে যেতে শুরু করেছে এবং দিন দিন এ ভাঙ্গন আরো বেশী প্রবল হচ্ছে। রাস্তা ভেঙ্গে ইতোমধ্যে রাস্তার কয়েক হাজার ইট নদীতে পড়ে গেছে । রামপাল সদর ইউপি মেম্বার নজরুল মোল্যা ডব্লিউ নিজ খরচে প্রায় ২০ হাজার ইট তুলে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

চ্যানেলের খনন কাজ সম্পন্ন হওয়ার বছর খানেকের মধ্যে নদী ভাঙ্গনের প্রথম শিকার হয় তকিম গাজী এর পুত্র শরীফুল ইসলাম ও কাদের খানের পুত্র কবির খান। ভাঙ্গনে শরীফুলের বসত বাড়ীর ৪ কাঠা জমি ও একটি দোকান ঘর এবং কাদের খান’র পুত্র কবির খান’র ২ কাঠা জমি ও ৩টি ঘর (একটি গোয়াল ঘর সহ) নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে ভাঙ্গন যে প্রকট আকার ধারণ করেছে, এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে রাস্তা সংলগ্ন অসংখ্য মানুষের বসত বাড়ী ও ফসলী জমি অচিরে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাধন কুমার বিশ্বাস জানান যে, সড়কের একটি অংশ নদীতে ভেঙ্গে গেছে। রাস্তা নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান’র জামানতের টাকা ফেরত দেয়া হবে কিনা, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানার জন্য উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া রাস্তা সংস্কারের জন্য আপাতত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান এ প্রতিবেদককে জানান, গত বছর নদী ভেঙ্গে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অস্থায়ীভাবে জিআই ব্যাগে বালু ডাম্পিং করা হয়েছিল। ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ায় স্থায়ী ভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য একটি প্রস্তাব মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদন হলেই নদী ভাঙ্গন রক্ষার কাজ শুরু হবে।

রামপাল সদর ইউপি মেম্বর নজরুল মোল্যা ডব্লিউ এ প্রতিবেদককে জানান, বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে জন গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটির মাটির কাজ করা হয়েছিল। গত বছর এ রাস্তায় ইটের কাজ করা হলে ও বছর যেতে না যেতে স্রোতের কারণে এ রাস্তাটি ভেঙ্গে গেছে। তিনি আরো জানান যে, চ্যানেলের এ স্থান খনন করার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দক্ষিণ পাশে সরে গিয়ে মাটি খননের অনুরোধ করা হয়েছিল। যদি খননের সময় দক্ষিণ পাশে সরে গিয়ে খনন করা হত, তাহলে আজকে এ অবস্থা হত না।

নদীতে পড়ে যাওয়া প্রায় ২০ হাজার ইট তিনি ব্যক্তিগতভাবে তুলে রেখেছেন বলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ রাস্তা ও পাশ্ববর্তী অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও বসত বাড়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাস্তাটি ভেঙ্গে যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

নদী ভাঙ্গনের নিজের জমি ও দোকান হারানো শরীফুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান যে, তিনি সহ অনেক সাধারণ মানুষ এ এলাকায় বসবাস করে। কিন্তু নদী ভাঙ্গনের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে করে এ এলাকায় বসবাসকরী সবাই অত্যন্ত আতংকের মধ্যে রয়েছে। নদী ভেঙ্গে তার মতো আর যেন কেউ নিজ জমি না হারায়, এজন্য তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।

ভাঙ্গনের পাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের এ সমস্যা উপলব্ধি করে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করবে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ২১ অক্টোবর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

19 − sixteen =