English Version

মোড়েলগঞ্জে বহুমুখি ঘূর্ণিঝর আশ্রয়ন কেন্দ্রের উদ্ধোধন রোববার

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

এম. পলাশ শরীফ, বাগেরহাট: উপকূলীয় অঞ্চল বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে সেলিমাবাদ বহুমুখি ঘূর্ণিঝর আশ্রয়ন কেন্দ্রের আগামীকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুভ উদ্ধোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সারাদেশে ১শ’টি মাল্টিপারপাস এ সাইক্লোন শেল্টার উদ্ধোধন হবে। এর মধ্যে মোড়েলগঞ্জে ৩টি সেলিমাবাদ ডিগ্রী কলেজ বহুমুখি কমপ্লেক্সের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া মোড়েলগঞ্জের পুটিখালী আজিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, বহরবুনিয়ার ঘষিয়াখালীর তোরাব মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০১৭ সালে সারাদেশে প্রথম পর্যায়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ১শ’টি বহুমুখি ঝুর্ণিঝর আশ্রয়ন কেন্দ্রের কাজ শুরু হলে ২০১৯ সালে সমাপ্ত হয়। ৩ তলা বিশিষ্ট নির্মিত এ ভবনে ব্যায় ধরা হয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশ্রয় নেওয়া মানুষের কমপ্লেক্সটিতে ৮টি রুম, রয়েছে টয়লেট রুম ও ওয়াস রুম। প্রায় ৩ হাজার মানুষ দুর্যোগে আশ্রয় নিবেন এ ভবনে। গবাদি পশুর জন্য রয়েছে আশ্রয়ের ব্যবস্থা। প্রতিবন্ধী পঙ্গু ও গর্ভবর্তী মায়েদের আশ্রয়ের জন্য হুইল চেয়ারে ওঠার জন্য রয়েছে র‌্যাম পদ্ধতি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরবর্তী এ ভবনটির ৮টি রুমে শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

স্বাস্থ্যের খবর জানুন

১৩ অক্টোবর রোববার সকাল ১০টায় এ ভবনটি আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করবেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেক্ষেত্রে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন, সেলিমাবাদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কান্তি বিশ্বাসসহ ভবন তদারকীর একটি টিম পরিদর্শন করেছেন। উপকূলীয় অঞ্চল সিডর-আইলা দুর্গত এলাকা মানুষের প্রাকৃতিক দুর্যোগে আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন।

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বহুমুখি ঘূর্ণিঝর আশ্রয়ন কেন্দ্রের ভবনগুলো সরকারের একটি নতুন পদ্ধতি। এ ভবনে ঘূর্ণিঝরে আশ্রয় নিবে শুধু সাধারণ মানুষ নয় গবাদি পশু, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবর্তী মায়েরাও। সেক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এ আশ্রয়ন কেন্দ্রে। এ সর্ম্পকে সেলিমাবাদ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কান্তি বিশ্বাস বলেন, বহুমুখি ঘূর্ণিঝর আশ্রয়ন কেন্দ্রটি তার কলেজে নির্মিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট উপকৃত হয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে ক্লাশ নিতে ইতোপূর্বে কষ্ট পেতে হয়েছে। এখন আর সে কষ্ট থাকবে না। প্রায় ১২শ’ শিক্ষার্থীর শ্রেণী কক্ষ সংকট কেটে গেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ মহা বিদ্যালয়ের অভিভাবক শিক্ষার্থী, শিক্ষক মন্ডলির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘূর্র্ণিঝর আশ্রয়ন কেন্দ্রগুলো বর্তমান সরকারের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যতিক্রমী একটি উদ্যোগ। এর সুফল শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগে নয়। পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণীকক্ষের সংকট সমাধানে গুরুত্ব বহন করবে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১২ অক্টোবর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

14 + sixteen =