English Version

রংপুর বিভাগের সেরা স্কুল চড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

গৌতম চন্দ্র বর্মন, ঠাকুরগাঁও: যেখানে সুশিক্ষায় গড়ে উঠছে হতদরিদ্র পরিবারের কয়েক শ’ গরিব শিশু। আর তখন এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগসহ অনেকে। ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি ব্যতিক্রমী স্কুল।

৩নং বকুয়া ইউনিয়নের বহরমপুর বাজারে চা-পরোটার দোকান করে খুব কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করতেন এরফান আলী। স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে ও সমাজকে বদলাতে শিক্ষার আলোয় আলোকৃত করতে হবে নতুন প্রজন্মকে, আর তাই অজপাড়া গায়ে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত ও অবহেলিত শিশুদের আলোকিত করতে তিনি নিজ উদ্যোগে ও বাবা নুরুল ইসলামের সহযোগিতায় নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠিত করে একটি ব্যতিক্রমী স্কুল। স্কুলের শিক্ষকরা বাচ্চাদের প্রতি যথেষ্ট সহানুভূতিশীল।

এলাকাবাসী জানান, আমরা গরিব মানুষ, আমাদের তেমন টাকা-পয়সা নেই। প্রধান শিক্ষক এরফান আলী যেটুকু সহযোগিতা করেন এটাই যথেষ্ট। ২০০১ সালে নিজের ৩৩ শতক জমিতে বাঁশ-চাটাইয়ের বেড়া ও টিন চাপা দিয়ে গড়ে তুলেন স্কুলটি। পরবর্তীতে ২০১১ সালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতি ও ২০১৩ সালে সরকারিকরণ হয় স্কুলটি। ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০১ জন।

স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়া-লেখার পাশাপাশি বিনোদন বিকাশের জন্য প্রধান শিক্ষক এরফান আলী স্কুলের পাশে তৈরি করেছেন একটি শিশু পার্ক। ক্লাস শেষে শিশু পার্কে শিক্ষার্থীরা বিনোদনের মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করতে পারে। স্কুলে রয়েছে রড-সিমেন্টের তৈরিকৃত হাতি, হরিণ, জিরাফ, বক, টিয়া পাখি, ময়ূর পাখিসহ খেলা-ধুলার নানান উপকরণ এছাড়াও দেয়ালে আকা রয়েছে ভাষা শহীদ ও বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি এবং বিভিন্ন মনিষীদের উক্তি ও ছবি। স্কুলটির মুল আকর্ষণ মিড ডে মিল, যা শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে অনেক।

২০১৬ সালে প্রধান শিক্ষকের নিজ উদ্যোগে মিড-ডে মিলের বিষয়টি তৎকালীন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। যা সে সময়ে মন্ত্রিপরিষদের একটি চিঠিতে প্রজ্ঞাপন জারি করেন, তার ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা মাসিক সমন্বয় সভায় চড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির পরিচালিত মিড-ডে মিল আয়োজনের বিষয়টি সারা বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে অনুসরণ করার পরিপত্র প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

গ্রামের অবহেলিত গরিব শিশুদের ঝরে পড়া রোধ ও শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রচলিত রুটিনের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সু-শিক্ষায় গড়ে তুলতে বিকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ক্লাশ করান প্রধান শিক্ষক এরফান আলী। যার কারণে এই বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বাইরে কোনো কোচিং করতে হয় না। প্রধান শিক্ষক এরফান আলীর ব্যতিক্রমী এমন একটি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকতারা।

হরিপুর উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার সুলতান আলরাজী বলেন, চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি ব্যতিক্রমি স্কুল। উদাহরণ সৃষ্টিকারি একটি স্কুল। এমন উদ্যোগ শুধু ঠাকুরগাঁওয়ে নয় সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল করিম বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক এরফান আলী তার নিজ উদ্যোগে ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় মিড-ডে মিল চালু করে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন।

গ্রামে অবহেলিত পিছিয়ে পড়া শিশুদের এগিয়ে নিতে এরফান আলীর মতো দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন উদ্যোগ নেয়া হলে শিক্ষায় ঝরে পড়া কমে আসবে বলে মনে করেন সচেতন নাগরিকরা। ২০১৯ সালে উপজেলা, জেলা ও রংপুর বিভাগ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই পদক কমিটি প্রধান শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিত্তিতে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকার রাখার জন্য চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় হিসেবে নির্বাচিত করে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১৩ জানুয়ারি, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

9 − 3 =