English Version

রাঙ্গামাটিতে সাড়ে ৩২ লাখ টাকার সেতু নির্মাণকাজে অর্ধেক টাকা ব্যয় হয়নি

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

সুপ্রিয় চাকমা শুভ, রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটির নানিয়ারচরে প্রায় সাড়ে ৩২ লাখ টাকার সেতু নির্মাণকাজে অর্ধেক টাকা ব্যয় হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সেতুটির নির্মাণ ব্যয়ে প্রাক্কলিত অর্থবরাদ্দ ছিল ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩৮ টাকা। অর্থ্যাৎ প্রায় সাড়ে ৩২ লাখ টাকার কাছাকাছি। কিন্তু সেতুটি নির্মাণে যেই কাজটি হয়েছে, সেখানে অর্ধেক টাকাও খরচ হয়নি। যেটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যেনতেনভাবে আর একদম নি¤œমানের কাজ দিয়েই। এমনটার অভিযোগ ছিল এলাকাবাসীর।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেতছড়ি তৈচাকমা রেগাছড়ার উপর নির্মিত সেতুটির যে কাজ হয়েছে- তাতে স্পষ্ট হয়েছে, কাগজে যে উন্নয়ন বাস্তবে তার কোনো মিল নেই- যার তফাৎ একেবারে আকাশ-পাতাল। তবে বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট উপজেলা পরিষদের দাবি, সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে সেখানে যে কোনো উন্নয়ন কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গ্রামীণ রাস্তায় কমবেশী ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে ওই সেতুটি। নির্মাণকাজ বাস্তবায়িত হয়েছে, নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর অভিযোগ মতে, ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ওই সেতুর নির্মাণকাজে অর্ধেক টাকাও ব্যয় হয়নি। বড় জোর ১২-১৫ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। বাকি টাকা গেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ ঠিকাদারের পকেটে। শুরু থেকে কাজ করা হয়েছে নামে আর যেনতেনভাবে।

সিডিউলের শর্তে যে রড, সিমেন্ট, কংক্রিট ব্যবহার করার কথা- তার সবক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে নি¤œমানের সামগ্রী। বালি ব্যবহার করা হয়েছে আশেপাশের ছড়া থেকে সংগ্রহ করে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে ধসে বা ভেঙে যেতে পারে সেতুটি। সঠিক তদন্তে এসবের সত্যতা পাওয়া যাবে। এরই মধ্যে ছয় মাস আগে শেষ হয়েছে সেতুটির নির্মাণকাজ। ঠিকাদার কাজ বুঝিয়ে দিয়ে উত্তোলণ করেছেন বরাদ্দের সম্পূর্ণ টাকা।

ফোনে যোগাযোগ করা হলে নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসউদ পারভেজ মজুমদার বলেন, ছয় মাস আগে ওই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদার কাজ বুঝিয়ে দিয়েছেন। কাজ ঠিকমতো হওয়ায় এরই মধ্যে ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কাজটি নিয়ে এ পর্যন্ত কোনো রকম অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ২০ ভাগ চাঁদা দিয়ে সেখানে যে কোনো উন্নয়ন কাজ করতে হয়। এত টাকা চাঁদা দেয়ার পর কাজ আর কতটুকু করা যায় ? বিডিটুডেস/আরএ/১৭ জুন, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

7 − one =