English Version

“রিসার্চ” কী এবং কেনো?

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

জান্নাতুল নাঈম: রি এবং সার্চ, রি মানে পুনরায় আর সার্চ মানে খোঁজা। সুতরাং রিসার্চ মানে দাঁড়ায় পুনরায় খোঁজা। হ্যাঁ রিসার্চ করতে গেলে আমাদের আসলেই অনেক খুঁজতে হয়। কি খুঁজতে হয় তার উত্তর খুব সোজা। রিসার্চ করতে হয় খুবই সুনির্দিষ্ট কোনো টপিক এ। তাহলে ঐ টপিক নিয়েই খোঁজাখুঁজিটা হলো কাজ।

ধরেন কেউ মার্কেটিং এর কোনো বিষয় নিয়ে রিসার্চ করতে চান। আপনাকে অবশ্যই একটা প্রোডাক্ট বেছে নিতে হবে। ধরেন, আপনি শুটকির মার্কেটিং রিসার্চ করবেন। তাহলে আপনাকে প্রথমেই শুটকির বাজারগুলো ঘুরতে হবে। পারলে একটা শহরের সবগুলো শুটকির খুচরা এমনকি পাইকারি বাজারগুলো ঘুরে ফেলতে হবে।

পারলে সবগুলো থেকে কিছু পরিমাণ শুটকি আপনাকে কালেক্ট করতে হবে। বুঝতেই পারছেন, এর জন্য আপনি যত নির্দিষ্ট হবে ততই মঙ্গল। কালেক্ট করবেন কারণ এতে করে আপনি মান বুঝতে সক্ষম হবেন। যদি আরো সুযোগ থাকে তাহলে শুটকি যেখানে তৈরী হয় সেখানে চলে যেতে পারেন। তবে সেটা সব সময় সহজ হয় না।

এই ডাটাগুলো যখন আপনি নথিভুক্ত করে ফেলবেন, মানে দাম, মান, আপনার কাছে সহজে কি করে আসতে পারে সবটা, তখন আপনি খুব সহজেই এর মার্কেটিং ভ্যালু বের করতে পারবেন এমনকি চাইলে এ নিয়ে একটা বিজনেসও খুলে ফেলতে পারেন।

এবার যদি আমি এই শুটকির সায়েন্টিফিক রিসার্চ এর কথায় আসি, তাহলে আমাকে অবশ্যই শুটকিগুলো যেখানে তৈরি হয় সেখানে যেতে হবে, তাদের প্রসেসিং বুঝতে হবে, কেমন পরিবেশে প্রসেসিং হচ্ছে তা দেখতে হবে, কোনো ফাঙ্গাস বায়া ইনসেক্ট আক্রমণ হচ্ছে কিনা, কোন কোন ইনসেক্ট আশেপাশে উড়ছে বা শুটকির গায়ে বসছে সব অবজার্ভেশনে রাখতে হবে।

এত বড় পরিসরে না পারা গেলে আমাকে শুটকির স্যাম্পল কালেকশন করতে হবে, কোনো ইনসেক্ট এর ডিম পাওয়া যায় কিনা পরীক্ষা করতে হবে, কোনো ফাঙ্গাস সংক্রমণ হয়েছে কিনা দেখতে হবে, ঠিকমত শুকানো হয়েছে কিনা, কোনো কেমিক্যাল ইউজড হয়েছে কিনা সেসব দেখে এর মান বলতে হবে।

এগুলো হলো ফিল্ড রিসার্চ। তবে এগুলোর জন্য প্রচুর আর্টিকেল পড়তে হবে। যেটা নিয়ে কাজ করবেন, তার উপর যতগুলো আর্টিকেল পাবলিশড হয়েছে সর্বোচ্চটা কভার করতে হবে। তাহলে আপনি নতুন কিছু পেলেন কিনা তা বুঝতে পারবেন।

আপনি ডকুমেন্ট রিসার্চও করা যায়। ডকুমেন্ট রিসার্চগুলো আসলে ফিল্ড এর কাজ তেমন থাকেনা। আমার যতটুকু সীমিত ধারণা তা থেকে যদি বলি, তাহলে ধরেন আপনি ২০১৯ এর অক্টোবর থেকে ২০২০ এর অক্টোবর পর্যন্ত কতগুলো ধর্ষণ হয়েছে বাংলাদেশে তার একটা ডাটাবেজ করতে চান। সেক্ষেত্রে আপনার পক্ষে প্রতিটা এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব নয়, কিন্তু কি করে ডাটা ক্রিয়েট করবেন।

আপনাকে এই বার মাসের প্রতিটা দিনের পত্রিকা সংগ্রহ করতে হবে। সম্ভব হলে যতগুলো পত্রিকা প্রকাশ হয় এক দিনে সবগুলো। তাহলে আপনি মোটামুটি একটা অথেন্টিক ডাটা তৈরি করতে পারবেন এবং একই সাথে এর উপর বেজ করে একটা হাইপোথিসিস দাঁড় করাতে পারবেন এমনকি আপনার একটা ধারণা তৈরি হবে যে এর হার কেমন কিংবা কত পার্সেন্ট।

সাধারণত এভাবেই রিসার্চগুলো হয়। একইভাবে আমরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর রিসার্চ করতে পারি। কোনো একটা এলাকায়, কোন পেশার মানুষ কতজন করে আছে। কোন এলাকায় কোন পেশার মানুষের বাস কত পার্সেন্ট, ঐ এলাকার সুযোগ সুবিধা কেমন হওয়া প্রয়োজন এমনকি আরো অনেক কিছু।

কোন এলাকায় উদ্ভিদ এবং প্রাণীর বসবাসের উপর ডিপেন্ড করে ঐ এলাকার পরিবেশের অবস্থা কেমন সেসব বের করা যায়। কোন ধরণের প্রানী বা উদ্ভিদ বেশি তার উপর বেজ করেও পরিবেশের উপর একটা ধারণা করা যায়। এমনকি ঐ এলাকার মাটি কেমন তাও ধারণা করা যায়।

সাহিত্যের ক্ষেত্রে এটুক ধারণা হয়েছে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের সাহিত্যিকদের সৃষ্টি পর্যালোচনা করে ঐ সময় সম্পর্কে, ঐ সময়ের কালচার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সব কিছুর মূলে রয়েছে রিসার্চ। নিজের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি, যদি নিজের বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠা করতে চান এমনকি নতুন কোনো হাইপোথিসিস দাঁড় করাতে চান তাহলে রিসার্চ এর বিকল্প আর কিছু নেই। বিডিটুডেস/এএনবি/ ০৩ নভেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

four × 5 =