English Version

রোহিতের শুরুর জন্যই পরে নিশ্চিন্ত

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: অন্য দলগুলোকে দেখার দরকার নেই। গুরুত্ব দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। মহাতারকারা কে কী বলেছেন, ভাবা অর্থহীন। আপাতত আয়নায় শুধু নিজেদের মুখই দেখতে চাইছেন বিরাট কোহলিরা। ভারতীয় দল একটু যেন বেশিই খুশি। সাধারণত যিনি ছোটখাট সাফল্যের পর বিশেষ উচ্ছ্বাস দেখান না, সেই কোহলিও বলে ফেললেন, ‘‌ভাল খেলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এত ভাল খেলব সেটা ভাবিনি।’‌ ৩৯ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারত চলে গেল সেমিফাইনালে ১ নম্বর দল হিসেবে। শনিবার মাঠ ছাড়ার সময় তাঁরা জানতে পারেননি, শেষ চারে মুখোমুখি হতে হবে তুলনায় কমজোরি নিউজিল্যান্ডের। এ ব্যাপারে অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া যা, তার সঙ্গে আয়নায় নিজেদের মুখ দেখার স্লোগানই প্রতিফলিত। শুধু নিজেদের যোগ্যতা পালিশ করে যাওয়া, বিপক্ষকে নিয়ে বিশেষ ভাবনাচিন্তার মধ্যে থাকতে চাইছে না টিম ইন্ডিয়া। একটুকরো রোহিত এবং একটুকরো বুমরা— দু’‌টুকরোয় বিপক্ষ ফালাফালা হয়ে যাচ্ছে। বাকি ৯ জনের মধ্যে ইতিউতি কখনও ঝলসে উঠছেন কে এল রাহুল, কোহলি, মহম্মদ সামি বা হার্দিক পান্ডিয়া। এটাই কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ভারতের নিউক্লিয়াস। সংগঠনের কোর গ্রুপ বলতে যা বোঝায়, এখানে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে এই ৫–‌৬ জনই মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। এজন্যই রোহিত শর্মা বারবার বলে যাচ্ছেন, ‘কাজ কিন্তু অসম্পূর্ণ। এইসব রান, রেকর্ডের কোনও মূল্য থাকবে না, যদি ফাইনাল জিততে না পারি।’‌

হাতের কাছে টাটকা উদাহরণ রয়েছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো দল, যারা ১৯৭৫ থেকে কখনও কখনও ভাল খেলেও বিশ্বকাপ নিয়ে যেতে পারেনি। তাই এখনও পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করা সত্ত্বেও রোহিত নিজেকে খুব উঁচুতে তুলে ধরতে চাইছেন না। বলছেন, ‘এবার এখানে ব্যর্থতা মানে ৪ বছর পর আবার নতুন করে শুরু করার পালা। তার চেয়ে আমরা বরং বাকি দুটি ম্যাচ নিয়ে আরেকটু বেশি ভাবনাচিন্তা করি।’‌ কোনও সন্দেহ নেই, রোহিত জীবনের সেরা ফর্মে। যা উল্লেখ করে ব্যাটিং কোচ সঞ্জয় বাঙ্গার বলে গেলেন, ‘নিজে তো ভাল খেলছেই। সঙ্গে নজর রাখছে ওপেনিং পার্টনারের যেন কোনও অসুবিধা না হয়। ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুরুতে শিখর ধাওয়ান অস্বস্তিতে ছিল। রোহিত নিজে বেশি স্ট্রাইক নিয়ে শিখরকে ধাতস্থ হতে দিয়েছিল। তারপর তো শিখর সেঞ্চুরি করে ফেলল। এখনও তেমনই শিখরের অনুপস্থিতিতে কে এল রাহুলকে আগলে রাখছে। তাই সঙ্গী ওপেনার অনেক স্বস্তিতে ব্যাট করতে পারছে।’‌ একই সঙ্গে বাঙ্গার রোহিতের ধারাবাহিকতারও প্রশংসা করলেন, ‘‌চলাফেরায় আত্মবিশ্বাস ঠিকরে বেরোচ্ছে। সব ম্যাচেই শুরুতে রান করার ব্যাপারে চমৎকার ভূমিকা নেওয়ায় পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা অনেক নিশ্চিন্তে ক্রিজে আসতে পারছে।’‌

সবাই ভাল খেলছে বলেই যে এক–একটা জয় সহজে পাওয়া যাচ্ছে, তা জানিয়ে গেলেন ৮ ম্যাচে ১৭ উইকেট পাওয়া যশপ্রীত বুমরা। বললেন, ‘আমাদের এই দলটা প্রশংসায় ভেসে যায় না। সমালোচনায় ভেঙে পড়ে না। ভাল খেলার ব্যাপারে যে আন্তরিকতা রয়েছে, সেটাতেই কিন্তু সাফল্যের রাস্তা তৈরি হচ্ছে। হার্দিক পান্ডিয়ার কথাই ধরা যাক। সেই আইপিএল থেকে ও পরিশ্রম শুরু করেছে। প্রতিদিন উন্নতির খেঁাজে রয়েছে। তাই এবার বিশ্বকাপে আমরা অন্য হার্দিককে দেখতে পাচ্ছি।’‌ মনে করিয়ে দেওয়া হল, দর্শক কিন্তু বুমরাকেও দেখছে। যে কিনা শনিবার প্রথম স্পেলই থেকেই প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে বোলিং করছিল। শুনে যশপ্রীত হেসে ফেললেন এবং ছোট্ট প্রতিক্রিয়া দিলেন, ‘‌তাই নাকি?‌ খুব অ্যাগ্রেসিভ মনে হচ্ছিল?‌’‌ হাসির মধ্যেই তৃপ্তির ছাপ। কিন্তু প্রকাশ করার ক্ষেত্রে প্রবল অনীহা।মহেন্দ্র সিং ধোনির জন্মদিন ছিল রবিবার।

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

শনিবার সন্ধেবেলা হোটেলে ফিরে নিজের ঘরে, ভারতীয় সময় রাত ১২টায় (এখানে তখন সন্ধে ৭–‌৩০)‌ কেক কেটে আরও একটা জন্মদিন পালন করলেন তঁার স্ত্রী সাক্ষী, কন্যা জিভাকে সঙ্গে নিয়ে। তবে ওই সময় ঘরে এসেছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া, কেদার যাদব এবং ঋষভ পন্থ। এই ৩ ক্রিকেটার মিলে ধোনির মুখে কেক মাখিয়ে দিলেন। তারপর নিজেরাই নাচগান করলেন। এ সবের মাঝে ধোনি হেলিকপ্টার শটের মহড়া দিলেন স্ত্রী সাক্ষীর ক্যামেরার সামনে। ওঁর দেখাদেখি হার্দিকও দেখালেন কীভাবে তিনি হেলিকপ্টার শট আয়ত্তে এনে ফেলেছেন। নেহাতই মজা। হেলিকপ্টার শটের সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছেন যিনি, তঁার জন্মদিনে তঁারই সামনে যদি কোনও শিষ্য ওই একই শটের শ্যাডো করে দেখান, তাহলে তো তা জন্মদিনে এক বাড়তি পাওনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়। রোহিত শর্মার বয়ান অনুযায়ী রবিবার ম্যাঞ্চেস্টার যাওয়ার পথে গাড়িতেই কেক কেটে ধোনির মুখে আরও একবার নিশ্চয়ই লাগিয়ে দেবেন সবাই মিলে।

সেমিফাইনাল ম্যাচে আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন কেটলবরো ও ইলিংওয়ার্থ। দুজনেই ইংল্যান্ডের। ফাইনালে দুই আম্পায়ার শ্রীলঙ্কার ধর্মসেনা ও দক্ষিণ আফ্রিকার এরাসমাস। টিভি আম্পায়ার পাকিস্তানের আলিমদার ও ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগেলে। আইসিসি এত আগে আম্পায়ারদের নাম ঘোষণা করে দিল এই কারণেই যে, তারা নিরপেক্ষ আম্পায়ার নিয়োগ করতে চায়। শ্রীলঙ্কা বা দক্ষিণ আফ্রিকা এবার আর বিশ্বকাপে নেই। ছিটকে গিয়েছে। তাই এমন আম্পায়ারদের ফাইনালে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যঁাদের দেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আর টিকে নেই। সেমিফাইনালে ভারতের খেলা পরিচালনা করবেন দুই ইংরেজ আম্পায়ার। এভাবেই আইসিসি চাইছে, আম্পায়ার পোস্টিংয়ে স্বচ্ছতা থাকে, কোনও দল যেন প্রতিবাদ জানাতে না পারে। বিডিটুডেস/আরএ/০৮ জুলাই, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

13 − eight =