English Version

সৌদি আরবের ইতিহাস

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: সৌদি আরবের ইতিহাস যদিও এই অঞ্চলের মানব বসতির ইতিহাস ২০,০০০ বছরের পুরনো, তবে রাজ্যের বর্তমানে যে রূপ তার ভিত্তি স্থাপিত হয় ১৭৪৪ সালে। এই অঞ্চল বিশ্ব ইতিহাসে দুবার বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তার করেছে: ৭ম শতাব্দীতে মুহাম্মদ (স.) এখানে ইসলামের প্রচার করেন এবং এটি খিলাফতের প্রথম কেন্দ্র। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে বিশাল তেলের মজুদ আবিষ্কার দেশটিকে অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে। ৭ম শতক থেকে মক্কা ও মদিনা শহরগুলো মুসলিম বিশ্বের জন্য সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক তাত্পর্যপূর্ণ অঞ্চল। মক্কা হজ্জ পালনকারীদের একটি গন্তব্যস্থল। সামর্থবান প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য জীবনে একবার হলেও এখানে আসা বাধ্যতামূলক। তবুও এই অঞ্চলটি পূর্বে আপেক্ষিক অদৃশ্য এবং বিচ্ছিন্ন ছিল

ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় এই অঞ্চলের অধিকাংশ স্থান একজন স্থানীয় শাষকের দ্বারা কোন রকমে পরিচালিত হতো। আল সৌদ (সৌদি রাজকীয় পরিবার) কেন্দ্রীয় আরবের নজদের ছোটখাট স্থানীয় শাসক হিসেবে আবির্ভূত হয়। পরবর্তী ১৫০ বছর ধরে আল সউদ অঞ্চল পার্শবর্তী অঞ্চলে বিস্তৃত হয়। যাইহোক, ১৯০২ থেকে ১৯২৭ সালের মধ্যে আল সউদ নেতা আব্দুল আজিজ বিজয় অর্জনের একটি সিরিজ পরিচালনা করেন যা ১৯৩০ সালে সৌদি আরব রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে।

১৯৩০ সাল থেকে ১৯৫৩ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত, আব্দুল আজিজ একটি পুরাদস্তর রাজতন্ত্র হিসেবে সৌদি আরবকে শাষণ করেন। এর পরে উত্তরাধিকারী সূত্রে তাঁর ছয় পুত্র রাজ্যটির শাষণ করেছে: সৌদ আব্দুল আজিজের পরবর্তী উত্তরাধিকারী, রাজ পরিবারের অধিকাংশের কাছ থেকে বিরোধিতার মুখোমুখি হন এবং অবশেষে পদত্যাগ করেন। ফয়সাল ১৯৬৪ সালে সৌদকে বদলে দেন। ১৯৭৫ সালে এক ভ্রাতুষ্পুত্রের দ্বারা তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত, ফয়সাল তেল সম্পদ দ্বারা চালিত বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের সময়ে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৩-এর তেল সংকটে সৌদি আরবের ভূমিকা এবং পরবর্তীতে তেলের মূল্য বৃদ্ধি দেশটির রাজনৈতিক তাৎপর্য এবং সম্পদ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করে।

হেলথ টিপস পেতে সাবস্ক্রাইব করুন

খালিদ ফয়সালের উত্তরাধিকারী। বিরোধীতার প্রথম প্রধান লক্ষণের সময় তিনি রাজা হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক চরমপন্থীরা সাময়িকভাবে মক্কার মসজিদ আল-হারামের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ফাহাদ ১৯৮২ সালে রাজা হয়েছিলেন। তার শাসনামলে সৌদি আরব বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। যাইহোক, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্যদের সাথে দেশটি নিজেকে যুক্ত করার ফলে অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ২০০০ সালের শুরুতে, ইসলাম বিরোধীরা সন্ত্রাসী হামলার একটি সিরিজ পরিচালনা করে। আবদুল্লাহ ২০০৫ সালে ফাহাদকে অনুসরণ করে। তিনি দেশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে বেশ কয়েকটি হালকা সংস্কার শুরু করেন এবং কিছুটা হলেও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করেন।
সালমান ২০১৫ সালে রাজা হন।

ইসলাম পূর্ব আরব- প্রমাণ আছে যে প্রায় ৬৩,০০০ বছর পূর্ব থেকে আরব উপদ্বীপে মানুষের বাসস্থান আছে। প্রত্নতত্ত্ব কিছু প্রাথমিক বসতিপূর্ণ সভ্যতা উদ্ঘাটন করেছে: আরব উপদ্বীপের পূর্ব দিকে দিলমুন সভ্যতা, হেজাজের উত্তরে ঠামুড এবং আরব উপদ্বীপ কেন্দ্রীয় অঞ্চলের কিন্দাহ রাজ্য এবং আল-মগার সভ্যতা। আরবের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন পরিচিত প্রমান হচ্ছে উপদ্বীপ থেকে প্রতিবেশী অঞ্চলে স্থানান্তরিত হওয়া

তিমনা (ইসরায়েল) এবং টেল এল-খালেফিহ (জর্ডান) থেকেও স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়। উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের হেজাজ অঞ্চলে স্থানীয় কোরাইয়া/মিদিয়ানী মৃৎপাত্র উৎপন্ন হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায় যে বাইবেলের মিদিয়নীরা জর্ডান এবং দক্ষিণ ইস্রায়েলে বিস্তৃত হওয়ার পূর্বে প্রকৃত অর্থে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের হেজাজ অঞ্চল থেকে এসেছে । চলবে… বিডিটুডেস/আরএ/২২ মে, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

two × four =