English Version

সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি সম্পর্কে কিছু তথ্য

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

বিডিটুডেস ডেস্ক: বৃহস্পতি ইংরেজি: Jupiter সৌরজগতের– একটি গ্রহ। এটি সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ। হিন্দু পৌরাণিক ঋষি এবং দেবতাদের গুরু বৃহস্পতি’র নামানুসারে এই গ্রহের নামকরণ করেছিলেন ভারতীয় ঋষিরা। সূর্যের দিক থেকে এর অবস্থান পঞ্চম। এর পূর্ববর্তী চারটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী ও মঙ্গল। বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহের মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে গ্রহাণুপুঞ্জ। বৃহস্পতিতে কোনো জীবনের অস্তিত্ব নেই। তবে এর কোনো উপগ্রহে জীবন থাকতেও পারে বলে অনুমান করা হয়।

সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ৭৭,৮০,০০,০০০ কিলোমিটার। নিজ অক্ষের উপর এর আবর্তন সময় প্রায় ১০ ঘণ্টা। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে এর সময় লাগে পার্থিব ১২ বৎসর বা ৪,৩৩৩ পার্থিব দিবস। এর উপরিতল পুরু বরফে ঢাকা। মূলত গ্যাসীয় পদার্থ জমাট বেঁধে এই বৃহৎ গ্রহটি তৈরি হয়েছে। এই বরফের স্তরের নিচে রয়েছে প্রকৃত বৃহস্পতি। মূল বৃহস্পতির আকার প্রায় পৃথিবীর সমান। এর বায়ুমণ্ডলের বেশিরভাগ অংশ হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম।

এর ঘন মেঘ রয়েছে। এই মেঘ এ্যামোনিয়া বা এ্যামোনিয়া-ভিত্তিক গ্যাসীয় পদার্থ দ্বারা পূর্ণ। এছাড়া রয়েছে অজ্ঞাত নানা ধরনের যৌগিক পদার্থের মিশ্রণ। বৃহস্পতির নিকটবর্তী বায়ুমণ্ডল অংশে, প্রচণ্ড চাপে এর হাইড্রোজেন তরল দশায় পরিণত হয়েছে। এই তরল পদার্থ বৃহস্পতি গ্রহের উপর মহাসাগর সৃষ্টি করেছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই তরল হাইড্রোজেন সাগরের তলদেশ, কোথাও কোথাও বৃহস্পতির কেন্দ্রের প্রায় অর্ধেক দূরত্বের কাছে পৌঁছেছে। হাইড্রোজেন সমুদ্রে দ্রুত ঘূর্ণনের কারণে বিদ্যুতের সৃষ্টি হয়। এবং এর দ্বারা বৃহস্পতিতে চৌম্বকক্ষেত্রে তৈরি করেছে। অবশ্য বৃহস্পতির কেন্দ্রে লোহা এবং নিকেলের পিণ্ড রয়েছে কিনা তা জানা যায় নি। ফলে এর চৌম্বক ক্ষেত্রের জন্য এই পিণ্ডই দায়ী কিনা তা জানা যায় নাই। সূর্যাভিমুখে এই চৌম্বকক্ষেত্র ১ থেকে ৩০ লক্ষ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। পক্ষান্তরে সূর্যের বিপরীত দিকে চৌম্বকক্ষেত্র ১০০ কোটি কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। উল্লেখ্য, এই চৌম্বক ক্ষেত্রে শনির কক্ষপথ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

স্বাস্থ্যের খবর জানুন

ভয়েজার-১ থেকে জানা গেছে, এই গ্রহটিকে ঘিরে রয়েছে খুব হাল্কা বলয়। শনি গ্রহের মত গাঢ় বলয় না থাকায়, দূর থেকে এই বলয় দেখা যায় না। এই বলয়ে রয়েছে ক্ষুদ্র এবং কালচে ছোটো ছোটো বস্তু। এখন পর্যন্ত এর ৫০টি উপগ্রহের সন্ধান পাওয়া গেছে। সন্দেহের তালিকায় রয়েছে আরও ১৭টি। সব মিলিয়ে এর উপগ্রহ হতে পারে ৬৭টি। এদের ভিতর চারটি উপগ্রহ বেশ বড়। এই উপগ্রহগুলো হলো আইও (Io), ইউরোপা (Europa), গ্যানিমেডে (Ganymede) এবং ক্যালিস্টো (Callisto)। ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে এই চারটি উপগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন গ্যালিলিও গ্যালিলাই। তাই এদেরকে বলা হয় গ্যালিলিও উপগ্রহসমূহ (Galilean satellites)।

১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে নাসা’র গ্যালিলিও নামক নভোযান থেকে একটি পরীক্ষামূলক যান বৃহস্পতির শুষ্ক এবং উষ্ণস্থানে নামানো হয়। এই যান থেকে প্রথম বৃহস্পতির গাঠনিক উপাদান এবং বায়ুমণ্ডলের তথ্য সংগ্রহ করা হয় প্রত্যক্ষভাবে। ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই নভোযান বৃহস্পতি এবং এর বৃহৎ গ্রহগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে, পৃথিবীতে পাঠায়। জুনো নামক অপর একটি নাসা’র নভোযান ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে পাঠানো হয়েছে। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ এই নভোযান কার্যক্রম শুরু করবে।

বৃহস্পতির বৃহৎ লোহিত ক্ষত

বৃহস্পতির উপরিতলের উপর একটি বড় ধরনের লালচে ক্ষত দেখা যায়। একে সাধারণত লোহিত ক্ষত (Red Spot) বলা হয়। বৃহস্পতির বিষুবরেখার ২২ ডিগ্রির দক্ষিণে একটি ঘূর্ণিঝড়ের কারণে একটি বড় আবর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। পৃথিবীকে থেকে একটি লালচে ক্ষত মনে হয়। ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে এই ঘূর্ণিঝড়টি চলছে। এই ঘূর্ণিঝড়টির ব্যাস পৃথিবীর দুই গুণের সমান। এর ভিতরে বায়ু প্রবাহের গতি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৭০ মাইল। এই ঝড়ের সর্বশেষ ছবি পাওয়া গেছে নাসার জুনো প্রোব থেকে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১০ জুলাই যে ছবি পাওয়া গেছে, তাতে এই বৃহৎ লোহিত ক্ষতকে অনেকটা পরিষ্কারভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

thirteen − two =