English Version

স্কুল মাঠে মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় হত্যার হুমকিতে বাড়ী ছাড়া স্কুল শিক্ষক

পোস্ট টি ভালো লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

হরিদাস রায়, ডোমার (নীলফামারী): জেলার ডোমারে স্কুল মাঠে মাদক সেবনে বাঁধা দেয়ায় বখাটেদের অত্যাচারে ভাড়াবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলেন ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজিজুল ইসলাম।

শিক্ষক আজিজুল ইসলাম জানান, জামিরবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে জনৈক হক সাহেবের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকি।স্কুলের পাশে বাড়ি হওয়ায় দেখতে পাই স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের ছেলে হৃদয় ইসলাম নুর, রমনাথের ছেলে শয়নসহ স্থানীয় কিছু মাদক সেবীরা স্কুল মাঠে বসে সকাল বিকাল মাদক সেবন ও জুয়ার আসর বসাতো।

আমি স্কুলের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরে আনার স্বার্থে তাদের স্কুলের মাঠে আড্ডা না দেওয়ার অনুরোধ করলে বখাটেরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ভাড়া বাড়ি হতে চলে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। এই বিষয়গুলো আমি বিদ্যালয়ের কমিটি ও প্রধান শিক্ষককে অবহিত করি।

গত ১৪ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে যাওয়ার সময় উপজেলা চত্বরে বখাটে হৃদয় আমাকে দেখতে পেয়ে আমাকে হুমকি দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে উক্ত বাসা ছেড়ে না দিলে খারাপ মেয়ে ও বাসায় গাঁজা রেখে গাঁজা সেবনকারী হিসেবে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেয়। তাদের হুমকির ফলে আমি ভীত হয়ে ভাড়া বাসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হই।

বাসা ছেড়ে দেওয়ার পরেও তারা আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। তারেই প্রেক্ষিতে ০৮ই সেপ্টেম্বর সকাল ১০ ঘটিকায় আমি বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মুল্যায়ন পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অফিসিয়াল কাজ করার সময় বখাটে হৃদয়সহ স্থানীয় কিছু বখাটে অনুমতি না নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অফিসের সামনে এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং সুযোগ পেলে আমাকে হত্যা করার হুমকিসহ আমার মানসম্মানের ক্ষতি করারও হুমকি প্রদান করেন।

স্থানীয় কিছু মানুষ এ সময় স্কুলের দিকে এগিয়ে আসলে তারা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে স্কুল থেকে চলে যায়। এ ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর সকালে ডোমার থানায় অভিযোগ দায়ের করি। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা হৃদয়ের সাথে কথা বললে তিনি জানান, শিক্ষক আজিজুল আমার বন্ধু হওয়ায় ভালো পরামর্শের জন্য তাকে বললে সে উল্টো আমাকে ভুল বুঝে।

প্রধান শিক্ষক প্রতাপ রায় বলেন, স্কুল মাঠে মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় স্থানীয় কিছু বখাটে আমার স্কুলের সহকারী শিক্ষক আজিজুলকে নানাভাবে হয়রানী করেন। ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোস্তাফিজার রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিডিটুডেস/এএনবি/ ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

3 + 5 =